খবরঅনলাইন ডেস্ক: যত সংখ্যক টেস্ট এখন হচ্ছে, গত সপ্তাহে এই পরিমাণ টেস্টের বিপরীতেই ৪ লক্ষের বেশি মানুষ আক্রান্ত হতেন। এখন সেটা ৩ লক্ষ ৬০ হাজারের ঘরে নেমে এসে। এতেই দ্বিতীয় ঢেউ স্তিমিত হয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

গত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড পরিমাণ টেস্ট হয়েছিল ভারতে। তার বিপরীতে সংক্রমণ আগের দিনের তুলনায় এমনিতেও বাড়ত। কিন্তু দেখা যাচ্ছে সেই বৃদ্ধিটা কমই। তবে দু’ দিন পর পর কমার পর দেশের সক্রিয় রোগীর সংখ্যায় ফের কিছুটা বৃদ্ধি এসেছে। যদিও সুস্থতার হারে আরও কিছুটা বৃদ্ধি এসেছে।

Loading videos...

কিছুটা বাড়ল নতুন সংক্রমণ

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের (Ministry of Health and Family Welfare) তথ্য অনুযায়ী বৃহস্পতিবার ভারতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২ কোটি ৩৭ লক্ষ ৩ হাজার ৬৬৫। গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৩ লক্ষ ৬২ হাজার ৭২৭ জন।

স্বস্তির বিষয়টি হল, সংক্রমণের হার যেটা গত সপ্তাহতেও ২২ শতাংশের ওপরে ছিল, সেটা এখন অনেকটাই কমেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে ১৮ লক্ষ ৬৪ হাজার ৫৯৪টি টেস্ট হয়েছে। এর বিচারে দেখতে গেলে সংক্রমণের হার ছিল ১৯.৪৫ শতাংশ।

তবে অনেক সময় দেখা যায় যে আগের দিনের টেস্টের বিপরীতে সংক্রমণের হিসেবটি পরের দিন প্রতিফলিত হয়। সে বিচারে দেখতে গেলে এ দিন প্রকৃত সংক্রমণের হার ছিল ১৮.২৮ শতাংশ। কারণ আগের দিন টেস্ট হয়েছিল ১৯ লক্ষ ৮৩ হাজার ৮০৪টি। যে হিসেবই দেখা হোক না কেন, ভারত সংক্রমণের হার এখন কুড়ি শতাংশের নীচে চলে এসেছে। কিছু দিন আগেই এই হার ২৩-২৪ শতাংশে চলে গিয়েছিল।

এ দিন ভারতে সক্রিয় রোগী রয়েছেন ৩৭ লক্ষ ১০ হাজার ৫২৫ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে সক্রিয় রোগী বেড়েছে ৬ হাজার ৪২৬ জন। বর্তমানে দেশে ১৫.৬৫ শতাংশ কোভিডরোগী চিকিৎসাধীন।

সংক্রমণ কোথায় কেমন

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ২৪টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে দৈনিক সংক্রমণ এক হাজারের বেশি ছিল। তবে স্বস্তির বিষয় হল, কিছু দিন আগেও ১৫টি রাজ্যে সংক্রমণ পাঁচ সংখ্যায় থাকলেও বর্তমানে সেটা ১৩টি রাজ্যে নেমে এসেছে। অল্প কিছু দিনের মধ্যে আরও দুএকটি রাজ্যেও সংক্রমণ চার সংখ্যায় নামবে বলে আশা করা যায়।

তবে উল্লেখযোগ্য ব্যাপার হল দক্ষিণ ভারত, পাহাড়ি রাজ্যগুলি এবং পশ্চিমবঙ্গ বাদে দেশের সর্বত্র সংক্রমণ ক্রমশ নিম্নমুখী। গত ২৪ ঘণ্টায় সংক্রমণ কোথায় কেমন ছিল দেখে নিন।

