হিমাচল প্রদেশে এখন সংক্রমণের হার ১ শতাংশ। নিজস্ব চিত্র।

খবরঅনলাইন ডেস্ক: অদ্ভুত লাগলেও সত্যি। পর্যটকদের জন্য যে যে রাজ্য নিজেদের দরজা খুলে দিয়েছে, সেখানেই দৈনিক করোনার সংক্রমণ ক্রমশ কমছে। আর যে সব রাজ্য এখনও পর্যটক প্রবেশের অনুমতি দেয়নি, সেখানে উলটো ছবি। সংক্রমণ না বাড়লেও সেখানে আশা করার মতো কমছেও না।

উল্লেখ্য, গত কয়েক দিন ধরে হিমাচল প্রদেশ এবং উত্তরাখণ্ডের পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে ভিড়ের ছবি দেখে আঁতকে উঠেছেন অনেকেই। পর্যটকদের মধ্যে অনেককেই স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেখা যাচ্ছে না, এটা যেমন ঠিক, তেমনই কিছু কিছু ক্ষেত্রে ভিড়ের পুরোনো ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করে দেওয়া হচ্ছে।

আমাদের দেশের অনেক রাজ্যই আছে যারা পর্যটনের ওপরেই নির্ভরশীল। এদের মধ্যে হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড এবং জম্মু-কাশ্মীর অন্যতম। এই তিন রাজ্যই পর্যটনে ছাড় দিয়ে দিয়েছে। এর মধ্যে হিমাচলে ভিন রাজ্যের পর্যটকদের প্রবেশে কোনো রকম বাধা নেই। লাগছে না আরটি-পিসিআর রিপোর্ট, লাগছে না টিকাকরণের শংসাপত্রও।

কিন্তু দেখা যাচ্ছে এই তিন রাজ্যেই করোনার সংক্রমণ এখন কার্যত তলানিতে এসে ঠেকেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তরাখণ্ডে ৩০ হাজার নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে আক্রান্ত হয়েছেন মাত্র ৬৫ জন। অর্থাৎ এই রাজ্যে সংক্রমণের হার ছিল ০.২ শতাংশ।

জম্মু-কাশ্মীরে ৬০ হাজার ৫৬২ টেস্টের বিপরীতে আক্রান্ত হয়েছেন ২৬১ জন। অর্থাৎ এখানে সংক্রমণের হার ছিল ০.৪৩ শতাংশ। হিমাচল প্রদেশে ১৫ হাজার টেস্টের বিপরীতে আক্রান্ত হয়েছেন ১৮০ জন। এ রাজ্যে সংক্রমণের হার ছিল ১.২ শতাংশ।

পর্যটকদের জন্য দরজা খুলে দিয়েছে রাজস্থান এবং মধ্যপ্রদেশও। এই দুই রাজ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন যথাক্রমে ৬২ এবং ২৯ জন। কিন্তু ধরে নেওয়া যেতে পারে গরমের কারণে এই দুই রাজ্যে পর্যটকরা যাবেন না। তাঁরা পাহাড়েই যাবেন এখন।

অন্য দিকে পর্যটকদের জন্য সে ভাবে দরজা না খোলা কেরল এবং মহারাষ্ট্রে সংক্রমণ এখনও কাঙ্ক্ষিত ভাবে কমছে না। কেরলে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন সাড়ে ১৩ হাজারের বেশি মানুষ, সংক্রমণের হার ছিল প্রায় ১১ শতাংশ। মহারাষ্ট্রে প্রায় ৯ হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন, সংক্রমণের হার ছিল সাড়ে ৪ শতাংশের কাছাকাছি।

তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ আর ওড়িশাও ভিন রাজ্যের পর্যটকদের জন্য অনেক শর্ত রেখে দিয়েছে। তাই সেখানেও পর্যটকরা যাচ্ছেন না। তামিলনাড়ুতে তো হিল স্টেশনগুলো এখনও খোলেইনি। তবুও এই তিন রাজ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন যথাক্রমে ৩ হাজার ৩৯, ৩ হাজার ৪০ এবং ২ হাজার ৮০৬ জন।

অর্থাৎ পর্যটকদের আগমনের কারণে সংক্রমণ বাড়ছে এমন কোনো প্রমাণ আপাতত নেই। তবে এটাও ঠিক তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কা যখন রয়েছে তখন পর্যটকদের আরও সতর্ক হতে হবে। মন ভালো রাখার জন্য ভ্রমণ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তাই নব্য স্বাভাবিকতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে সব রকম স্বাস্থ্যবিধি মেনেই ভ্রমণ করতে হবে আমাদের সবাইকে।

আরও পড়তে পারেন আজ থেকে পথে সাড়ে ৩ হাজার বেসরকারি বাস, দুর্ভোগ কমার আশা

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন