নয়াদিল্লি: মাস দুয়েক আগে এক বিমানকর্মীকে চটি পিটিয়ে সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছিলেন শিবসেনা সাংসদ রবীন্দ্র গায়কোয়াড়। বিমানে অভদ্র আচরণকারী যাত্রীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিটা তখন থেকেই উঠছিল। অবশেষে এই ব্যাপারে পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক। অভদ্র আচরণকারীদের বিরুদ্ধে কী রকম ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে, সে ব্যাপারে একটি খসড়া প্রস্তাব পেশ করল তারা।

যাত্রীদের অভদ্র আচরণকে তিনটে শ্রেণিতে ভাগ করছে বিমান মন্ত্রক। প্রথম শ্রেণি — বিমানকর্মী বা অন্য বিমানযাত্রীদের উদ্দেশে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি, দ্বিতীয় শ্রেণি — শারীরিক ভাবে অপমানজনক ব্যবহার, অর্থাৎ ধাক্কা দেওয়া, যৌন হয়রানি ইত্যাদি এবং তৃতীয় শ্রেণি — কাউকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া এবং বিমানের যন্ত্রাংশের ক্ষতি করা। কেউ প্রথম শ্রেণির অপরাধে অভিযুক্ত হলে তাকে সর্বোচ্চ তিন মাস নিষিদ্ধ করা, দ্বিতীয় শ্রেণির অপরাধে অভিযুক্ত হলে তাকে ছ’মাস এবং তৃতীয় শ্রেণির অপরাধে অভিযুক্ত হলে তাকে সর্বোচ্চ দু’বছরের জন্য নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব দিয়েছে মন্ত্রক।

আগামী এক মাস এই প্রস্তাবের ব্যাপারে সাধারণ মানুষের মতামত নেওয়া হবে। সেই জন্য আগামী এক মাস মন্ত্রকের ওয়েবসাইটে এই প্রস্তাবগুলি দেওয়া হবে। সেখানে ‘কমেন্ট’-এর মাধ্যমে নিজেদের মতামত জানাতে পারবেন সাধারণ মানুষ। মন্ত্রকের সচিব রাজীব চৌবে বলেন, “এই প্রস্তাবগুলির ব্যাপারে সাধারণ মানুষের কী মত তা তাঁরা বিনা দ্বিধায় জানাতে পারবেন।” তবে এই শাস্তি শুধুমাত্র অন্তর্দেশীয় যাত্রীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। পাশাপাশি অভদ্র আচরণকারী যাত্রীদের জন্য একটি জাতীয় ‘নো-ফ্লাই’ তালিকাও তৈরি করতে চলেছে কেন্দ্র, জানান চৌবে।

উল্লেখ্য, গত মার্চে বিমানে নিজের পচ্ছন্দমতো জায়গা না পাওয়ার ফলে এক বিমানকর্মীকে চটি দিয়ে পিটিয়েছিলেন শিব সেনার সাংসদ। তারপর তাঁর বিমানে ওড়ার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারি করে দেশের সব বিমান পরিষেবা সংস্থা। অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে সেই নিষেধাজ্ঞা তুলতে হয় ওই সাংসদকে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here