নয়াদিল্লি: তেজবাহাদুর যাদবের পর এ বার জিৎ সিংহ। তাঁদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ করে এবং তার বিচারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়ে ভিডিও পোস্ট করলেন এই সিআরপিএফ জওয়ান।

এই ভিডিওটি অবশ্য নতুন নয়। প্রায় দু’মাস আগে এটা তুলেছিলেন জিৎ। তেজবাহাদুরের ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পরই এই ভিডিওটি পোস্ট করেছেন তিনি। ভারতীয় সেনাবাহিনীর তুলনায় অন্যান্য আধাসেনার প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের প্রসঙ্গেএনেছেন জিৎ। তবে কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করেননি তিনি।

ভিডিওতে তিনি বলেছেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে আমি একটি আবেদন জানাচ্ছি। আমরা সিআরপিএফ জওয়ানরা দেশের জন্য কম কিছু করি না। মন্দির-মসজিদ-গির্জা রক্ষা, লোকসভা, বিধানসভা, এমনকি গ্রাম পঞ্চায়েতের নির্বাচন সামলানো, ভিআইপিদের নিরাপত্তা দেখা — এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে আমাদের কোনো অবদান নেই।”

এর পরই সেনা জাওয়ানদের প্রসঙ্গ এনে তিনি বলেন, “তবুও সেনা জওয়ানদের যে সুযোগসুবিধা দেওয়া সেটা আপনারা শুনলে চমকে উঠবেন। সেনা জওয়ানরা যে সব কল্যাণমূলক সুযোগসুবিধা পান আমরা তা পাই না, সময়ে ছুটি পাই না। ওঁরা পেনশন পান, আমাদের সেটা নেই। আমাদের কোনো ‘এক্স সার্ভিসম্যান’ কোটা নেই, চিকিৎসাসংক্রান্ত কোনো সুযোগসুবিধাও পাই না। প্রধানমন্ত্রীকে বলতে চাই দেশের সরকারি শিক্ষক-শিক্ষিকা যেখানে মাসে পঞ্চাশ থেকে ষাট হাজার টাকার বেতন পান, তার ওপর কত ছুটি পান, অথচ আমরা পড়ে থাকি কাশ্মীরের পাহাড়ে বা ছত্তিসগঢ়-ঝাড়খণ্ডের জঙ্গলমহলে।”

এর পাশাপাশি জওয়ান দাবি করেন, সেনা জওয়ানদের প্রতি তাঁর কোনো ক্ষোভ নেই, সিআরপিএফ জওয়ানদের জন্য শুধু প্রাপ্য সম্মানটুকু চান তিনি। তাঁর কথায়, “সেনা জওয়ানরা সব সুযোগসুবিধা পান, কিন্তু আমাদেরও তো পাওয়া উচিত।” এর পর এই ভিডিওটি শেয়ার করার আবেদন জানিয়ে তাঁর বক্তব্য শেষ করেন জিৎ।

তেজবাহাদুরের দাবি বিএসএফ নস্যাৎ করলেও, সিআরপিএফ কিন্তু সেই পথে হাঁটেনি। বরং জওয়ানদের ক্ষোভ প্রশমন করার জন্য যাবতীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান সিআরপিএফের ডিরেক্টর জেনারেল কে দুর্গা প্রসাদ। তিনি বলেন, “ইনস্পেক্টর পদমর্যাদার একজন অফিসার জিতের সঙ্গে দেখা করেছেন। আমরা আগেও বলেছি জওয়ানদের মধ্যে যদি কোনো বিষয় কোনো ক্ষোভ থাকে তা হলে সেটা কমানোই আমাদের প্রধান দায়িত্ব।”

অন্য দিকে, জওয়ানদের অবস্থার উন্নতির জন্য সরকার পদক্ষেপ করছেন বলে জানান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী  কিরেন রিজিজু। তাঁর কথায়, “আমরা এই ব্যাপারগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি। জওয়ানদের দিকে নজর দেওয়া সরকারের প্রধান দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। এ রকম ঘটনা যাতে ভবিষ্যতে না ঘটে সে দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে।”

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here