SC

নয়াদিল্লি: সহবাসের ক্ষেত্রে উভয়ের সম্মতিতে যৌন সম্পর্ক তৈরির পর বিয়ে করতে ‘অপারগ’ হলে তা মোটেই ধর্ষণ নয়। বুধবার সুপ্রিম কোর্ট একটি মামলার রায় ঘোষণার সময় এই কথা স্পষ্ট ভাবেই জানিয়ে দেয়। আদালত বলেছে, সহবাসের সময় কথা দিলেও যদি বিশেষ কোনো কারণে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়, আর অভিযুক্ত সাথীটি বিয়ের প্রতিশ্রুতি পালন করতে না পারে, তা হলে তা সর্বদা অপরাধ নয়। লক্ষ্য করতে হবে অভিযুক্ত কোন উদ্দেশ্য নিয়ে সম্পর্ক তৈরি করছে। মহারাষ্ট্রের এক জন নার্স এক ডাক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছিলেন। সেই মামলার রায়েই এ কথা বলে সর্বোচ্চ আদালতের বিচারপতি এ কে সিক্রি এবং এস আবদুল নাসেরের বেঞ্চ।

আদালত বলছে, উভয়ের সম্মতি সাপেক্ষে যৌন মিলনের বিষয়টি ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬ নম্বর ধারা অর্থাৎ ধর্ষণ আইনের অধীনে পড়ে না। দেখতে হবে অভিযুক্তর উদ্দেশ্য আসলে কী? এটা খুবই সাবধানে নিখুঁত ভাবে বিচার করা দরকার। আদালত বলছে, দু’রকম হতে পারে, এক অভিযুক্ত সত্যি মন থেকে চায় অভিযোগকারীকে বিয়ে করতে কিন্তু বিশেষ কারণে তা করতে পারছে না। দুই, শুধুই নিজের চাহিদা পূরণের জন্য মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হয়েছে, পরে তা পালন করতে অস্বীকার করছে। কোনটা?

আরও পড়ুন – ২০২১-এর আগে এটাই শেষ বিরল চন্দ্রগ্রহণ, জানুন কবে?

মহারাষ্ট্রের এই নার্স এক জন বিধবা। তিনি এক জন ডাক্তারের সঙ্গে ভালোবাসার সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। তাঁর পরই সহবাস শুরু করেন। তখনই দু’জনের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক তৈরি হয়। ওই নার্স পরে যখন জানতে পারেন ডাক্তার অন্য কাউকে বিয়ে করেছেন, তখনই তিনি ডাক্তারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।।

বেঞ্চ বলেছে, এই ঘটনা যদি এমন হয়, মন থেকে ইচ্ছা থাকা সত্বেও বিশেষ কোনো কারণে অভিযুক্ত বিয়ের প্রতিশ্রুতি পালন করতে পারছে না, সে ক্ষেত্রে খুব সূক্ষ্ম ভাবে বিচার করতে হবে।

আবার যদি উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে অভিযুক্ত নিজের স্বার্থ সিদ্ধি করেছে এবং তার পর প্রতিশ্রুতি থেকে সরে যাচ্ছে তা হলে ঘটনাটি সম্পূর্ণ স্পষ্ট ভাবেই ধর্ষণের মামলা।

অভিযুক্ত ওই ডাক্তার মুম্বই হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ও তাঁর বিরুদ্ধে করা মামলা খারিজ করে দেওয়ার ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়েছে। সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালতে।

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন