নিজস্ব প্রতিনিধি, গুয়াহাটি: বিতর্কিত জাতীয় নাগরিকপঞ্জী নিয়ে অসমের ধৰ্মীয় এবং ভাষিক সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মধ্যে তীব্ৰ প্ৰতিক্ৰিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। নাগরিকপঞ্জীর দ্বিতীয় খসড়া তালিকার সময়সীমা এক মাস বাড়িয়ে ৩০ জুলাই পর্যন্ত করা, প্ৰথম খসড়ার এক কোটি ৯০ লক্ষ নামের মধ্যে থেকে নতুন করে এক লক্ষ ৩৫ হাজার মানুষের নাম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত এবং এই সংক্রান্ত একটি নোটিফিকেশনকে সুপ্রিম কোৰ্ট মান্যতা দেওয়ায় এই ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এই প্রসঙ্গে অসমের  বিভিন্ন সংগঠন গভীর উদ্বেগ প্ৰকাশ করেছে। নাগরিক অধিকার সুরক্ষা সমিতি (সিআরপিসি) অভিযোগ করেছে, “রাজ্যের ভাষিক এবং ধৰ্মীয় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী বিশেষ করে বাংলাভাষী মানুষকে ভয়ংকর বিপদের মধ্যে পড়তে হবে। দেশের শীৰ্ষ আদালতে বিচার পাওয়া গেল না। এখন রাষ্ট্রপুঞ্জ বা আন্তৰ্জাতিক আদালতের দ্বারস্থ হওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই।”

বরাক উপত্যকার বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব তথা আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্ৰাক্তন উপাচাৰ্য তপোধীর ভট্টাচাৰ্য বলেন, “সুপ্রিম কোৰ্টের সিদ্ধান্তের ফলে ৩০ জুলাই নাগরিকপঞ্জীর দ্বিতীয় খসড়া তালিকা প্রকাশিত হবে। বাঙালিদের সৰ্বানাশ হবে। বাঙালির জাতীয় জীবনে দেশ ভাগের চেয়েও ভয়ংকর সৰ্বনাশের মুখোমুুখি হতে হবে। সাধারণ মানুষকে সংঘবদ্ধ করে, আইন ও সংবিধান বিশেষজ্ঞদের নিয়ে দ্ৰুত পরামৰ্শ সভা করে, সাংসদদের সঙ্গে যোগাযোগ করে এর মোকাবিলা করতে হবে।”

সুপ্রিম কোৰ্ট নির্দেশ দিয়েছে, ‘ডি’ ভোটারদের পরিবার পরিজন, বিদেশি ট্ৰাইব্যুনালে বিচারাধীন ব্যক্তিদের সন্তান-সন্ততিদের নামও তালিকা থেকে বাদ দিতে হবে। নাগরিক অধিকার সুরক্ষা সমিতির অভিযোগ, “এই সব অমানবিক, গণতন্ত্ৰ বিরোধী নির্দেশকে কাজে লাগিয়ে রাজ্যের সংখ্যালঘু মানুষের অধিকারকে খর্ব করা হবে।”

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন