'd' voters in assam

নিজস্ব প্রতিনিধি, গুয়াহাটি: ‘ডি’ ভোটারের নামে হেনস্থা ঘটেই চলেছে অসমে। অসম বিধানসভার প্ৰথম উপাধ্যক্ষ মৌলবী মহম্মদ আমিরউদ্দিনের বংশধরদের নামে বিদেশি ট্ৰাইব্যুনালের নোটিশ এসেছে। এঁদের বেশ কয়েক জনকে ‘ডি’ ভোটার বানানো হয়েছে।

আমিরউদ্দিনের ভাইপো হাবিবুল ইসলাম জানান, তাঁর চাচা মৌলবী মহম্মদ আমিরউদ্দিন ১৯৩৭ সাল থেকে ১৯৪৬ সাল পৰ্যন্ত অসম বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার পদে আসীন ছিলেন। তিনি ছিলেন পূৰ্ব নগাঁওয়ের নিৰ্দলীয় বিধায়ক। দেশ ভাগের সময় ভারতে অসমের অন্তর্ভুক্তির সমৰ্থনে গোপীনাথ বরদলৈয়ের আন্দোলনকে সমৰ্থন করেছিলেন। তাঁদের সেই আন্দোলনের জোরেই মুসলিম লীগের প্ৰয়াস ধাক্কা খায় এবং পূৰ্ব পাকিস্তানে অন্তর্ভুক্তি থেকে রক্ষা পায় অসম। হাবিবুল ইসলামের অভিযোগ, অসমের ক্ষেত্ৰে যাঁদের এত অবদান তাঁদের পরিবারের নামে ‘ডি’ ভোটারের নোটিশ পাঠিয়ে হেনস্থা করছে এনআরসি কৰ্তৃপক্ষ।

জানা গিয়েছে, ‘ডি’ ভোটারের সর্ব শেষ সংযোজন জনিয়া থানার এক পুলিশ অফিসার। শুক্রবার জানা গেল, তাঁর নামেও ‘ডি’ ভোটারের নোটিশ এসেছে। অভিযোগ আসছে সাদা কাগজে সিলমোহর ছাড়াই ‘ডি’ ভোটার লিখে নোটিশ দেওয়া হচ্ছে। ‘ডি’ ভোটারের নোটিশ পাঠানোর ব্যাপারে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী এবং পুলিশের একাংশের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।

১৯৯৭ সালে তদানীন্তন মুখ্য নিৰ্বাচনী কমিশনার টি এন শেসনের সময়ে রাজ্যে ডাউটফুল/ডিসপিউটেড অৰ্থাৎ ‘ডি’ ভোটারের সূত্ৰপাত হয়েছিল অসমে। জাতীয়তাবাদী সংগঠনগুলোর দাবি মেনে টি এন শেসন নিৰ্দিষ্ট কয়েক দিনের মধ্যেই লক্ষ লক্ষ সন্দেহজনক মানুষের নামের পাশে ‘ডি’ চিহ্নিত করে তাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার নিৰ্দেশ দিয়েছিলেন। নিৰ্বাচনী অফিসার-কৰ্মীরা তড়িঘড়ি করে চট্টোপাধ্যায়, ভট্টাচাৰ্য, দাস, মুখাৰ্জি, ব্যানাৰ্জি, হোসেইন, আলী, খান, চৌধুরী, লস্কর, বরভূইঞা প্ৰভৃতি ভাষিক ও ধৰ্মীয় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে রাতারাতি ‘ডি’ ভোটার বানিয়ে দেন। প্ৰাক্তন মুখ্যমন্ত্ৰী তরুণ গগৈ তাঁর ১৫ বছরের শাসনকালে ‘ডি’ ভোটার নির্মূল করার কোনো চেষ্টাই করেননি। অথচ তিনিও আজ বলছেন, ‘ডি’ ভোটারদের অধিকাংশ ভারতীয়। দোষারোপের আঙুল তুলছেন বিজেপির উপর।

‘ডি’ ভোটারের সংখ্যা বৰ্তমানে ১ লক্ষ ২৬ হাজার। সুপ্ৰিম কোৰ্ট ‘ডি’ ভোটারদের পরিবার পরিজন এবং সন্তানসন্ততিদের নামও এনআরসি তালিকা থেকে বাদ দিয়ে ট্ৰাইব্যুনালে নিস্পত্তি না হওয়া পৰ্যন্ত নামগুলি ‘হোল্ড’ করে রাখার নিৰ্দেশ দিয়েছে। ১ লক্ষ ২৬ হাজার ‘ডি’ ভোটারের গড়ে ৪-৫ জন করে পরিজন থাকলে সৰ্ব মোট সাড়ে চার-পাঁচ লক্ষ নাম এনআরসি তালিকা থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কা করছে আমসু এবং সারা আসাম বাঙালি যুব ছাত্ৰ ফেডারেশন।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here