wang yi

ওয়েবডেস্ক: ভারতের সঙ্গে চিনের মাঝেমধ্যের ঠোকাঠুকি নেহাতই সাময়িক। ভৌগলিক অবস্থানের দিক থেকে এই দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ককেও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। নয়াদিল্লি ছেড়ে বেজিং উড়ে যাওয়ার আগের মুহূর্তে এমনটাই মন্তব্য করলেন চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই।

নয়াদিল্লিতে আয়োজিত রাশিয়া-ভারত-চিনের বিদেশমন্ত্রীদের বিশেষ বৈঠকে যোগ দিতে এ দেশে এসেছিলেন ওয়াং। তিনি বলেছেন, ভারত এবং দু’জনেই এশিয়ার উল্লেখযোগ্য উন্নয়নশীল দেশ। ফলে বৈরিতা সরিয়ে রেখে সহযোগী হিসাবে এগিয়ে যাওয়াটা দুই দেশের কাছে মঙ্গল। এর জন্য সাময়িক কালের ঠোকাঠুকির বিষয় নিয়ে মাথা না ঘামানোই ভালো।

অভিজ্ঞমহলের কথায়, ওয়াং আদতে ডোকলাম বিরোধের প্রসঙ্গটিকে ইঙ্গিত করেছেন। টানা ৭৩ দিন ধরে সিকিম সীমান্তে দু’দেশের সেনা যে ভাবে নরম-গরম আচার-ব্যবহার করেছে, তা মোটেই ভুলতে পারছে না চিন। গত আগস্টে দুই দেশের উদ্যোগে সেই বিরোধের সাময়িক নিষ্পত্তি হলেও, ভবিষ্যৎ নিয়ে কেউ নিশ্চয়তা দিতে পারে না।

আরও পড়ুন:‘ডোকলামে ভারতীয় সেনার সীমালঙ্ঘনের ফলে দু’দেশের সম্পর্ক তলানিতে এসেছিল’: চিনের বিদেশমন্ত্রক

যদিও বেশ কিছু আশার বাণী শুনিয়েছেন ওয়াং। তিনি বলেন, চিনও সার্বভৌমত্বের অধিকারকে অগ্রাধিকার দেয়। সে দেশের ডং লাং এলাকায় যাতে অনুপ্রবেশ বা অন্যান্য অপরাধ মূলক কাজ সংঘটিত না হয় সে দিকে চিনা সেনারা নজর রাখছেন। এমনকী ভারত-চিনের সীমান্ত সমস্যা নিয়ে রাশিয়াকে নিবৃত্ত করতেও তিনি বিশেষ আবেদন রেখেছেন। তাঁর মতে, এই সমস্যা ভারত-চিন নিজেরাই আলোচনার মাধ্যমে মিটিয়ে নিতে সক্ষম। বিষয়টিকে আরও খোলসা করতে গিয়ে ওয়াং বলেন, ‘সদিচ্ছা থাকলেই হাতি এবং ড্রাগন এক সাথে নাচতে পারে।’

এ দেশের বিদেশমন্ত্রকের কর্তাদের কথায়, চিনকে ড্রাগন হিসাবে চিহ্নিত করে হাতি ইঙ্গিতে যে তিনি ভারতকে বোঝাতে চাইলেন, তা বুঝতে বাকি নেই কারোর। কিন্তু কথা হল-ভারতে এত ধরনের নৃত্যকলার সমাহার, তাতে চিন পা মেলাতে পারবে তো? না কি নাচতে না পেরে উঠোনের উপর দোষারোপ চলতেই থাকবে!

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here