m j akbar and arun jaitley
প্রতীকী ছবি

ওয়েবডেস্ক: কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলির পদত্যাগের দাবি তুলল কংগ্রেস। হাতে গোনা কয়েক সপ্তাহ আগেই ‘যৌন হেনস্থা’ কাণ্ডে অভিযুক্ত বিদেশ প্রতিমন্ত্রী এম জে আকবরের পদত্যাগের দাবিতে কংগ্রেস সরব হয়েছিল। অনেক টালবাহানার পর অবশেষে মন্ত্রিত্ব থেকে ইস্তফা দেন আকবর। একই ভাবে রাফাল-চুক্তি নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ দাগার মাঝেই ব্যাঙ্ক জালিয়াতিতে অভিযুক্ত মেহুল চোকসির সঙ্গে জেটলির মেয়ে-জামাইয়ের আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করে অর্থমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি তুললেন কংগ্রেস সর্বভারতীয় সভাপতি রাহুল গান্ধী।

জানা গিয়েছে, গীতাঞ্জলি জেমস লিমিটেডের কর্ণধার মেহুল চোকসির কাছ থেকে টাকা নিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলির মেয়ে ও জামাই। তাঁরা দু-জনেই আইনজীবী। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক প্রতারণা কাণ্ডে অভিযুক্ত মেহুল ইতিমধ্যেই বিদেশে পালিয়েছেন।

কংগ্রেস নেতা সচিন পাইলট গত সোমবারই একটি সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারের জমানায় প্রায় ২৩ জন প্রতারক আর্থিক জালিয়াতির পর দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। তাঁদের সম্মিলিত আর্থিক প্রতারণার অঙ্ক প্রায় ৫৩ হাজার কোটি টাকা। অন্য দিকে গত জানুয়ারি মাস পর্যন্ত ৪৪ মাসের হিসাবে দেখা গিয়েছে, এ দেশে মোটি ১৯ হাজার বড়োসড়ো ব্যাঙ্ক প্রতারণা সংঘটিত হয়েছে। যার ফলে জনগণের গচ্ছিত প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকা ওই প্রতারকরা হজম করে ফেলেছেন।

কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী যখন দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎকে চাঙ্গা করতে নিউ ইন্ডিয়ার কথা বলে আসছেন, তখন এই বৃহদাকার ব্যাঙ্ক প্রতারণা কাণ্ডের দায় নিজের মাথায় নিয়ে তাঁর পদত্যাগের দাবি তুলেছিলেন পাইলট। তিনি অভিযোগ করেন, অরুণ জেটলি কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন তখন তাঁর আইনজীবী মেয়ে সোনালি জেটলি এবং জামাতা জয়েশ বকসি গত ২০১৭ সালে গীতাঞ্জলি জেমস লিমিটেডের কাছ থেকে ২৪ লক্ষ টাকা নিয়েছেন।

একই ভাবে রাহুল গান্ধী টুইটারে লিখেছেন, ‘অরুণ জেটলির মেয়ে চোর চোকসির পে রোলে ছিলেন৷ আর অর্থমন্ত্রী ড্যাডি চোকসির ফাইল চেপে বসেছিলেন এবং তাঁকে পালাতে সাহায্য করলেন৷ মেয়ে টাকা পেলেন৷ মিডিয়া এই খবর ব্ল্যাক আউট করেছে, এটা দুঃখের ঘটনা৷ কিন্তু দেশের লোক ব্ল্যাক আউট করবে না৷’

এর পরই জয়েশের ফার্মের তরফে দাবি করা হয়েছে, মেহুল চোকসির প্রতারণার ব্যাপারে জানার পর তারা তাঁর সঙ্গে সমস্ত রকমের সম্পর্ক ছিন্ন করেছে।

কিন্তু কংগ্রেসের দাবি, পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক (পিএনবি) কর্তৃপক্ষ মেহুল চোকসির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর অফিস ও অর্থ মন্ত্রকে পাঠিয়ে দেওয়ার পর ওই ২৪ লক্ষ টাকা নেওয়া হয়েছিল৷ পিএনবি গুজরাত হাইকোর্টে হলফনামা দিয়ে বলেছিল, মেহুল ভারতের বাইরে পালিয়ে যেতে পারেন৷ আদতে তাই হয়েছে। চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি চোকসি ভারত ছেড়ে পালান৷ প্রায় মাসখানেক অতিক্রান্ত হওয়ার পর, ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে সিবিআই হানা শুরু হয়৷ তার পর ২০ ফেব্রুয়ারি জেটলির মেয়ে ও জামাইয়ের ফার্ম সেই ২৪ লক্ষ টাকা ফেরত দেয়৷ জেটলির মেয়ে-জামাইয়ের যুক্তি ছিল, তাঁরা কোনও কাজ করেননি, তাই টাকা নিতেও চান না।

অর্থাৎ, টাকা নেওয়ার কথা স্পষ্টত স্বীকার করেছেন তাঁরা। সময়কাল নিয়ে মতান্তর থাকতে পারে। এই বিষয়টিকে হাতিয়ার করেই এগোতে চাইছে কংগ্রেস। যে কারণে শুধু মৌখিক অভিযোগেই সীমাবদ্ধ থাকেননি রাহুল। তিনি সোনালি জেটলির একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও এ ব্যাপারে প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছেন।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here