চেন্নাই : চেন্নাই থেকে বেঙ্গালুরুর দূরত্ব রেলপথে ৩৪১ কিলোমিটার, সড়ক পথে ৩৪৫ কিলোমিটার এবং আকাশ পথে ২৮৪ কিলোমিটার। খুব তাড়াতাড়ি হলেও বাসে এই দূরত্ব অতিক্রম করতে সময় লাগে কমপক্ষে সাড়ে ছ’ ঘণ্টা থেকে সাত ঘণ্টা। রেল পথে যেতে সময় লাগে কমবেশি প্রায় সাড়ে ছ’ ঘণ্টা থেকে পৌনে সাত ঘণ্টা। বিমান পথে এই দূরত্ব যেতে সময় লাগে ৫০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা মতো।

কিন্তু এসব হিসেবই হয়ে যেতে পারে অতীত। এমনদিন আসতে পারে, যখন ট্রেনে চড়ে চেন্নাই থেকে বেঙ্গালুরু যেতে সময় লাগবে মাত্র ৩০ মিনিট। 

সূত্রের খবর, কানাডার একটি সংস্থা এমন একটি প্রকল্পের প্রস্তাব পাঠিয়েছে সংস্থাটি কেন্দ্রীয় সড়ক ও পরিবহনমন্ত্রকের কাছে। এই প্রকল্পটি এলন মস্ক নামে এক প্রযুক্তিবিদের মস্তিষ্ক প্রসূত।  

পদ্ধতিটির নাম ‘হাইপারলুপ ওয়ান’। একটি টিউবের মতো সুড়ঙ্গ পথের মধ্যে দিয়ে বারোশো কিলোমিটার বেগে ট্রেন ছুটবে। এই সুড়ঙ্গ পথটি কতগুলো স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে থাকবে। সুড়ঙ্গের ভেতর দিয়ে ট্রেন এত জোরে যাওয়া সম্ভব, কারণ এর ভেতরটা সম্পূর্ণ ফাঁকা থাকবে। যদি এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়, তা হলে বেঙ্গালুরু থেকে মুম্বই পৌঁছনো যাবে এক ঘণ্টার থেকে সামান্য বেশি সময়ে। চেন্নাই-বেঙ্গালুরু ছাড়াও চেন্নাই-মুম্বই, মুম্বই-পুনে, মুম্বই-দিল্লি, বেঙ্গালুরু-তিরুঅনন্তপুরমেও এই রেলপথ তৈরি করার কথা চিন্তা করছে ওই সংস্থা।

মন্ত্রক সূত্রের খবর, ওই একই পথে ইতিমধ্যেই জাপানি আর চিনা সংস্থা বুলেট ট্রেন চালানোর জন্য রাস্তা তৈরির জন্য পরীক্ষা নিরীক্ষা শুরু করেছে।

সংস্থার ওয়েবসাইট বথেকে জানা যাচ্ছে, এতে যাতায়াতের ভাড়া হবে বাস ভাড়ার সমান। পথ তৈরি করতে যাতে বেশি সময় নষ্ট না হয় তার জন্য আগে থেকেই সমস্ত কিছু তৈরি করে রাখা হবে। মোট ২০০ মাইলের সুড়ঙ্গ তৈরি করা হবে।

রেলের এক ইঞ্জিনিয়ারের কথায়, প্রকল্পটি দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার জন্য খুবই ভালো। কিন্তু নানা কারণে এটি শুরু হতেই প্রায় এক দশক লেগে যাবে। সবার আগে সময় লাগবে সরকারি ভাবে পাশ হয়ে আসতেই। তবে মূল সমস্যা হবে এটি তৈরির খরচ। দ্রুতগতির রেলপথ তৈরি করতে ১কিলোমিটারে খরচ পড়বে ৩০০ কোটি টাকা। যদিও সংস্থার দাবি অন্যরকম।

দেখা যাক, বুলেটের পর আবার এই প্রকল্প সরকারি স্বীকৃতি লাভ করতে পারে কিনা।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here