gujarat elections

ওয়েবডেস্ক: বেকারত্ব, সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার ব্যাপক খরচ, জিএসটি এবং বিমুদ্রাকরণের প্রভাবে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ, সেই সঙ্গে দরজায় দরজায় গিয়ে কংগ্রেসের জোরদার প্রচার। এই সব কারণেই বিজেপির গড় হিসেবে পরিচিত অমদাবাদে প্রভাব ফেলার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে কংগ্রেস।

বিরঙ্গমের মুসলিম গাড়ি চালক হোক, সবরমতির ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হোক, ধোলকা অঞ্চলের খাবারের দোকানের মালিক হোক কি ধান্দুকার অটোচালক, সবার মুখেই এখন পরিবর্তনের কথা। এই পরিবর্তনের কথাতেই চাপে পড়েছে বিজেপি।

অমদাবাদ এবং তার পার্শ্ববর্তী শহরাঞ্চল মিলিয়ে বিধানসভা আসনের সংখ্যা ২১। গত নির্বাচনে এই এর মধ্যে মাত্র চারটে আসন জিতেছিল কংগ্রেস। পরবর্তীকালে বিজেপিতে যোগ দেন বিরঙ্গমের কংগ্রেস বিধায়ক তেজশ্রিবেন পটেল। সুতরাং নির্বাচনের আগে কংগ্রেসের হাতে এখন তিন জন বিধায়ক। কিন্তু কংগ্রেস বিধায়ক বিজেপিতে যোগ দিলেও বিরঙ্গম খুশি নয়। ইকোনমিক টাইম্‌সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্থানীয় গাড়ি চালক এসএম কুরেশি বলেন, “আমরা সব সময়ে কংগ্রেসকে ভোট দিয়েছি। তেজশ্রিবেনকে আর বিশ্বাস করা যায় না।” শুধু কুরেশি নয়, একই কথা শোনা যায় চায়ের দোকানি মহেশভাই এবং অস্থায়ী শ্রমিক রামাভাইয়ের গলাতেও। রামাভাইয়ের কথায়, “আমরা বছরের পর বছর এক সঙ্গে শান্তিতে থেকেছি। সে ভাবেই থাকতে চাই।”

মারুতি, টাটা, হন্ডা – বড়ো বড়ো গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থার কারখানায় ভর্তি এই অঞ্চল। সুতরাং দেখে মনে হবে চাকরির কোনো আকাল নেই এখানে। বড়ো বড়ো অট্টালিকাও তৈরি হয়েছে। কিন্তু এগুলি স্থানীয়দের জন্য নয়। সানন্দের ন্যানো কারখানায় কর্মরত যতিনভাই বলেন, “স্থানীয়দের  জন্য কোনো চাকরি নেই এখানে। এই যে বাড়িগুলো দেখছেন, এগুলিতে বাইরের লোকেরা থাকে। তারাই ৮০ শতাংশ চাকরির দখল নিয়ে নিয়েছে। স্থানীয়দের চাকরির জন্য অন্তত তিনশো কিলোমিটার দূরে যেতে হচ্ছে।” মহেশভাইয়ের কথায়, “আমাদের জন্য কোনো চাকরি নেই। দেখবেন, এ বার পরিবর্তন হবেই।”

এ বার আসা যাক ধোলকা আসনের কথায়। এখানে বিজেপির মন্ত্রী ভুপেন্দ্রভাই চুদাসামাকে কড়া প্রতিযোগিতায় ফেলেছেন কংগ্রেসের অশ্বিন কামুভাই রঠৌর। স্থানীয় চা-দোকানি গক্কুভাই বলেন, “আমি এত দিন বিজেপিকে ভোট দিয়েছি, কিন্তু এ বার কংগ্রেস।” এর কারণ জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, “সমাজের ডাকে।” বিজেপির সমর্থকরাও মনে করেন এ বার বিজেপির জয় শক্ত কারণ কোলি পটেল, মুসলিম এবং দলিতদের সমর্থন পাবেন কামুভাই। রাজপুত ছাড়া চুদাসামা কাদের সমর্থন পাবেন, সে ব্যাপারে এখনও কোনো নিশ্চয়তা নেই।

শহরাঞ্চলে ব্যবসায়ীদের মেজাজও বিশেষ ভালো নয়। প্রথমে বিমুদ্রাকরণ এবং পরে জিএসটির ফলে ব্যবসায়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, অভিযোগ এমনই। ব্যবসায়ীদের গলায় একটাই সুর, “কোনো কাজ নেই।”

মানুষের এই ক্ষোভ নিজেদের বাক্সে কতটা ভোট বাড়ায়, এখন সেটাই মাপতে শুরু করেছে কংগ্রেস।

সৌজন্য: ইকোনমিক টাইম্‌স

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here