dalits showing moustaches

গান্ধীনগর (গুজরাত) : এক সপ্তাহ আগে মার খেয়েছিল সম্পর্কিত দাদা, এ বার ব্লেড দিয়ে পিঠ চিরে দেওয়া হল ভাইয়ের। ঘটনাস্থল একই, কালোল তালুকের লিম্বোদর গ্রাম। অপরাধ একই, গোঁফ রাখা। অভিযোগের আঙুল উঠেছে উচ্চবর্ণের সেই দরবার সম্প্রদায়ের মানুষদের দিকে।

উল্লেখ্য, ঠিক দু’ দিন আগে একটি মন্দিরে গর্বা নাচ দেখার অপরাধে গুজরাতের আনন্দ জেলার বোরসাদ গ্রামে এক দলিত যুবককে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়। দলিতদের ওপর নানা ধরনের অত্যাচারের প্রতিবাদে বুধবার গান্ধীনগরে বিধানসভা ভবনের সামনে প্রতিবাদসভার আয়োজন করা হয়।

আরও পড়ুন: গোঁফ রাখা থেকে ঘোড়ায় চড়ে বিয়ে করতে যাওয়া, সবই দলিতদের কাছে ‘না’

১৭ বছরের কিশোর দিগন্ত মাহেইরা পরীক্ষা দিয়ে মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ স্কুল থেকে ফিরছিল। অজ্ঞাতপরিচয় দুই ব্যক্তি মোটরসাইকেলে এসে তার পিঠে ব্লেড চালিয়ে দেয়। দিগন্ত ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে জানায়, গত ২৫ সেপ্টেম্বর তার দাদা পীযূষ পারমারকে যখন রাজপুতরা মারধর করে তখন সে দাদার সঙ্গে ছিল। তারা সে দিন গর্বা নাচ দেখে বাড়ি ফিরছিল। পথে তার দাদাকে মারধর করা হয়। তার অপরাধ সে গোঁফ রাখে। দিগন্ত জানায়, সে দিনও তার ওপর আক্রমণ হয়েছিল। সেই ঘটনার পরে তফশিলি জাতি ও তফশিলি উপজাতি (অত্যাচার নিরোধক) আইনের ধারা মোতাবেক ২৭ সেপ্টেম্বর কালোল থানায় এফ আই আর করা হয়। কিন্তু ওই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কেউই গ্রেফতার হয়নি। জানা গেছে, প্রথম দিকে পুলিশ এফআইআর নিতেও অস্বীকার করেছিল। পীযূষ অভিযোগ করেন, দরবার সম্প্রদায়ের মানুষজন তার ওপর আক্রমণ চালিয়েছিল।

এ বার সেই গোঁফ রাখার অপরাধে পীযূষের সঙ্গি দিগন্তকে ছুরি মারা হল। দিগন্তের দিদি কাজল বলেন, “আমরা জানি না আক্রমণকারী দু’ জন কে। ও বাড়ি ফিরল, পিঠ দিয়ে রক্ত ঝরছে। ওর পিঠ ব্লেড দিয়ে চিরে দেওয়া হয়েছে। ওকে গান্ধীনগরে সিভিল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সাতটা সেলাই হয়েছে। খুব যন্ত্রণা হচ্ছে ওর।”

কাজল জানান, “প্রথম দিন ওকে মারধর করা হয়েছিল। আমরা এফআইআর করিনি, কারণ ও এখনও স্কুলে পড়ে। ওর ক্ষতি হতে পারে এই ভেবে এফআইআর করিনি। কিন্তু আর তো পারা যাচ্ছে না। আমরা আমাদের গ্রামে আর নিরাপদ নই।”

গান্ধীনগরের পুলিশ সুপার বীরেন্দ্রসিং যাদব জানান, কোনো পক্ষপাতিত্ব করা হচ্ছে না। ছেলেটিকে আক্রমণ করা হয়েছিল। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩২৬ ধারা অনুসারে এফআইআর করা হয়েছে।

গোঁফ রাখার ‘অপরাধে’ দিগন্তকে আক্রমণ লিম্বোদর গ্রামে তিন নম্বর ঘটনা। ২৫ সেপ্টেম্বর পীযূষকে মারধর করার পর ২৯ সেপ্টেম্বর ৩০ বছরের কুনাল মাহেইরাকে পেটানো হয়। কালোল তালুকের পুলিশ জানিয়েছে, মাহেইরার দাবি গোঁফ রাখার জন্য বাঘেলা নামের এক রাজপুত আর তার সঙ্গীরা তাকে লাঠি দিয়ে পেটাতে শুরু করে। আহত মাহেইরা গান্ধীনগর সিভিল হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়ে রবিবার বাড়ি আসে। কালোল তালুকের পুলিশ আধিকারিক বলেন, বাঘেলাকে রবিবার গ্রেফতার করা হয়েছে।

এই গোঁফ রাখা নিয়ে বৈষম্য আর হিংসার ঘটনায় প্রতিবাদ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় উঠেছে। গত ৩ দিনে প্রায় ১০০০ দলিত যুবক গোঁফ রেখে, সেলফি বা ছবি তুলে গলায় ‘আমি দলিত’ পোস্টার ঝুলিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করছে। নিজেদের প্রোফাইল পিকচার বানাচ্ছে, জানিয়েছেন দলিত যুবক গৌতম মাখওয়ানা। সানন্দের ৩০০ দলিত যুবক ‘আমি দলিত’ পোস্টার ঝুলিয়ে হোয়াটসঅ্যাপে পোস্ট করেছে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here