acute lymphoblastic leukomia
প্রতীকী ছবি।

ওয়েবডেস্ক: ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলির সঙ্গে একটি ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় ভারতে শৈশব ক্যানসারে আক্রান্তদের সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে গিয়েছে।

ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় ও কলকাতার টাটা মেডিক্যাল সেন্টারের মেলবন্ধন দেশে অ্যাকিউট লিম্ফোব্লাস্টিক লিউকোমিয়ায় (অল) আক্রান্ত শিশুদের সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বাড়িয়ে দিয়েছে। ম্যানচেস্টার থেকে বিশেষ জ্ঞান আহরণ করে দিল্লি, মুম্বই, চেন্নাই ও চণ্ডীগড়ের শিশু ক্যানসার কেন্দ্রগুলি ক্যানসার চিকিৎসার মান অনেকটাই বাড়াতে পেরেছে। এই তথ্য জানা গিয়েছে ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফ থেকে।

ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ভাস্কর সাহা গত পাঁচ বছরে ‘অল’-এ আক্রান্ত শিশুদের সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা আরও ১৫ শতাংশ বাড়িয়েছেন। কলকাতার টাটা মেডিক্যাল সেন্টারের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ইন্ডিয়ান চাইল্ডহুড কোলাবোরেটিভ লিউকোমিয়া (আইসিআইসিএলই) নামে একটি ক্লিনিক্যাল প্রজেক্টের নেতৃত্ব দিচ্ছেন অধ্যাপক সাহা।

অধ্যাপক সাহা বলেন, “ব্রিটেনে বছরে ৪৫০ জন শিশু ‘অল’-এ আক্রান্ত হয়। এদের মধ্যে ৪০০ শিশু বেঁচে যায়। ভারতে বছরে ১৫ হাজার শিশু ‘অল’-এ আক্রান্ত হলে ৯০০০ শিশু বাঁচে। চিকিৎসায় খামতি থাকার জন্য এবং রোগ আবার ফিরে আসার কারণে কিছু দিন আগেও ভারতে প্রতি ১০ জন শিশুর চার জন শিশু মারা যেত। পরীক্ষানিরীক্ষা এবং চিকিৎসায় যথাযথ মান না থাকা্র কারণে এটা ঘটে। আমরা যদি ভারতে এই সব কাজের মান অন্তত ১০ শতাংশ বাড়াতে পারি, তা হলে আরও অন্তত ১৫০০ শিশুকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারে।”

ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কলকাতায় ২০১৪ সালে ‘অল’-এ আক্রান্ত শিশুদের বাঁচার হার ছিল ৬৫ শতাংশ। অধ্যাপক সাহার গবেষণার ফলে ২০১৯-এ সেই হার বেড়ে হয়েছে ৮০ শতাংশ। “এর অর্থ হল ভারতের প্রধান প্রধান কেন্দ্রগুলিতে চিকিৎসা হলে সব চেয়ে সাধারণ শৈশব ক্যানসারে আক্রান্ত শিশুদের বাঁচার সম্ভাবনা এখন ৮০ শতাংশ। এই সাফল্যের পিছনে রয়েছে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি” – বলা হয়েছে ওই বিবৃতিতে।

আরও পড়ুন বিশ্ব তামাক বিরোধী দিবসে আর্জি, ধূমপানমুক্ত সুস্থ বিশ্ব গড়ে তুলুন!

পশ্চিমবঙ্গের মানুষ অধ্যাপক সাহা ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু ক্যানসার বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। তিনি কলকাতার টাটা মেডিক্যাল সেন্টারে ট্রানস্লেশনাল ক্যানসার রিসার্চ-এর ডিরেক্টর এবং সিনিয়র পেডিয়াট্রিক কনসাল্ট্যান্ট। অধ্যাপক সাহার গবেষণার ফলে ব্রিটেনেও ক্যানসার-আক্রান্ত শিশুদের বাঁচার হার ১০ শতাংশ বেড়েছে।

কলকাতার টাটা মেডিক্যাল সেন্টারের ডিরেক্টর মামেন চণ্ডী বলেন, আইসিআইসিএলই প্রজেক্টের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতায় তাঁদের প্রতিষ্ঠান যথাযথ চিকিৎসা নিয়ে গবেষণা করছে।

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন