প্রতিবাদ, হট্টগোলের মাঝেই ১০ ঘণ্টা বিতর্কের পর নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাশ লোকসভায়

0

নয়াদিল্লি: টানা দশ ঘণ্টা ধরে বিতর্কের পর সোমবার লোকসভায় বিতর্কিত ‘নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল ২০১৯’ পাশ হল। প্রস্তাবের পক্ষে পড়ে ৩১১টি ভোট, বিপক্ষে ৮০টি ভোট>

বিল নিয়ে বিতর্ক চলার সময় সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে বিরোধী নেতারা বলেন, প্রস্তাবিত আইন দেশের সংবিধানের মৌলিক নীতির পরিপন্থী কারণ এই বিলে ধর্মের ভিত্তিতে বৈষম্য তৈরি করা হয়েছে এবং দেশের সর্ববৃহৎ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষকে অর্থাৎ মুসলিমদের বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়েছে।

ও দিকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জোর দিয়ে বলেন, “১৩০ কোটি ভারতীয় নাগরিকের সমর্থন” রয়েছে এই বিলে এবং এতে পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং আফগানিস্তানের নির্যাতিত সংখ্যালঘুদের অধিকার দেওয়া হবে।

উত্তরপূর্ব ভারতের জনগণের আশঙ্কা দূর করার যতই চেষ্টা করুন অমিত শাহ, অসম ও ত্রিপুরা-সহ ওই অঞ্চলের বিভিন্ন জায়গায় নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের বিরুদ্ধে সোমবার প্রতিবাদ-বিক্ষোভ সংঘটিত হয়েছে। উত্তরপূর্ব ভারতের আদিবাসী-জনজাতিরা মনে করেন, এ ভাবে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ঢালাও নাগরিকত্ব দিলে তাঁদের জীবন-জীবিকা এবং অস্তিত্ব বিপন্ন হবে।  

প্রস্তাবিত বিল অনুযায়ী ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং আফগানিস্তান থেকে হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পারসি এবং খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী যে সব মানুষ সে সব দেশে নির্যাতনের শিকার হয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন, তাঁদের অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসাবে দেখা হবে না এবং তাঁদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: তুমুল হট্টগোলের মধ্যে বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পেশ লোকসভায়

অর্থাৎ ওই তিন দেশ থেকে আসা অ-মুসলিম শরণার্থীরা ভারতে পাঁচ বছর থাকলেই নাগরিকত্ব পেয়ে যাবেন। চলতি বিধান অনুযায়ী এ দেশে ১১ বছর থাকার পর নাগরিকত্ব পাওয়া যায়। 

বিল নিয়ে বিতর্ক চলার সময় এআইএমআইএম-এর আসাদুদ্দীন ওয়াইসি বিলের কপি ছিঁড়ে দেন। তিনি বলেন, এই বিল দেশকে দু’ ভাগ করতে চাইছে। এই বিল শুধুমাত্র দেশের মুসলিম জনগণকে রাষ্ট্রহীন করার চক্রান্তই নয়, দেশের নিরাপত্তার পক্ষেও বিপজ্জনক।

বিলের কপি ছিঁড়ে দেওয়াকে সমর্থন করে ওয়াইসি বলেন, তিনি মহাত্মা গান্ধীর পথ অনুসরণ করেছেন। স্পিকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “ম্যাডাম, আপনি কি জানেন মহাত্মা কী ভাবে মহাত্মা হয়েছিলেন? মহাত্মা দক্ষিণ আফ্রিকায় ন্যাশনাল রেজিস্টার কার্ড ছিঁড়ে দিয়েছিলেন। মহাত্মার মতো আমিই এই বিল ছিঁড়ে দিলাম, কারণ এই বিলে দেশকে দু’ ভাগ করার চেষ্টা করছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, অনেকেই জানতে চাইছেন এই বিলে কেন মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি? আসলে যে সব সংখ্যালঘুদের এই বিলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, তারা সেই সব দেশের যেখানে মুসলিমরা সংখ্যালঘু নয়। তাই এই বিলকে মুসলিম-বিরোধী আখ্যা দেওয়া যাবে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.