১) মহারাষ্ট্র – ৪৬,৭৮১

২) কেরল – ৪৩,৫২৯

৩) কর্নাটক – ৩৯,৯৯৮

৪) তামিলনাড়ু – ৩০,৩৫৫

৫) অন্ধ্রপ্রদেশ – ২১,৪৫২

৬) পশ্চিমবঙ্গ – ২০,৩৩৭

৭) উত্তরপ্রদেশ – ১৮,০২৩

৮) রাজস্থান – ১৬,৩৮৪

৯) দিল্লি – ১৩,২৮৭

১০) হরিয়ানা -১২,৪৯০

১১) গুজরাত -১১,০১৭

১২) ওড়িশা – ১০,৯৮২

১৩) ছত্তীসগঢ় – ১০,১৫০

১৪) বিহার– ৯,৮৬৩

১৫) মধ্যপ্রদেশ – ৮,৯৭০

১৬) পঞ্জাব৮,২৭১

১৭) উত্তরাখণ্ড– ৭,৭৪৯

১৮) অসম – ৫,৬৫৭

১৯) হিমাচল প্রদেশ– ৪,৯৭৭

২০) তেলঙ্গানা – ৪,৭২৩

২১) জম্মু-কাশ্মীর – ৪,৫০৯

২২) ঝাড়খণ্ড – ৪,৩৬২

২৩) গোয়া – ২,৮৬৫

২৪) পুদুচেরি – ২,০০৭

সুস্থতা সাড়ে তিন লক্ষের বেশি

গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থতার সংখ্যাটি তার আগের ২৪ ঘণ্টার থেকে একটু কম ছিল। তাই বেশ কয়েকটি রাজ্যে সক্রিয় রোগী কমলেও, সামগ্রিক ভাবে গোটা দেশে সক্রিয় রোগীর সংখ্যাটা বেড়েছে। যদিও সুস্থতার হার বেড়েছে।

গত এক দিনে সুস্থ হয়েছেন ৩ লক্ষ ৫২ হাজার ১৮১ জন। এর ফলে দেশে এখনও পর্যন্ত সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১ কোটি ৯৭ লক্ষ ৩৪ হাজার ৮২৩ জন। দেশে সুস্থতার হার বর্তমানে রয়েছে ৮৩.২৫ শতাংশ। পর পর চার পাঁচ দেশে সুস্থতার হার বৃদ্ধি পেয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থতার নিরিখে সবার ওপরে যে ১০টি রাজ্য ছিল সেগুলি হল মহারাষ্ট্র (৫৮,৮০৫), কেরল (৩৪,৬০০), উত্তরপ্রদেশ (২৭,১৩৯), কর্নাটক (৩৪,৭৫২), তামিলনাড়ু (১৯,৫০৮), পশ্চিমবঙ্গ (১৯,২৩১), অন্ধ্রপ্রদেশ (১৯,০৯১), গুজরাত (১৫,২৬৫) এবং হরিয়ানা (১৪,২৬৪) এবং দিল্লি (১৪,০৭১)।

গত ২৪ ঘণ্টায় মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশ, দিল্লি, বিহার, ঝাড়খণ্ড, হরিয়ানা, গুজরাত এবং তেলঙ্গানায় সক্রিয় রোগী কমেছে।

মৃত্যুর সংখ্যা সামান্য কমল

মৃত্যুহারে কোনো পরিবর্তন নেই। সেই বাড়ছেও না। কিন্তু সংক্রমণ এতটাই বেশি হচ্ছে যে মৃতের সংখ্যাও খুব বেশি রেকর্ড করা হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে মারা গিয়েছেন ৪,১২০ জন। দৈনিক মৃত্যুহার গত ২৪ ঘণ্টায় ছিল ১.১৩ শতাংশ।

দেশে এখনও পর্যন্ত কোভিডের কারণে মৃত্যু হয়েছে মোট ২ লক্ষ ৫৮ হাজার ৩১৭ জনের। সামগ্রিক মৃত্যুহার ১.০৯ শতাংশে রয়েছে।

আরও পড়তে পারেন India Pakistan Relations: সংযুক্ত আরব আমিরশাহি আর সৌদি আরবের মধ্যস্থতাতেই ভারত-পাকিস্তানের সম্পর্কের উন্নতি?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.