kairana
কুমারস্বামীর শপথগ্রহণের অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছিলেন কার্যত সব বিরোধী দলের নেতারা।

ওয়েবডেস্ক: আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী কে হবেন সে ব্যাপারে একটি সিদ্ধান্তে এসে পৌঁছোল কংগ্রেস-সহ বিরোধীরা। প্রধানমন্ত্রী কে হবেন সেটা নির্বাচনের পরেই ঠিক করা হবে বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কংগ্রেসের এক প্রবীণ নেতা। হিন্দুস্তান টাইমসকে এই কথা বলেন তিনি।

এখনই প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নিয়ে আলোচনা করে বিরোধীদের ঐক্যে কোনো ফাটল ধরাতে কংগ্রেস রাজি নয় বলে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, “প্রধানমন্ত্রীর প্রার্থীর ব্যাপারে আলোচনা করে এখনই বিরোধীদের মধ্যে কোনো বিভ্রান্তি তৈরি করতে চাই না। বিভিন্ন দলের বিভিন্ন মত আছে। সে ব্যাপারে পরেই আলোচনা করা হবে।”

এই মুহূর্তে কংগ্রেসের লক্ষ্য একটাই। বিজেপি-বিরোধী সমস্ত দলকে একত্রিত করা। তিনি বলেন, “এই ব্যাপারে বিরোধীদের মধ্যে একটা ঐকমত্যে পৌঁছোনো গিয়েছে। আমাদের এখন প্রধান লক্ষ্য বিজেপি এবং আরএসএসকে হারানো।”

আরও পড়ুন ২০১৯-র বিজেপি বিরোধী জোটের নাম ইতিমধ্যেই স্থির হয়ে গিয়েছে: ইয়েচুরি

তিনি যোগ করেন, “আরএসএসের রাজনীতিকে হারানোই এখন সব বিরোধী দলের প্রাথমিক লক্ষ্য। নির্বাচনের পরে কী হবে, কে প্রধানমন্ত্রী হবেন সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নির্বাচনের পরেই নেওয়া হবে। কোন দল ক’টা আসন পেল তার ওপরে সিদ্ধান্ত।”

আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের পারফরম্যান্স অনেক ভালো হবে বলে আশাপ্রকাশ করেন ওই নেতা। মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, ছত্তীসগঢ়, পঞ্জাব এবং হরিয়ানায় আসন অনেক বাড়বে বলে আশাবাদী তিনি। গত নির্বাচনে গোটা দেশে থেকে মাত্র ৪৪টা আসন পেয়েছিল কংগ্রেস। পরে অবশ্য কিছু লোকসভা উপনির্বাচনে জিতে নিজেদের সাংসদ সংখ্যা বাড়ায় ‘গ্র্যান্ড ওল্ড পার্টি।’

উত্তরপ্রদেশ, বিহার এবং মহারাষ্ট্রে বিরোধীদের সঙ্গে জোট তৈরির কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। কংগ্রেসের নেতার আশা, বিরোধীদের জোট তৈরি হলে এই রাজ্যগুলিতে বিজেপির ফল অনেক খারাপ হবে। উত্তরপ্রদেশের সপা এবং বসপার সঙ্গে আসন সমঝোতার ব্যাপারে আলোচনা অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে বলে জানান তিনি। তবে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের হাত ধরা হবে কি না সে ব্যাপারে বিশেষ কিছু খোলসা করতে রাজি হননি তিনি।

আরও পড়ুন বিজেপি-বিরোধী মহাজোট নিয়ে বিরূপ মন্তব্য শরদ পওয়ারের
রাজ্য নেতৃত্বের কথা মানলে তৃণমূলের সঙ্গে কংগ্রেসের জোট করা চাপের হবে। ছবি: টুইটার

তবে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করে ওই নেতা বলেছেন, “জোটের ব্যাপারে রাজ্য নেতৃত্বের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। রাজ্য নেতৃত্বের বক্তব্য গুরুত্ব সহকারে শোনা হবে।” উল্লেখ্য, তৃণমূলের সঙ্গে জোটে এখনও অনীহা রয়েছে অধীর চৌধুরী-সহ প্রদেশ কংগ্রেসের একটা বড়ো অংশের।

রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ এবং ছত্তীসগঢ়ে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের জয়ের ব্যাপারে আশা প্রকাশ করেন তিনি। তবে এই তিন রাজ্যে দল এখনই মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থীর নাম ঘোষণা করবে না বলে জানিয়েছেন এই নেতা।

এই নেতার মতে, আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি যদি ২৩০টার মতো আসন পায় তা হলে নরেন্দ্র মোদীকে আর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চাইবেন না জোটশরিকরা। তিনি বলেন, “সে ক্ষেত্রে বিজেপি থেকে অন্য কোনো নেতা দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন।” তবে বিরোধীদের উজ্জীবিত করে তিনি বলেন, “মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশ এবং বিহারে ঠিকঠাক ভাবে জোট তৈরি করতে পারলে বিজেপি কোনো ভাবেই ক্ষমতায় ফিরবে না। আমার তো মনে হয় উত্তরপ্রদেশে পাঁচটার বেশি আসনও পাবে না তারা।” উল্লেখ্য, চার বছর আগের নির্বাচনে এই উত্তরপ্রদেশ থেকে ৭১টা আসন জিতেছিল বিজেপি, দু’টো জিতেছিল তাদের শরিক দল।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন