wedding

ওয়েবডেস্ক: তিন তালাক বিল নিয়ে এখনও দেশ জুড়ে তুলকালাম চলছে। তার মধ্যেই দেশের সব চেয়ে বড়ো মুসলিম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দারুল উলুম দেওবন্দ এক অদ্ভুত ফতোয়া জারি করল। সেই ফতোয়ায় মুসলিম নারীদের নির্দেশ দিয়েছে সংগঠন- তাঁরা যেন কোনো ব্যাঙ্ক কর্মচারীকে বিয়ে না করেন!

এমন অদ্ভুত ফতোয়া জারির পিছনে তুলে ধরা হয়েছে ইসলামের উপার্জন সংক্রান্ত নীতির কথা। সেই নীতি বলছে, সুদ ইসলামে ‘হারাম’ বা পাপ বলেই গণ্য হয়। এ দিকে, ব্যাঙ্কের উপার্জনের মূল মাধ্যমই হল ঋণগ্রহীতাদের সুদ। ফলে, ব্যাঙ্ক কর্মচারীরা বেতনও পান সেই সুদের অংশ থেকে। এ ভাবে দেখলে ইসলামের মতে এক ব্যাঙ্ক কর্মচারী এবং তাঁর পরিবার চলছেন হারামের পথে। তাঁদের জীবনযাত্রার সব কিছুই সে ক্ষেত্রে হয়ে উঠছে অপবিত্র।

যদিও একেবারে আচমকা এই ফতোয়া দারুল উলুম দেওবন্দ জারি করেনি। জানা গিয়েছে, এক ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি সম্প্রতি প্রশ্ন করেন সংগঠনকে- তিনি কি এমন এক পাত্রের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দিতে পারেন যাঁর পিতা অবসরপ্রাপ্ত ব্যাঙ্ক-কর্মচারী?

প্রশ্নটি রীতিমতো ভাবিয়ে তোলে সংগঠনকে। তবে দারুল উলুম দেওবন্দ সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করেনি। ওই ব্যক্তিকে স্পষ্টই জানিয়ে দেওয়া হয় যে এই বিয়ে না দেওয়াই উচিত। পাশাপাশি, দেশের সব মুসলিম নারীর জন্য এই ফতোয়া জারি করা হয়।

দারুল উলুম দেওবন্দের এই ফতোয়াকে স্বাগত জানিয়েছেন দেশের সব মুসলিম প্রতিষ্ঠানের মৌলবিরা। “ঠিক সিদ্ধান্তই গৃহীত হয়েছে। হারামের পথে চলেন, এমন মানুষের সঙ্গে সংসর্গ ছিন্ন করাই উচিত”, দাবি মজলিস-ইত্তেহাদ-এ-মিলাতের সাধারণ সম্পাদক ওথর ওসমানির। অন্য দিকে, মুসলিম স্কলার এবং গবেষক মৌলানা নাজিমুল ওজদির মত, “এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির উপার্জনের পথ বদল করা উচিত”!

কিন্তু, তাতেও বিতর্ক মেটে না। প্রশ্ন উঠতেই থাকে- প্রায় দেড় হাজার বছর আগে তৈরি এই ধর্মীয় এই নীতি কি আধুনিক যুগে মেনে চলা সম্ভব? না কি তৃতীয় বিশ্বের এই দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বহুল?

যাই হোক, এ সব বিতর্কে কান দিতে নারাজ দারুল উলুম দেওবন্দ। তাঁরা এই অশুদ্ধির যুগে ধর্মকে সব দিক থেকে রক্ষা করতে চাইছেন- এই তাঁদের বক্তব্য!

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন