ওয়েবডেস্ক: পাকিস্তানে ঘাঁটি গেড়ে থাকা জইশ-ই-মহম্মদের প্রধান মাসুদ আজহারকে ‘আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী’ ঘোষণা করার বিষয়টি আরেক বার আটকে দিল চিন।  এই নিয়ে ২০০৯ সাল থেকে বার বার চার বার ভারতের প্রচেষ্টাকে বানচাল করে দিল চিন। ‘টেকনিক্যাল’ কারণ দেখিয়ে এই মর্মে আনা একটি প্রস্তাব ঝুলিয়ে রাখল চিন। চিনের আচরণে হতাশা প্রকাশ করেছে ভারত।

রাষ্ট্রপুঞ্জ নিরাপত্তা পরিষদের ১২৬৭ আল কায়দা নিষেধাজ্ঞা কমিটির অধীনে মাসুদ আজহারকে নিয়ে আসার জন্য পুলওয়ামা হামলার কিছু দিন পরে ২৭ ফেব্রুয়ারি প্রস্তাব আনে ফ্রান্স, ব্রিটেন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার নিরাপত্তা পরিষদে সেই প্রস্তাবই আটকে দিল চিন।

ভারতের বিদেশ দফতর এক বিবৃতিতে এ ব্যাপারে হতাশা প্রকাশ করেছে।

আরও পড়ুন কংগ্রেস জমানায় ১৫টি সার্জিক্যাল স্ট্রাইক হয়েছে, কিন্তু এত হইচই হয়নি: রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী

পুলওয়ামা হামলা ও তার পরে বালাকোটে ভারতের বিমান হানার পর চিন যে আচরণ করছে তাতে ভারত মাসুদ আজহারের বিষয়টি নিয়ে কিছুটা আশান্বিত ছিল। উল্লেখ্য, বালাকোটে বিমান হানার তেমন ভাবে নিন্দা করেনি চিন। উপরন্তু সেই সময় বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের চিন সফরে চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র যে মন্তব্য করেছিলেন তাতে ভারতের মনে আশা জাগে।বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র বলেছিলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করাটা গোটা বিশ্বের দায় এবং সেই লড়াইয়ে একে অপরকে সহযোগিতা করা উচিত।

তার পর নিউক্লিয়ার সাপ্লায়ার্স গ্রুপে ভারত ও পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্তির প্রসঙ্গ যখন ওঠে, চিন তখন জানিয়ে দেয় ওই দুই দেশকে তারা পরমাণু শক্তিধর বলে মনে করে না। ভারতের ব্যাপারে চিন বরাবরই এই মনোভাব নিয়ে চলেছে। সুতরাং ভারতকে নিয়ে এই মন্তব্যে নতুনত্ব কিছু ছিল না। নতুনত্ব ছিল পাকিস্তান সম্পর্কে মন্তব্যে। পাকিস্তানের প্রতি এই মনোভাব ভারতের মনে আশা জুগিয়েছিল। কিন্তু মাসুদ আজহারের ব্যাপারে চিনের অনড় মনোভাব ভারতের সেই আশায় জল ঢেলে দিল।

ভারতের বিদেশ দফতরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “নিষিদ্ধ ঘোষিত সক্রিয় সন্ত্রাসবাদী সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ ১৪ ফেব্রুয়ারি জম্মু-কাশ্মীরে জঙ্গি হামলা চালানোর দায় স্বীকার করেছে। প্রস্তাবটি ‘টেকনিক্যাল’ কারণে ঝুলিয়ে রাখার ফলে সেই সংগঠনের নেতার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ভাবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না।”

নিরাপত্তা পরিষদে যারা এই প্রস্তাব এনেছিল এবং যে সব সদস্য-দেশ এই প্রস্তাবে সায় দিয়েছিল, তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে জঙ্গিদের নেতাদের যাতে আন্তর্জাতিক বিচার প্রক্রিয়ায় আনা যায় তার জন্য সব রকমের চেষ্টা চালানো হবে বলে ভারতের বিদেশ দফতরের তরফে জানানো হয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here