শীতকালীন অধিবেশনে প্রস্তাবিত যে বিল পাশ হলে অগ্নিগর্ভ হতে পারে ভারতের একটা বড়ো অংশ

0

নয়াদিল্লি: গত অধিবেশনে কাশ্মীর নিয়ে ঐতিহাসিক বিল নিয়ে আসে কেন্দ্র। সেই বিলটি পাশ হয়ে যাওয়ার পর বিরোধীরা হইচই করলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে তার বিশেষ প্রভাব পড়েনি।

কিন্তু আসন্ন শীতকালীন অধিবেশনে কেন্দ্রের এমন একটি বিল পাশ করানোর লক্ষ্য রয়েছে, যেটা করাতে পারলে বিরোধীদের হইচই তো হবেই, ভারতের এক বড়ো অংশ অগ্নিগর্ভ হয়ে উথতে পারে।

সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে শীতকালীন অধিবেশন। এ বার সংসদে উঠতে পারে সিটিজেন্সশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট বিল বা নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল।

সংবাদ সংস্থার খবর অনুযায়ী এ বার শীত অধিবেশনে সরকারের আলোচনার তালিকায় রয়েছে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল। এ বছর জানুয়ারিতে, গত মোদী সরকারের শেষ অধিবেশনেও বিলটি সংসদে তুলেছিল এনডিএ।

আরও পড়ুন দেড় দিনেও সমুদ্রে ফিরতে না পারায় বেঘোরে মৃত্যু ডলফিনের, প্রশ্নে বন দফতরের ভূমিকা

কিন্তু বিরোধীদের প্রবল প্রতিবাদে তা পাশ হতে পারেনি। বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, ধর্মীয় পরিচয়কে হাতিয়ার করে বিদেশি নাগরিকদের নাগরিকত্ব দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। প্রস্তাবিত এই বিলের মাধ্যমে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্থানের হিন্দু, জৈন, খ্রিস্টান, শিখ, বৌদ্ধ ও পার্সিরা ভারতে চলে এলে ছ’ বছর থাকলেই তাদের নাগরিকত্ব দেবে কেন্দ্র।

কিন্তু বিরোধীদের থেকেও বেশি কেন্দ্রকে চিন্তায় রাখবে সাধারণ মানুষের প্রতিবাদ। এই বিল নিয়ে সব থেকে বেশি সরব হতে পারে উত্তরপূর্বের প্রায় সব ক’টি রাজ্য। জানুয়ারির অধিবেশনে যখন কেন্দ্র বিলটি পাশ করাতে চেয়েছিল, তখন অসম, মেঘালয়, মণিপুর, নাগাল্যান্ড আর মিজোরামে ব্যাপক প্রতিবাদ হয়।

মিজোরামে তো ভারত থেকে বেরিয়ে যাওয়ারও আন্দোলন শুরু হয়। ওখানকার বিক্ষোভকারীদের সাফ কথা, এই বিল কোনো ভাবেই তারা মেনে নেবে না।

এ দিকে পুরো উত্তরপূর্বের বিজেপি বা তাদের জোটসঙ্গীরা সরকারে রয়েছে। জোটসঙ্গী দলগুলিও ঘরোয়া ভাবে এই বিলের প্রতিবাদ করছে। ফলে বিলটি পাস হয়ে গেলে উত্তরপূর্বের পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, সেটা এখনই অনুমান করা যাচ্ছে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.