ওয়েবডেস্ক: মে মাস দেখেছিল ফণী। জুন আসতেই এ বার বায়ুর হুংকার। ফণীর লক্ষ্য ছিল পূর্ব উপকূল আর বায়ুর লক্ষ্য পশ্চিম। অতি শক্তিশালী রূপ ধারণ করে গুজরাত উপকূলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ঘূর্ণিঝড় বায়ু, আর তার জেরে সে রাজ্যে ফিরে আসছে ১৯৯৮ সালের ভয়বাহ সেই স্মৃতি।

বুধবার সকালে কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতরের তরফ থেকে প্রকাশিত রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই মুহূর্তে প্রবল অতি শক্তিশালী রূপ ধারণ করেছে ঘূর্ণিঝড় বায়ু। বর্তমানে তার অবস্থান গুজরাত উপকূলের ভেরাবল থেকে ৩৮০ কিমি দক্ষিণ এবং মুম্বই থেকে ২৯০ কিমি পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে। বর্তমানে তার হাওয়ার সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৩৫ কিমি। আবহাওয়া দফতর থেকে জানানো হয়েছে, এটি আরও শক্তি বৃদ্ধি করে এগোবে গুজরাতের দিকে।

বৃহস্পতিবার সকাল নাগাদ এটি দিউ উপকূল দিয়ে গুজরাতে ঢুকতে পারে। স্থলভাগে আছড়ে পড়ার সময়ে তার গতিবেগ হবে ঘণ্টায় ১৬৫ কিমি। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় কোথায় আছড়ে পড়বে, সেই ব্যাপারে একটু ভিন্নমতও আছে। বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থা ওয়েদার আল্টিমা জানাচ্ছে, বায়ু আর একটু পশ্চিম ঘেঁষে বেরোবে। ফলে সরাসরি স্থলভূমিতে আঘাত নাও হানতে পারে সে।

যদিও ঘূর্ণিঝড় কতটা শক্তিবৃদ্ধি করতে পারে, সেটা সব থেকে আগে জানিয়েছিল ওয়েদার আল্টিমাই। কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতর মঙ্গলবার পর্যন্তও জানাচ্ছিল বায়ু শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ই থাকবে, অতি শক্তিশালী হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই। যদিও ওয়েদার আল্টিমা সোমবার থেকেই বলে আসছে এই ঝড় অতি শক্তিশালীই হবে। যদিও শেষ মুহূর্তে কিছুটা দুর্বল হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে এই ঝড়ের।

এই ঝড় গুজরাতের দিকে এগোতেই ফিরে আসছে ১৯৯৮ সালের একটি ভয়াবহ স্মৃতি। সাধারণত ভারতের পশ্চিম উপকূলকে পূর্ব উপকূলের মতো ঘূর্ণিঝড়ের মুখে পড়তে হয় না। কিন্তু সাম্প্রতিক কালের অন্যতম ধ্বংসাত্মক ঘূর্ণিঝড় গুজরাতেই হয়েছিল। ১৯৯৮ সালে সেই ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়েছিল পোরবন্দরে। আছড়ে পড়ার সময়, তারও ঘণ্টায় সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ১৬৫ কিমি। সেই ঝড়ের মৃত্যু হয়েছিল দশ হাজার মানুষের।

আরও পড়ুন বাঁকুড়া সম্মিলনী কলেজ জুনিয়র ডাক্তারদের কর্মবিরতি, পালটা পথ অবরোধ

আগাম পূর্বাভাস না পেয়েই এত সংখ্যক মানুষ মারা গিয়েছিলেন সেটা নিশ্চিত। সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয়, সে জন্য এখন থেকেই সতর্ক গুজরাত সরকার এবং কেন্দ্র। দশ কলম সেনা গুজরাতের বিভিন্ন উপকূলবর্তী অঞ্চলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। কচ্ছ, দেবভূমি, জামনগর, পোরবন্দর, দিউ, গির, সোমনাথ, আমরেলি এবং ভাবনগর জেলায় সব থেকে বেশি প্রভাব পড়তে পারে এই ঝড়ের। ফলে এই সব জেলার উপকূলবর্তী অঞ্চল থেকে মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। গিরের জঙ্গলের দিকেও বিশেষ নজরদারি চালানোর কথা জানানো হয়েছে। এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বিপন্ন হতে পারে সিংহের জীবন।

তবে কিছুটা খুশির খবরও সঙ্গে নিয়ে আসছে বায়ু। পর্যাপ্ত বৃষ্টির অভাবে এ বার গুজরাতে ব্যাপক জলসংকট। সেই গুজরাতেই আগামী কয়েক দিন ভারী থেকে অতি ভারী, এমনকি চরম অতি ভারী বৃষ্টিরও সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। ফলে জলের হাহাকার কিছুটা দূর হতে পারে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here