BJP And CPIM

কলকাতা: ত্রিপুরার বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে রাতের ঘুম ছুটেছিল আগেই। গত বৃহস্পতিবার উলুবেড়িয়া লোকসভা এবং নোয়াপাড়া বিধানসভার উপনির্বাচনের ফলাফল সিপিএম নেতৃত্বের রাত-দিন প্রায় এক করে ফেলল।

ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, গত ২০১৪ লোকসভা নির্বাচনে উলুবেড়িয়ায় তৃণমূল, সিপিএম এবং বিজেপির প্রাপ্ত ভোটের শতাংশ হার ছিল যথাক্রমে ৪৮.১, ৩১.১ এবং ১১.৫। সেই জায়গা থেকে মাত্র চার বছরেই ছবিটা যে এতটা বদলে যাবে তা ঘূণাক্ষরেও ভাবেনি সিপিএম। এ বার উপনির্বাচনে তৃণমূল, বিজেপি এবং সিপিএমের সেই প্রাপ্ত ভোটের হার দাঁড়িয়েছে ৬১, ২৩.২ এবং ১১ শতাংশ। অর্থাৎ সিপিএমের জায়গা (দ্বিতীয় স্থান) বিজেপি তো দখল করেইছে, তার পাশাপাশি সিপিএমের প্রাপ্ত ভোটের হার কমেছে এক ধাক্কায় ২০.১ শতাংশ।

নোয়াপাড়া নিয়ে পৃথক পরিসংখ্যান দেওয়ার উপায় নেই। কারণ গত ২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনে ওই কেন্দ্রে বামেরা পৃথক প্রার্থী দেয়নি। তবে এ বারের নির্বাচনে সিপিএমের প্রাপ্ত ভোট মাত্র ১৯ শতাংশ। এই বিষয়টিও কম পীড়াদায়ক নয় সিপিএমের কাছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষণের প্রয়োজন নেই, খোলা চোখেই দেখা গিয়েছে, সিপিএমের ভোট ব্যাঙ্কে থাবা বসিয়েছে বিজেপি। উপনির্বাচনে শাসক দল বাড়তি ‘অ্যাডভান্টেজ’ পাবে, তা তো নতুন করে বলার নয়। কিন্তু বঙ্গ রাজনীতিতে বিজেপির এই আচমকা উত্থানের ছাপ যে ত্রিপুরা ভোটেও পড়বে, তা নিয়ে নিশ্চিত আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের ম্যানেজাররাও। তাঁদের মাথায় এখন একটাই কথা ঘুরপাক খাচ্ছে, বাংলার ২০১১ সালের পুনরাবৃত্তি ২০১৮-তে ত্রিপুরাতে ঘটে যাবে না তো?

গত ৩০ জানুয়ারি ত্রিপুরায় একাধিক সভা করে বাংলায় ফিরেছেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু। তিনি ফেরার পরই ৩১ জানুয়ারি সে রাজ্যে সভা করেন সিপিএমের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র। পর দিনই দলীয় বার্তা পৌঁছে দিতে ত্রিপুরা যান উলুবেড়িয়ার আটবারের প্রাক্তন সাংসদ হান্নান মোল্লা। যাওয়ার তালিকায় রয়েছেন পলিটব্যুরো সদস্য মহম্মদ সেলিমের নাম। উপনির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর সেই তালিকা ক্রমশ দীর্ঘায়িত হচ্ছে। অঘটনের আগাম আশঙ্কাবার্তা পেয়ে আপৎকালীন এই ব্যবস্থা কি আদৌ বাঁচাতে পারবে বিজেপির দংশন থেকে? সেই প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজছে কলকাতা থেকে আগরতলা প্রায় দেড় হাজার কিমির পথ!

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন