ভাইপোর নাম অপরাধের খাতা থেকে মুছতেই কি শরদ পওয়ারের এই চাল?

0

ওয়েবডেস্ক: গত শনিবার বিজেপির দেবেন্দ্র ফডনবিসের হাত ধরে মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রীপদে শপথ নেন এনসিপি নেতা অজিত পওয়ার। দু’দিন বাদেই, গত সোমবার তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয় ২০ হাজার কোটি টাকার সেচ-দুর্নীতি মামলা থেকে।

গত ২০১৪ সালে মহারাষ্ট্রের ক্ষমতায় এসেই কয়েক বছর আগের সেচ দুর্নীতির বিষয়ে তদন্ত শুরু করেন ফডনবিস। মহারাষ্ট্র দুর্নীতি দমন শাখা প্রাক্তন সেচমন্ত্রী ও এনসিপি নেতা অজিতের বিরুদ্ধে তদন্তে নামে। তিনিই ছিলেন ওই মামলায় মূল অভিযুক্ত। কিন্তু গত সোমবার আচমকা ক্লিনচিট পেয়ে যান অজিত।

গত শুক্রবার শিবসেনা-এনসিপি-কংগ্রেস জোট সরকার গঠনের সিদ্ধান্তে ঐকমত্যে পৌঁছায়। যদিও ওই রাতেই ফডনবিসের সঙ্গে গোপন কৌশল অবলম্বন করে পর দিন সকালেই উপ-মুখ্যমন্ত্রীপদে শপথ নেন অজিত। দ্বিতীয়বার মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন ফডনবিস স্বয়ং। কিন্তু মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের রায়ে আগামী বুধবারের মধ্যে আস্থাভোটের নির্দেশ দেওয়ার পরই ইস্তফা দেন অজিত। তাঁকে অনুসরণ করেই ইস্তফার পথ ধরেন ফডনবিসও। মাঝখান থেকে এই মহা-নাটকে ক্লিনচিট প্রাপ্তি ঘটে যায় শরদ পওয়ারের ভাইপোর।

[ আরও পড়ুন: আস্থাভোটের আগেই মহারাষ্ট্রে পড়ে গেল ‘বিজেপি সরকার’ ]

স্বাভাবিক ভাবেই এই ঘটনা জাতীয় রাজনীতিতে পোড়খাওয়া নেতা শরদের কোনো চাল কি না, তা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন। যে ফডনবিসের আমলে দুর্নীতি মামলায় জড়ানো হয়েছিল অজিতকে, তাঁরই আমলে (মাত্র ৮০ ঘণ্টা) ওই মামলা থেকে ক্লিনচিট পেয়েছিলেন তাঁর সদ্য প্রাক্তন ‘ডেপুটি’।

কী এই সেচ দুর্নীতি মামলা?

গত ১৯৯৯-২০০৯ সাল পর্যন্ত মহারাষ্ট্রের সেচমন্ত্রী ছিলেন অজিত। অভিযোগ, ২০০৯ সালে তিনি আইন বদল করে ৩৮টি সেচ প্রকল্পের অনুমোদন দেন। এই প্রকল্পগুলির জন্য বিদর্ভ সেচ উন্নয়ন কর্পোরেশনের কাছ থেকে কোনো ছাড়পত্র নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ। এই দুর্নীতি প্রথম প্রকাশ্যে আসে ২০১২ সালে। ২০১৪ সালে ক্ষমতায় এসেই তদন্ত শুরু করেন ফডনবিস। তিনি অজিতকে আর্থার রোডের জেলে পাঠানোর হুমকিও দিয়েছিলেন এ বারের বিধানসভা নির্বাচনের ভোটপ্রচারে।

[ আরও পড়ুন: ইস্তফা দিলেন অজিত পওয়ার ]

প্রসঙ্গত, ক্লিনচিট পাওয়ার পরেই সম্পূর্ণ বিপদ্মুক্ত হননি অজিত। তাঁর ক্লিনচিটের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার প্রস্তুতিতে আদা-জল খেয়ে নামে শিবসেনা-কংগ্রেস, এমনকী তাঁর নিজের দল এনসিপি!

তবে সে সবের আর সম্ভাবনা থাকল না বলে ধরে নেওয়া যেতে পারে। কারণ, এ দিন সকালেই ভাইপোর সঙ্গে দেখা করেন শরদ। তাঁকে দলে ফেরার অনুরোধও করেন। তার পরেই অজিতের এই ডিগবাজি!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.