congress

আগরতলা: লাল-গেরুয়ার হাড্ডাহাড্ডি প্রচার লড়াই চরম পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি বিধানসভা ভোটগ্রহণ ত্রিপুরায়। প্রচারের লড়াইটা মূলত বাম বনাম বিজেপি হলেও ভোটের অঙ্ক কিন্তু বলছে অন্য কথা। কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপি সারা দেশের মতো এ রাজ্যেও বিধানসভা দখলে বাড়তি মনোযোগ দিলেও কতটা সফল হবে, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। ৬০ আসনের বিধানসভায় বিগত আড়াই দশক ধরে একাধিপত্য ধরে রেখেছে বামেরা। কিন্তু বিরোধী দল হিসাবে জাতীয় কংগ্রেসের প্রাপ্ত ভোটের হারও কিন্তু ফেলনা নয়। এই বিষয়টিই এখন ত্রিপুরা ভোটে দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজেপি নেতৃত্বের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ত্রিপুরায় ‘চলো পাল্টাই’ স্লোগান তুলে ২০১১-এর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি চাইছে বিজেপি। তৃণমূল কংগ্রেস ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটাতে ঠিক যে যে পন্থা অবলম্বন করেছিল, ত্রিপুরায় চলছে তার কপি-পেস্ট। পাশাপাশি প্রতিবেশী রাজ্য অসম থেকেও আসছে নির্বাচনী ‘রসদ’। কিন্তু এত কিছু করেও শেষমেশ সফলতা আসবে তো? ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, এই প্রশ্ন ততই আকারে বর্ধিত হচ্ছে বিজেপি নেতৃত্বের কাছে।

গত ২০০৮ বা ২০১৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাম সরকার ক্ষমতায় ফিরলেও বিরোধী দল কংগ্রেসের ভোট শতাংশ কিন্তু মোটের উপর মন্দ ছিল না। দু’বারই ১০টি করে আসন জিতলেও কংগ্রেসের ওই নির্বাচনে ভোট প্রাপ্তির হার ছিল যথাক্রমে ৪৪.৯১ এবং ৪৫.৭৫ শতাংশ। স্বাভাবিক ভাবেই বোঝা যাচ্ছে মূলত দ্বিমুখী লড়াইয়ে প্রায় আড়াআড়ি ভাগ হয়েছিল জনমত। ২০১৮-তে অবশ্য প্রার্থী খুঁজে পেতেই হিমশিম খেতে হয়েছে কংগ্রেসকে। এ বার সেখানে নতুন সংযোজন বিজেপির বাড়তি উদ্যোম। বিগত ওই দু’টি নির্বাচনে বিজেপির ভোটের হার ছিল যথাক্রমে ১.৮১ এবং ১.৮৭ শতাংশ। তবে এর সঙ্গে যে এ বারের পরিসংখ্যান কোনো মতেই তুলনায় টানা যাবে না, তা পরিস্কার হয়ে গিয়েছে। একে তো কেন্দ্রের শাসক দল, তার উপর ত্রিপুরায় কংগ্রেসের ছন্নছাড়া মনোভাব। কংগ্রেস থেকে যে ছয় জন বিধায়ক তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন তাঁরা আবার সদলবলে যোগ দিয়েছেন বিজেপিতে।

ফলে ওই প্রাক্তন কংগ্রেসি বিধায়করা বিজেপিকে বাড়তি শক্তি জোগাচ্ছেন ভোট বাক্স খোলার আগে থেকেই। আবার প্রাক্তন কংগ্রেসি মুখ্যমন্ত্রী সমীর রায়বর্মণ নির্দল হিসাবে মনোনয়ন জমা করেও বিজেপির অনুরোধে তা প্রত্যাহার করেছেন বলে শোনা গিয়েছে। ভিতরে ভিতরে চলছে এরকমই কিছু বিশেষ খেলা। যে সবের খেলুড়ে বিজেপি । তাঁরা খুব ভালো করেই জানেন প্রতিবেশী রাজ্যের তাবড় নেতা হিমন্ত বিশ্বশর্মাকে দায়িত্ব দিয়ে বা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, সভাপতি অমিত শাহ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজনাথ সিং, নির্মলা সীতারামণ-সহ প্রায় ৪০ জন সর্ব ভারতীয় ‘তারকা প্রচারক’ দিয়ে ত্রিপুরার মানুষকে যতই প্রতিশ্রুতিই দিয়ে যান, কংগ্রেসের ভোট ব্যাঙ্কে ভাঙন না ধরাতে পারলে সিপিএমের সঙ্গে পাল্লা দেওয়া কোনো মতেই সম্ভব নয়।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন