marriage communal harmony

জিন্দ (হরিয়ানা): সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য নজির গড়লেন দুই বন্ধু। ধর্মে ভিন্ন হলেও, ছোটোবেলা থেকেই তাঁদের বন্ধুত্ব অটুট। সেই বন্ধুত্বের উদাহরণ হয়ে থাকল তাঁদের কন্যাদের বিয়ে। একই মণ্ডপে, একই সময়ে বিয়ে হল দুই কন্যার- একজন হিন্দু এবং একজন মুসলিম।

হরিয়ানার জিন্দের বাসিন্দা রাজেন্দ্র কুমার এবং শাব্বির খান। বন্ধু হওয়ার পাশাপাশি দু’জনে প্রতিবেশীও বটে। কিন্তু গোটা ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত নয়, বরং কাকতালীয়। রাজেন্দ্রর মেয়ে শালু এবং শাব্বিরের মেয়ে শবনমের একই দিনে বিয়ে ঠিক হয়েছিল।

রবিবারই বিয়ে হওয়ার কথা দুই কন্যার। দু’জনের বাবাই একই বিয়ের হল বুক করেছিলেন। এক দিকে রাজেন্দ্র যখন বিয়ের হল বুক করেছিলেন রবিবার সন্ধে থেকে, তখন শাব্বির বুক করেছিলেন সকালটার জন্য। মুসলিম প্রথা মেনে শবনমের বিয়ে হবে সকালে এবং হিন্দু প্রথা মেনে শালুর হবে সন্ধেয়।

কিন্তু বিকেল থেকে বিয়ের হল বুক করেছেন তিনি, এটা ভুলে গিয়ে রাজেন্দ্র ভাবেন আদতে রবিবার দুপুর থেকেই হলটা তাঁরা পেয়ে যাবেন। সেই মতো অতিথি এবং ক্যাটারারকেও বলে দিয়েছিলেন তিনি। সেইমতো রবিবার দুপুরেই হলে চলে যান তিনি। কিন্তু গিয়ে দেখেন ওই হলে তখন অন্য একটা অনুষ্ঠান হচ্ছে। রাজেন্দ্র তখনও জানতেন না কার বিয়ে হচ্ছে।

কিছুক্ষণ পরেই খেয়াল হয়, দুপুরে ওই হলে যার বিয়ের অনুষ্ঠান হচ্ছে সে তাঁর বন্ধু শাব্বিরেরই মেয়ে। এ দিকে সব অতিথিকে নিমন্ত্রিত করে কিছুটা বিব্রত হয়ে যান রাজেন্দ্রবাবু। কী করবেন বুঝতে না পেরে শাব্বিরেরই দ্বারস্থ হন তিনি। এর পরেই শাব্বির প্রস্তাব দেন দু’টো বিয়ের অনুষ্ঠানই এক সঙ্গে একই হলে করার।

ঘটনার ব্যাপারে শাব্বির বলেন, “সব কিছুই কাকতালীয় ভাবে হয়ে গেল। দু’তরফের আত্মীয়রাও বেজায় খুশি। পাত্রদের পরিবারের তরফ থেকেও কোনো আপত্তি ছিল না। দুই পরিবারের অতিথিরা নিজেদের মধ্যে মিলেমিশে গিয়েছিল। আমরা খুব আনন্দ করেছি।”

‘শাদি’ এবং ‘নিকাহ’ এক সঙ্গে হওয়ার এই বিরল ঘটনাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন রাজেন্দ্র।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here