RBI

ওয়েবডেস্ক: ন’ ঘণ্টা ধরে চলল। অবশেষে শেষ হল ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক বোর্ডের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। ওই বৈঠকে কী কথাবার্তা হল, কী সিদ্ধান্ত হল, তা  কিছুক্ষণের মধ্যেই জানানো হবে বলে আশা করা যায়। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের উপর কেন্দ্র তার দখলদারির মাত্রা কতটা বজায় রাখতে পারবে, সেটা স্পষ্ট হতে পারে বলে মনে হয়।

সোমবার সকালেই মুম্বইয়ে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের প্রধান কার্যালয়ে বৈঠক বসে। সন্ধ্যা পর্যন্ত বৈঠক চলে। বিকেল সোয়া পাঁচটায় বোর্ডের অন্যতম সদস্য সুধীর মানকড়কে আরবিআই ছেড়ে চলে যেতে দেখা যায়। তখন মনে হয়েছিল বৈঠক শেষ হয়েছে। কিন্তু তার পরেও কিছুক্ষণ বৈঠক চলে। শেষ পর্যন্ত সন্ধে ৭টা নাগাদ বৈঠক শেষ হয়।

ভোট-অর্থনীতি না কি ভবিষ্যৎ-মজবুত অর্থনীতি? সেই প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার আশায় আজ সেকেন্ড গুনছে দেশের আমজনতা। ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (আরবিআই)-এর ফি মাসের বৈঠক নিয়ে সাধারণের তেমন কোনো মাথাব্যথা না থাকলেও সোমবারের বৈঠক ভিন্ন মাত্রা যোগ করছে শুধুমাত্র ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের তাগিদেই।

ভিতরে ভিতরে আগুন ধিকিধিকি জ্বললেও কেন্দ্র-আরবিআই সংঘাত খুল্লমখুল্লা হয়ে গিয়েছে মাসখানেক ধরে। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের ডেপুটি গভর্নর বিরল আচার্যের ‘আরবিআইয়ের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ’ মন্তব্য নড়িয়ে দিয়েছে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের আগাপাশতলা। পালটা মন্তব্য করছেন মন্ত্রকের মন্ত্রী থেকে শুরু করে অর্থমন্ত্রকের অর্থনৈতিক বিষয়ক সচিব সুভাষচন্দ্র গর্গ । সরকারি চৌহদ্দির গণ্ডি ডিঙিয়ে সেই তরজা ক্রমশ বিস্তার লাভ করেছে রাজনৈতিক অঙ্গনেও।

আরও পড়ুন: মিটিংয়ের আগেই রয়টার্সের কাছে কেন্দ্রের চাপের কথা স্বীকার করলেন দুই আরবিআই বোর্ড সদস্য!

সেখান থেকেই উঠে আসে আরবিআইয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কেন্দ্রের একের পর অঙ্গুলিহেলনের কথা। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য আরবিআইয়ের উদ্বৃত্ত সঞ্চয় থেকে ১ লক্ষ কোটি থেকে ৩.৬ লক্ষ কোটি টাকার আবেদনের বিষয়টি। এ ব্যাপারে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির তরফে বলা হয়, ভোট রাজনীতির কথা মাথায় রেখেই এই বিপুল পরিমাণ অর্থের দাবি করছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। যদিও তার পরেই নিজেদের অবস্থান থেকে একশো আশি ডিগ্রি ঘুরে অর্থমন্ত্রকের অর্থনৈতিক বিষয়ক সচিব সুভাষচন্দ্র গর্গ একটি টুইটার পোস্টে এ ধরনের অভিযোগকে ভিত্তিহীন এবং ভুয়ো বলে দাবি করেন।

তবে গত রবিবারও প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরম বলেন, “মজুত থাকা অর্থের উপর নিয়ন্ত্রণ পেতে আরবিআই দখল করতে বদ্ধপরিকর কেন্দ্র। তথাকথিত যে বিষয়গুলি নিয়ে কেন্দ্র বিরোধিতা করছে তা অজুহাত মাত্র”।

আরও পড়ুন: সনিয়া নয়, কাপুর পরিবারের মেয়ে পছন্দ ছিল ইন্দিরার, কে সেই কন্যা?

একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, “বিশ্বের কোনো দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ককে পরিচালন পরিষদ চালায় না। কারণ আরবিআই গভর্নরকে কোনো বেসরকারি সংস্থা পরামর্শ দেবে, সেটা কখনোই হয় না। যে কারণে এই বৈঠক আরবিআইয়ের স্বাধিকার এবং ভারতীয় অর্থনীতির দিশা নির্ধারণের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন হয়ে উঠতে চলেছে।”

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here