cyclone gaja
গজ'র তাণ্ডব

চেন্নাই: ঘণ্টায় ১১০ থেকে ১২০ কিমি হাওয়ার গতিবেগ নিয়ে উপকূল তামিলনাড়ুতে আছড়ে পড়ল ঘূর্ণিঝড় ‘গজ’ (নামটি শ্রীলঙ্কার দেওয়া, এর অর্থ হাতি)। এর ফলে এখনও পর্যন্ত ১১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। তছনছ হয়ে গিয়েছে নাগপত্তিনম-সহ রাজ্যের কয়েকটি উপকূল শহর।

বৃহস্পতিবার রাত বারোটার পর থেকে নাগপত্তিনমের কাছে বেদারণ্যে প্রথম আঘাত হানে এই ঘূর্ণিঝড়। শুক্রবার ভোর ১:৪০ নাগাদ ‘গজ’র চোখ (আই অফ দ্য সাইক্লোন) নাগাপত্তিনমের ওপর দিয়ে অতিক্রম করতে শুরু করে। ‘চোখ’টি অতিক্রমের সময়ে কিছুক্ষণের জন্য হাওয়ার গতিবেগ কম ছিল। তবে আবার তা বাড়ে। ভোর চারটে নাগাদ, বঙ্গোপসাগর ছেড়ে পুরো ঝড়টিই স্থলভূমিতে প্রবেশ করে।

উল্লেখ্য, পূর্বাভাসের থেকে বেশি শক্তি নিয়েই তামিলনাড়ুতে আছড়ে পড়ে ‘গজ’। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছিল মামুলি ঘূর্ণিঝড় হিসেবেই উপকূলে আঘাত হানবে ‘গজ’। কিন্তু আদতে দেখা গেল প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিয়েই আঘাত করল।

আরও পড়ুন বাপরে এত! গভীর নিম্নচাপের নিরিখে রেকর্ড করার পথে ২০১৮

গজ আঘাত হানার আগে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল তামিলনাড়ু প্রশাসনের তরফে। নাগপত্তিনম, পুদুকোট্টাই, রামনাথপুরম, তিরুভারুর-সহ রাজ্যের ছ’টি জেলার উপকূলবর্তী অঞ্চল থেকে ৭৬,২৯০ জনকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনশোটি ত্রাণ শিবিরে তাঁদের আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। তবুও প্রাণহানি এড়ানো গেল না।

ঝড়ের পাশাপাশি এই সব জেলায় প্রবল বৃষ্টিও হচ্ছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। তবে শুধু উপকূলবর্তীই নয়, গোটা তামিলনাড়ুতেই ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পার্বত্য অঞ্চলে তুলনায় অনেক বেশি বৃষ্টি হবে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

ঘূর্ণিঝড় তামিলনাড়ু উপকূল দিয়ে প্রবেশ করলেও, কেরলেও এর প্রভাব থাকবে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা দক্ষিণ এবং মধ্য কেরলের ব্যাপক বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here