chinese-solder

ওয়েবডেস্ক: ডোকলাম নিয়ে টানা ৭৩ দিনের বিরোধ নিষ্পত্তির পরেও ফের সন্দেহজনক আচরণ করছে চিন। ভারত সীমান্তে ঠিক ওই একই স্থানে বেশ কয়েক দিন ধরেই প্রচুর পরিমাণে সেনা, আগ্নেয়াস্ত্র, সাঁজোয়া গাড়ি ও নির্মাণসামগ্রী মজুত করেছে জিনপিংয়ের সেনা বাহিনী। এ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। প্রশ্ন উঠছে, তা হলে কি চিন অচিরেই ভারতের উপর আঘাত হানার চেষ্টা করবে?

গতকালই বিষয়টি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ আলোকপাত করে ব্রিটেনের একটি সংবাদ মাধ্যম। তারা চিনের যাবতীয় কার্যকলাপের সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তারা জানিয়েছে, বন্দুক তো আছেই তার সঙ্গে মর্টারের মতো আনুষঙ্গিক সমস্ত অস্ত্রই মজুত করা হয়েছে সেখানে। গড়ে তোলা হচ্ছে ন’টি তিনতলা বাড়ি। যা পরবর্তী কালে ব্যারাক হিসাবে ব্যবহৃত হতে পারে। থাকছে তিনশো সামরিক গাড়িও।

যদিও চিনা বিদেশমন্ত্রী দিল্লিতে এসে এ বিষয়ে ভারতকে বলেছিলেন, তাঁরা ওই এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা সঠিক ভাবে দেখভালের জন্যই এ ধরনের কিছু একটা করতে চলেছেন। দিল্লির সঙ্গে সহমত হয়ে তিনি দু’দেশের সুসম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথাও বলে গিয়েছেন। কিন্তু স্যাটেলাইট চিত্র মারফত ধরা পড়েছে, ওই স্থানে এ ধরনের কার্যকলাপ গত মাসের শেষ দিক থেকে পুরো উদ্যোমে শুরু করেছে চিন। তাদের আরও দাবি, ওই সমস্ত যুদ্ধাস্ত্র এবং সামরিক গাড়িগুলি আড়াল করার জন্য সেগুলিকে বিশেষ ভাবে ঢেকে রাখারও বন্দোবস্থ করা হয়েছে।

চিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিরোধ নিষ্পত্তি হয়ে যাওয়ার পরও ওই স্থানে তারা নিরাপত্তার স্বার্থে এই আয়োজন করছে। ভারতকে ঐতিহাসিক সীমারেখা সম্বন্ধে সতর্ক করা এবং সজাগ রাখার জন্যই তাদের এই আয়োজন। এই পৃথিবী মোটেই শান্তিপূর্ণ নয়। আর শান্তির জন্য নিরাপদ থাকার কৌশল অবলম্বন করতে জানে চিন। দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা এবং উন্নয়নকে সমান ভাবে বজায় রাখতে চিন এ ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন সে দেশের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র হুয়া চুনিইং।

তবে ভারত সীমান্তে চিনের ওই যুদ্ধকালীন তৎপরতা দেখে ব্রিটেনের সংবাদ মাধ্যমটির মনে হয়েছে, চিন সম্ভবত তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের কথা আগাম ভেবে নিয়েই এই প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে।

সত্যিই কি তাই?

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here