‘আমার জানার অধিকার আছে’, বললেন সেই মহিলা

0
cji ranjan gogoi
প্রধান বিচারপতি। ছবি সৌজন্যে দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া।

ওয়েবডেস্ক: সুপ্রিম কোর্টের তদন্তকারী প্যানেল যৌন হেনস্থার অভিযোগ থেকে প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈকে ক্লিন চিট দেওয়ার এক দিন পর অভিযোগকারী মহিলা প্যানেলের রিপোর্ট দাবি করলেন। তিনি বলেছেন, তাঁর অভিযোগে ‘কোনো সারবত্তা নেই’, এ কথা প্যানেল কীসের ভিত্তিতে বলেছে, সেটাই তিনি জানতে চান।

উল্লেখ্য, বিচারপতি এসএ বোবদে, বিচারপতি ইন্দিরা ব্যানার্জি এবং বিচারপতি ইন্দু মলহোত্রাকে নিয়ে গঠিত তিন সদস্যের প্যানেল প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের বিরুদ্ধে সমস্ত অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে। এক বিবৃতিতে সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, প্যানেলের রিপোর্ট প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ এবং তাঁর পরের সিনিয়র বিচারপতিকে দেওয়া হয়েছে। এটা একটা ‘ঘরোয়া তদন্ত’, তাই এর রিপোর্ট প্রকাশ্যে আনা যাবে না বলে ওই বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

এমনকি অভিযোগকারিণীকে কেন ওই রিপোর্ট দেখানো হবে না, জানতে চাওয়া হলে এক জন প্রাক্তন জুনিয়র কোর্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট বলেন, ওই রিপোর্ট দেখা, সাক্ষীরা যে সাক্ষ্য দিয়েছেন সে সব দেখা এবং যে সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে কমিটি তাঁর অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে তা দেখার অধিকার ওই মহিলার আছে।

আরও পড়ুন রঞ্জন গগৈকে ক্লিনচিটে জের, বিক্ষোভে উত্তপ্ত সুপ্রিম কোর্ট চত্বর, জারি ১৪৪ ধারা

প্যানেলের কাছে লেখা এক চিঠিতে ওই মহিলা বলেছেন, “মহামান্য বিচারকগণ কী ভাবে, কেন এবং কীসের ভিত্তিতে আমার অভিযোগে কোনো সারবত্তা খুঁজে পেলেন না, তা জানার অধিকার আমার আছে।”

প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে অভিযোগটির যে ভাবে মোকাবিলা করেছে শীর্ষ আদালত, তাতে রীতিমতো ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। প্রধান বিচারপতিকে ক্লিন চিট দেওয়ার প্রতিবাদে মঙ্গলবার সুপ্রিম  কোর্টের বাইরে বিক্ষোভ দেখানোয় ৫৫ জন আইনজীবী ও সমাজকর্মীকে আটক করে পুলিশ। এরই মধ্যে অভিযোগকারী মহিলা তাঁকে রিপোর্ট দেখানোর দাবি করে বসলেন।

মহিলা বলেছেন, গোড়া থেকেই প্যানেলের কাজকর্মে অসচ্ছ্বতা ছিল। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে এক জন বহিরাগত হিসাবে দেখা হয়েছে। প্যানেলের কর্মপদ্ধতি এবং তদন্তের কার্যধারায় তাঁর দায়িত্ব ও মৌলিক অধিকার কী সে সম্পর্কে তাঁকে কিছু জানানো হয়নি।

অভিযোগকারিণী বলেছেন, “স্বাভাবিক ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতিগুলো কমিটি মানছে না দেখে কমিটি থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়েছিলাম। তা সত্ত্বেও কমিটি আমার বিরুদ্ধে একটা বিরূপ সিদ্ধান্তে এসে পৌঁছোল। আমি ব্যথিত।” যে ভাবে শুনানি চলছিল তাতে উদ্বেগ প্রকাশ করে ৩০ এপ্রিল কমিটির তৃতীয় বৈঠকের পর ওই মহিলা সরে আসেন।

ওই মহিলা বলেছেন, ২০১৩-এর সেক্সচ্যুয়াল হ্যারাসমেন্ট অব উইমেন অ্যাট ওয়ার্কপ্লেস (প্রিভেনশন, প্রহিবিশন অ্যান্ড রিড্রেসাল) আইনের ১৩ ধারা অনুযায়ী দু’ পক্ষেরই রিপোর্টের কপি পাওয়ার কথা। তথ্যের অধিকার সংক্রান্ত আইন অনুসারে সাধারণ মানুষেরও এই তথ্য পাওয়ার অধিকার রয়েছে।

“এক দিকে অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলা অন্য দিকে অভিযোগকারীকে রিপোর্টের কপি না দেওয়ায় স্বাভাবিক ন্যায়বিচারের নীতি লঙ্ঘিত হয়েছে এবং এ হল বিচারের নামে পুরোপুরি প্রহসন” – বলেছেন অভিযোগকারিণী।

সূত্র: NEWS18

------------------------------------------------
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.