বস্তার : নাম সোমেশ পানিগ্রাহী। বয়স ২৫। বাড়ি ছত্তিশগড়ের বস্তার জেলার জগদলপুর টাউন। পেশায় মুদির দোকানদার। কিন্তু ইতিমধ্যেই সে ২৫০ থেকে ৩০০ মামলার সাক্ষী হয়েছে । জুয়াড়ি থেকে মাওবাদী — কে নেই সেই তালিকায়।

কোনো মামলার সাক্ষী না মিললেই পুলিশের বড়বাবুর কাছ থেকে ডাক পড়ে সোমেশের। সেও যথা সময় হাজির হয়ে যায় কোর্টে।

দ্বাদশ শ্রেণিতে পাশ করার পর সোমেশ একটি স্থানীয় টিভি চ্যানেলের হয়ে ক্যামেরাম্যানের কাজ শুরু করে। ২০১৩ সালে একবার কাজের প্রয়োজনে কোতয়ালি থানায় যায়। সোমেশের কথায়,‘‘ স্থানীয় এক জুয়াড়িকে গ্রেফতারের ঘটনায় আমাকে আমার সিনিয়র বলে পুলিশের বক্তব্য রেকর্ড করতে। সেই সময় থানার ইনস্পেকটর আমাকে বলেন ওই মামলায় সাক্ষী দিতে। সেই সময় আমি রাজি হয়ে যাই।’’ তারপর একটার পর একটা মামলায় সাক্ষী দেওয়ার জন্য পুলিশের কাছ থেকে ডাক আসে। এখন পরিস্থিত এমন হয়ে গিয়েছে সোমেশকে ম্যাজিস্ট্রেট থেকে আইনজীবী, পুলিশ সবাই চেনে।

এর জন্য কানাকড়িও মেলে না পুলিশের কাছ থেকে। তবে কেন সে এ কাজ করে? সোমেশের বাবা সুশীল পানিগ্রাহী জানিয়েছেন, পুলিশ ইনস্পেকটরের ডাকে এই কাজ সে করছে কারণ, সোমেশের আশা একদিন সরকারি চাকরি পেতে তিনি সাহায্য করবেন।

মুদির দোকান চালালেও স্নাতক হওয়ার পর থেকে সোমেশ স্বপ্ন দেখে একটা সরকারি চাকরির। সেই চাকরি পেয়ে পরিবারের দুঃখ-দূর্দশা দূর করবে। পরিবারের মুখে হাসি ফোটাবে।

সে নিজেও মনে করতে পারে না কটি মামলার সাক্ষী হয়েছে। কোর্টের নোটিশ দেখে সে মোটামুটি একটা হিসাব করে দেখেছে, ২৫০ থেকে ৩০০ মামলার সাক্ষী দিয়েছে।

২০১৫ সালে একটি মামলায় সে পুলিশকে জানায় আর সাক্ষী দেবে না। কারণ হিসাবে সে বলে, একটি মাওবাদী মামলায়  মিথ্যা সাক্ষী দেওয়ার জন্য সংগঠনের পক্ষ থেকে তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পুলিশ বলে কোনো ভয় নেই, তারা যাবতীয় নিরাপত্তা দেবে। বিপদ বুঝলেই সোমেশ যেন দ্রুত পুলিশকে জানায়।

তবে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর রীতিমতো নড়াচড়া পড়ে গিয়েছে পুলিশ মহলে। বস্তারের এক প্রবীণ পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, যদি প্রয়োজন হয় তবে ছেলেটিকে সব রকম নিরাপত্তা দিতে প্রস্তুত তাঁরা। তিনি তদন্ত করে দেখছেন এই জোর করে তাকে সাক্ষী দেওয়ানো হয়েছে কিনা। যদি হয় তবে সংশ্লিষ্ট পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ওই আধিকারিক জানিয়েছেন।

ছবি ও তথ্য হিন্দুস্তান টাইমস

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন