খবর অনলাইন ডেস্ক: কোভিড -১৯ (Covid-19)-এর তীব্রতা হ্রাসের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেশ কয়েকটি রাজ্য নাইট কারফিউ-সহ কঠোর বিধিনিষেধ জারি করেছে। এমনকী করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে লকডাউনের মতো সিদ্ধান্তও নিয়েছে।

কোনো রাজ্য কী পদক্ষেপ নিয়েছে?

Loading videos...

কর্নাটক

ভার্চুয়াল বৈঠকে রাজ্যপালের সঙ্গে কয়েক ঘণ্টা আলোচনার পরে, মঙ্গলবার রাত থেকে কর্নাটকে জারি হয়েছে নাইট কারফিউ। যা ২১ এপ্রিল থেকে আগামী ৪ মে পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। নাইট কারফিউ চলাকালীন রাত ৯টা থেকে পর দিন ৬টা পর্যন্ত অত্যাবশ্যকীয় কাজ ছাড় কেউ বাইরে বেরোতে পারবেন না। পাশাপাশি প্রতি সপ্তাহান্তে শুক্রবার রাত ৯টা থেকে সোমবার সকাল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করেছে কর্নাটক সরকার। অন্যদিকে বেঙ্গালুরু, মায়সোর, মেঙ্গালোর, কালাবুরগি, বিদর, তুমকুর এবং উদুপি-মণিপালে রাত ১০টা থেকে পর দিন সকাল ৫টা পর্যন্ত নাইট কারফিউ।

দিল্লি

সংক্রমণের তীব্রতা রোধে দিল্লি সরকার পরের সোমবার পর্যন্ত এক সপ্তাহব্যাপী লকডাউন জারি করেছে। সোমবার দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং উপ-রাজ্যপাল অনিল বৈজলের মধ্যে বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২৬ এপ্রিল সকাল ৫টা অবধি কার্যকর থাকবে লকডাউন। মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেছেন, ওষুধ, মুদি, ফলমূল ও শাকসবজি, দুধ, মাংস ও মাছ বিক্রেতাদের ই-পাস দেওয়া হবে। ব্যাঙ্ক, টেলিকম / ইন্টারনেট পরিষেবা, প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ, পেট্রোল পাম্পে কর্মরত অথবা যাঁরা টিকাকরণে যুক্ত, তাঁদের ছাড় দেওয়া হবে।

মহারাষ্ট্র

সংক্রমণ ক্রমশ বাড়ছে,যার জেরে আইসিইউ বেড এবং মেডিক্যাল অক্সিজেনের মতো চিকিৎসা সরঞ্জামের তীব্র ঘাটতির মুখোমুখি মহারাষ্ট্র। ১৪ এপ্রিল থেকে ১ মে পর্যন্ত রাজ্যব্যাপী কারফিউ ঘোষণা করা হয়েছে। জমায়েত ঠেকাতে, রাজ্য জুড়ে সিআরপিসির ১৪৪ ধারা জারি হয়েছে। অত্যাবশ্যকীয় নয়, এমন পরিষেবা বন্ধ থাকবে। তবে হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ক্লিনিক, টিকাকরণ, মেডিকেল ইন্স্যুরেন্স অফিস, ফার্মাসি, ফার্মাসিউটিক্যাল সংস্থা, অন্যান্য চিকিৎসা এবং স্বাস্থ্য পরিষেবাগুলি চালু থাকবে। বিমান পরিবহণ, ট্রেন, ট্যাক্সি, অটো এবং পাবলিক বাসগুলির মতো গণপরিবহণ ৫০ শতাংশ যাত্রী নিতে পারবে।

উত্তরপ্রদেশ

সোমবার, এলাহাবাদ হাইকোর্ট উত্তরপ্রদেশ সরকারকে এলাহাবাদ, লখনউ, বারাণসি, কানপুর শহর এবং গোরখপুরে এক সপ্তাহের লকডাউন জারির নির্দেশ দিয়েছে। তবে, রাজ্য সরকার এই আদেশটি কার্যকর করতে অস্বীকার করে বলেছিল যে, “এখনই কোনো শহরে সম্পূর্ণ লকডাউন চাপিয়ে দেওয়া হবে না।” এর আগে, উত্তরপ্রদেশ সরকার শনিবার রাত ৮ টা থেকে সোমবার সকাল ৭টা পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে ৩৫ ঘণ্টার কারফিউ ঘোষণা করেছিল। সাধারণ মানুষকে মাস্ক ব্যবহারে সচেতন করতে শাস্তিমূলক নিয়ম ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। মাস্ক না পরলে এক হাজার টাকা, একই অপরাধে দ্বিতীয় বার ধরা পড়লে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কেরল

রাজ্যে নাইট কারফিউ জারি করার একদিন পর, কেরল সরকার মঙ্গলবার এরনাকুলাম জেলার সমস্ত কনটেন্ট জোনগুলিতে সম্পূর্ণ লকডাউন ঘোষণা করেছে। জেলা কালেক্টর এস সুহাস এই ঘোষণা করেছেন। বলা হয়েছে, বুধবার থেকে সকাল ৭টা থেকে সাত দিনের জন্য জেলায় সম্পূর্ণ লকডাউন বাস্তবায়ন করা হবে। পাশাপাশি সোমবার (২০ এপ্রিল) রাত ৯ টা থেকে সকাল ৫টা পর্যন্ত নাইট কারফিউ-সহ কোভিড বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। মল এবং সিনেমাগুলি শুধুমাত্র সন্ধ্যে সাড়ে ৭টা পর্যন্ত চলতে পারে। তবে, টিউশন সেন্টার অনলাইনে চলবে।

