চাঁদের মাটি থেকে ২.১ কিমি দূরে বিক্রমের সঙ্গে যোগাযোগ ছিন্ন, জানাল ইসরো

0
isro control room
ইসরো কন্ট্রোল রুম। ছবি সৌজন্যে ইসরো।

ওয়েবডেস্ক: চাঁদের মাটি থেকে মাত্র ২.১ কিমি দূর থেকে ল্যান্ডার বিক্রমের সঙ্গে যোগাযোগ ছিন্ন হয়ে গেল।
ইসরোর চেয়ারম্যান কে শিবন যখন এ কথা জানালেন তখন কন্ট্রোল রুমে সকলের মুখেই বেদনার চিহ্ন। সবাই মানসিক ভাবে ভেঙে পড়ার অবস্থায়। এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সকলকে উজ্জীবিত করেছেন। বিজ্ঞানীদের প্রচেষ্টার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে সবাইকে সাহসী হতে বলেছেন।

প্রধানমন্ত্রী এক টুইট বার্তায় বলেছেন, “বিজ্ঞানীদের নিয়ে সারা ভারত গর্বিত। তাঁরা তাঁদের আপ্রাণ করেছেন এবং ভারতকে সব সময়ে গর্বিত করেছেন। এ রকম কিছু মুহূর্ত আসে যখন সাহসী হতে হয় এবং আমরা সাহসী থাকব। চেয়ারম্যান চন্দ্রযান ২ নিয়ে সর্বশেষ সংবাদ দিয়েছেন। আমরা আশাবাদী। আমরা আমাদের মহাকাশ কর্মসূচি নিয়ে কঠোর পরিশ্রম করে যাব।”

তখন রাত ২.১৯। বেঙ্গালুরুর ইসরো কেন্দ্রের কন্ট্রোল রুমে সবাই চিন্তিত মুখে বসে। প্রায় আধ ঘণ্টা হতে চলল, চন্দ্রযান ২-এর ল্যান্ডার বিক্রম থেকে কোনো সিগন্যাল আসছে না। সিগন্যালের জন্য অপেক্ষা করে বসে আছেন ইসরোর বিজ্ঞানীরা। প্রায় আধ ঘণ্টা আগে বিক্রম চাঁদের মাটিতে পা রাখার চূড়ান্ত পর্যায়ে চলে গিয়েছিল। সব কিছু ঠিকঠাক চললে রাত ১.৫৩ নাগাদ নেমে যাওয়ার কথা ছিল। শেষ পর্যন্ত ইসরোর চেয়ারম্যান জানালেন, ল্যান্ডার বিক্রমের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। বিজ্ঞানীরা সব ডেটা বিশ্লেষণ করে দেখছেন।

সব কিছু ঠিকঠাকই চলছিল। ল্যান্ডার বিক্রম রাত ১.৩৮ মিনিটে চাঁদের মাটি লক্ষ্য করে নামতে শুরু করে। রাত ১,৪৬ মিনিটে বিক্রম চাঁদের ভূমি থেকে ৭৫ কিমি দূরে পৌঁছে যায়। ১.৪৯ মিনিটে চাঁদে নামার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে যায় বিক্রম। ‘রাফ ব্রেকিং ফেজ’ সফল ভাবে সম্পন্ন হয়। শুরু হয় ‘ফাইন ব্রেকিং ফেজ’। ১.৫১ মিনিটে ‘ফাইন ব্রেকিং ফেজ’ সফল ভাবে সম্পন্ন হয়।

ও দিকে উদ্বিগ্ন মনে সবাই বসে থাকেন ইসরোর কন্ট্রোল রুমে। এতক্ষণে তো ল্যান্ডার বিক্রম-এর কাছ থেকে সিগন্যাল এসে যাওয়ার কথা। রাত ২.০১ মিনিট – উদ্বেগ বাড়ছে। সবাই বিক্রম-এর সিগন্যালের জন্য অপেক্ষা করে বসে আছে। এতক্ষণে তার চাঁদের মাটিতে নেমে যাওয়ার কথা।

শেষ পর্যন্ত ২.১৯ মিনিটে ইসরো ঘোষণা করল, বিক্রমের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে।

আরও পড়ুন ‘১৫ মিনিটের আতঙ্ক’ কেটে গেলেই ইতিহাস! অপেক্ষায় সারা দেশ

বিজ্ঞানীদের যাবতীয় নজর ছিল অবতরণের অন্তিম ১৫ মিনিটের দিকে। যে সময়টাকে ইসরোর চেয়ারম্যান ‘সব চেয়ে দুশ্চিন্তার মুহূর্ত’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। সেই ‘দুশ্চিন্তার মুহূর্ত’ শুরু হয় রাত ১টা ৩৮ মিনিটে। পর পর সিগন্যাল আসছিল বিক্রম থেকে। অবতরণের একেবারে চূড়ান্ত মুহূর্তে গিয়ে বিক্রমের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল। গত ২২ জুলাই শ্রীহরিকোটা থেকে উৎক্ষেপণ হয়েছিল চন্দ্রযান ২-এর। এর পর বিশাল পথ পাড়ি দিয়ে অবশেষে চাঁদের মাটির একেবারে কাছে পৌঁছেও শেষরক্ষা হল না কেন? সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সংশ্লিষ্ট সকলের মনে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here