deepak mishra impeachment

নয়াদিল্লি: সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রকে অপসারণের জন্য দল বেঁধে নেমে পড়ল কংগ্রেস-সহ বিরোধীরা। শুক্রবারই এই বিষয়ে উপরাষ্ট্রপতি তথা রাজ্যসভার চেয়ারপার্সন বেঙ্কাইয়া নাইড়ুর কাছে ইমপিচমেন্টের নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

এই নিয়ে একটি সাংবাদিক সম্মেলন করে কংগ্রেস। সেখানে তারা জানায়, “খুব দুঃখের সঙ্গে” দীপক মিশ্রকে অপসারণের নোটিশ দেওয়া হচ্ছে কারণ “আইনসভার হস্তক্ষেপের চেষ্টার মধ্যেই বারবার ক্ষুণ্ণ হয়েছে বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা।” কংগ্রেসের দাবি, এই নোটিশে রাজ্যসভার ষাটজন সাংসদের স্বাক্ষর রয়েছে। সাধারণত রাজ্যসভার ৫০ জন সাংসদের সই থাকলেই এই নোটিশ নিয়ে এগোনো যায়।

কংগ্রেস ছাড়াও এই নোটিশে সই রয়েছে আরজেডি, এনসিপি, সিপিআইএম, সিপিআই, সমাজবাদী পার্টি এবং বহুজন সমাজ পার্টির সাংসদদের। শুক্রবার এই নোটিশ পাঠানোর আগে সংসদে বৈঠক করেন এই সাত দলের সাংসদরা। এঁদের মধ্যে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন গুলাম নবি আজাদ, কপিল সিব্বল, রণদীপ সুরজেওয়ালা, সিপিআইয়ের ডি রাজা এবং এনসিপির বন্দনা চহ্বন। সূত্রের খবর তৃণমূল এবং তামিলনাড়ুর ডিএমকে প্রথম দিকে দীপক মিশ্রকে অপসারণের দাবিকে সমর্থন করলেও এখন আর করছে না।

দুর্ব্যবহারের পাঁচটা কারণ দেখিয়ে এই নোটিশ তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আজাদ। কপিল সিব্বল বলেন, “এ রকম দিন আসবে সেটা কল্পনা করিনি।”

উল্লেখ্য গত জানুয়ারিতে প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে চার বিচারপতির নজিরবিহীন বিদ্রোহের পর থেকেই অপসারণের চিন্তাভাবনা শুরু করেছিল কংগ্রেস। কিন্তু বৃহস্পতিবার দীপক মিশ্রের ডিভিশন বেঞ্চের রায়ের পরেই এই নোটিশ পাঠানোর ব্যাপারে ঐক্যবদ্ধ হয় বিরোধীরা।

সোহরাবুদ্দিন ভুয়ো হত্যা মামলায় বিচারক লোয়ার মৃত্যু স্বাভাবিক কারণেই হয়েছিল, এই কথা বলে স্বাধীন তদন্তের একাধিক আর্জি খারিজ করে দেয় দীপক মিশ্রের ডিভিশন বেঞ্চ। তার পরেই অপসারণের নোটিশ পাঠাতে আর দেরি করেনি কংগ্রেস।

কী ভাবে অপসারণ করা যায় প্রধান বিচারপতিকে?

একবার দেখে নিই কী ভাবে অপসারিত হতে পারেন প্রধান বিচারপতি। প্রথমে সাংসদের একটি কক্ষের সাংসদরা অপসারণের নোটিশ সেই কক্ষের অধ্যক্ষের কাছে পেশ করবেন। এই ক্ষেত্রে যা বেঙ্কাইয়া নাইড়ুর কাছে জমা পড়েছে।

এই নোটিশ গ্রহণ করা, না করা অধ্যক্ষের ব্যক্তিগত ব্যাপার। অধ্যক্ষ যদি আবেদন গ্রহণ করেন, তা হলে প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্তের জন্য একটি তিন সদস্যের কমিটি তৈরি হবে। ওই কমিটি যদি মনে করে যে প্রধান বিচারপতিকে অপসারণ করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে তা হলে যে কক্ষ থেকে এই নোটিশ পাঠানো হয়েছিল সেখানে ভোটাভুটি হবে। প্রধান বিচারপতিকে সরানোর পক্ষে যদি দু-তৃতীয়াংশ সাংসদের ভোট পড়ে তা হলে আরও একবার ভোটাভুটির জন্য সংসদের অন্য কক্ষে যাবে। সেখানেও যদি এই প্রস্তাব পাশ হয়ে যায় তা হলে প্রস্তাবটি রাষ্ট্রপতির সম্মতির জন্য পাঠানো হবে। তার পর রাষ্ট্রপতির সম্মতিতে অপসারিত হবেন প্রধান বিচারপতি।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here