পঞ্জাব

করোনা সংক্রমণ হঠাৎ করেই বেড়ে যাওয়ায় পঞ্জাব মঙ্গলবার রাত ৮টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে নাইট কারফিউ জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কোচিং ইনস্টিটিউট, জিম, বার এবং সিনেমাগুলি ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। বিবাহ-সহ অন্যান্য অনুষ্ঠানে ২০ জনের বেশি জড়ো হওয়া নিষিদ্ধ। অন্য রাজ্য থেকে আসা লোকদের বাধ্যতামূলক ভাবে একটি আরটি-পিসিআর নেগেটিভ রিপোর্ট দেখাতে হবে। হোটেল, রেস্তোঁরা ও খাওয়ার জায়গাগুলি রবিবার বন্ধ থাকবে এবং সপ্তাহের অন্যান্য দিনগুলিতে খোলার অনুমতি দেওয়া হবে।

রাজস্থান

রাজস্থানে ইতিমধ্যেই সপ্তাহান্তে কারফিউ জারি হয়েছিল। এখন দৈনিক সংক্রমণ ১০ হাজারের উপরে উঠে যাওয়ায় কারফিউ-র মেয়াদ আরও তিন সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে। এটিকে ‘জন অনুশাসন পাখোয়ার’ হিসাবে অভিহিত করে সরকার বলেছে, রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারি অফিস, স্বাস্থ্যসেবা, মন্দির, মুদি, দুধের দোকান, রেশন দোকান ইত্যাদির মতো প্রয়োজনীয় পরিষেবাগুলি খোলা থাকবে এবং অত্যাবশ্যকীয় নয় এমন বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে।

ছত্তীসগঢ়

অল ইন্ডিয়া রেডিওর খবরে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ছত্তীসগঢ় সরকার আটটি জেলায় সম্পূর্ণ লকডাউন ঘোষণা করেছে। রাজ্য এরই মধ্যে রাজধানী রায়পুর এবং পার্শ্ববর্তী দুর্গ জেলায় লকডাউন জারি হয়েছে। রবিবার থেকে যশপুর, কোরিয়া এবং বালোদবাজারেও পুরো লকডাউন হবে। রায়পুরে লকডাউন শুরু হয়েছিল ৯ এপ্রিল, যা ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। লকডাউন চলাকালীন জেলার সীমানা পুরোপুরি সিল করে দেওয়া হয়েছে। ওষুধের দোকান ছাড়া মদের দোকান ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান-সহ সমস্ত দোকান বন্ধ রয়েছে।

জম্মু ও কাশ্মীর

সংক্রমণ দ্রুত গতিতে বাড়ছে, এমন আটটি জেলার শহরাঞ্চলে নাইট কারফিউ চালু রয়েছে। এই জেলাগুলি হল জম্মু, উধমপুর, কাঠুয়া, শ্রীনগর, বারমুলা, বাডগাম, অনন্তনাগ এবং কুপওয়ারা।

গুজরাত

গুজরাত সরকার ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত রাজ্যের ২০টি শহরে রাত ৮টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত নাইট কারফিউ জারি করেছে। শহরগুলি হল অমদাবাদ, সুরত, ভদোদরা, রাজকোট, জামনগর, ভাওয়ানগর, জুনাগড়, গান্ধীনগর, আমরেলি, আনন্দ, নদিয়াদ, মেহসানা, মোরবি, দহোদ, পাতান, গোধরা, ভুজ, গান্ধীধাম, ভুরুচ, এবং সুরেন্দ্রনগর। রাজ্যে আগতদের জন্য আরটি-পিসিআর নেগেটিভ রিপোর্ট বাধ্যতামূলক। সরকারি অফিসগুলি সপ্তাহে পাঁচ কাজ করবে।

হরিয়ানা

হরিয়ানায় রাত ১০টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত রাজ্যে নাইট কারফিউ জারি হয়েছে। সমস্ত স্কুল-কলেজও ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। তবে, মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী মনোহরলাল খট্টর এবং স্বরাষ্ট্র দফতরের মন্ত্রী অনিল বিজ উভয়েই রাজ্যে লকডাউন জারির বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

ওড়িশা

ওড়িশার ১০ জেলায় ৫ এপ্রিল থেকে নাইট কারফিউ চলছে। রাজ্য সরকার সুন্দরগড়, ঝাড়সুগুদা, সম্বলপুর, বারগড়, বোলাঙ্গির, নুয়াপাডা, কালাহান্ডি, নওরঙ্গপুর, কোরাপুট ও মালকানগিরি জেলায় নাইট কারফিউ জারি করেছে।

ঝাড়খণ্ড

বেশ কিছু ক্ষেত্রে ছাড়-সহ আট দিনের লকডাউন ঘোষণা করেছে ঝাড়খণ্ড সরকার। মঙ্গলবার সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবা, খনি, কৃষি, নির্মাণ কাজে ছাড় দেওয়ার পাশাপাশি এ বারের লকডাউনে ধর্মীয়স্থানগুলি খোলা রাখার অনুমতিও দেওয়া হয়েছে। তবে বড়ো জমায়েতে অনুমতি দেওয়া হবে না। সরকারি ভাবে ঘোষণা করা হয়েছে, আগামী ২২ এপ্রিল থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত লকডাউন কার্যকর থাকবে।

*সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.