লোকসভা নির্বাচনে সানি দেওলের প্রচারসঙ্গী দীপ সিধুর ইন্ধনেই লালকেল্লার হিংসা, দাবি কৃষক সংগঠনগুলির

0

খবরঅনলাইন ডেস্ক: মঙ্গলবার প্রজাতন্ত্র দিবসে লালকেল্লার প্রাঙ্গণ তথা সমগ্র দিল্লিতে যে হিংসাত্মক ঘটনা ঘটেছে, তাতে ষড়যন্ত্রের ছায়া দেখেছে কৃষক সংগঠনগুলি। ভারতীয় কিসান ইউনিয়ন (বিকেইউ)-এর প্রধান গুরনাম সিংহ চাঁদুনির দাবি, বিক্ষোভরত কৃষকদের হিংসায় ইন্ধন জুগিয়েছে পঞ্জাবি গায়ক তথা অভিনেতা দীপ সিধু (Deep Sidhu)।

চমকদপ্রদ ব্যাপার হল দীপ সিধুর নাম ছড়িয়ে পড়তেই তাঁর একাধিক পুরোনো ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভেসে ওঠে। ছবিগুলির কোনোটায় দেখা যায় ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে অভিনেতা তথা বিজেপি প্রার্থী সানি দেওলের সর্বক্ষণের প্রচারসঙ্গী হিসেবে কাজ করছেন দীপ। কোনো ছবিতে দেখা যায় বিজেপি নেতাদের সঙ্গে বেশ ঘনিষ্ঠ হয়ে একই ফ্রেমে দাঁড়িয়ে রয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার বিকেইউ নেতা চাঁদুনি বলেছেন, কৃষকদের ভুল পথে চালিত করেছেন দীপ। তাঁরই নেতৃত্বে কৃষকরা লালকেল্লায় অভিযান চালান। কৃষকরা কখনওই লালকেল্লায় ঢুকতে চাননি। এক সংবাদ সংস্থাকে এমনটাই জানিয়েছেন চাঁদুনি।

অন্য দিকে, স্বরাজ ইন্ডিয়া-র নেতা যোগেন্দ্র যাদবও একই অভিযোগ তুলেছেন। এক সংবাদ সংস্থাকে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “এই ঘটনার জন্য দুই ব্যক্তি দায়ী। তাঁদের মধ্যে দীপ সিধু এক জন। হিংসার সময় লালকেল্লায় ছিলেন দীপ। এই মিছিলের শুরু থেকেই তাঁর যোগদানের বিরোধিতা করা হয়েছিল।”

কিছু দিন আগে সিংঘু সীমান্তে হামলার মুখে পড়া কংগ্রেস সাংসদ রবনীত সিংহ বিট্টুও দাবি করেছেন, এই পুরো ঘটনার পিছনে দীপের ইন্ধন রয়েছে। লালকেল্লায় তিনিই পতাকা উড়িয়েছেন। রবনীত আরও জানান, নিষিদ্ধ সন্ত্রাসবাদী সংগঠন শিখস ফর জাস্টিস(এসএফজে)-এর সদস্য দীপ।

কৃষকদের এক সূত্রের খবর, দীপ এই আন্দোলনের পুরোভাগে থাকার চেষ্টা করছিলেন প্রথম থেকেই। কিন্তু কৃষক নেতারাই তা নিয়ে বিরোধিতা করেন। তাঁর বিরুদ্ধে যখন হিংসায় ইন্ধন জোগানোর অভিযোগ উঠছে তখন ফেসবুকে লাইভে দেখা গিয়েছে দীপ দাবি করছেন, ‘লালকেল্লার নিশান সাহিবে পতাকা উত্তোলন করেছি আমরা। দেশের পতাকা সরানো হয়নি সেখান থেকে।”

কে এই দীপ সিধু

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়া টুডে’-র একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, পঞ্জাবের মুখ্‌তসর জেলায় ১৯৮৪ সালে জন্ম সিধুর। আইন নিয়ে পড়াশোনার পাঠ চুকিয়ে স্বল্প সময়ের জন্য তাকেই পেশা করেছিলেন সিধু। এর পর ম়ডেলিংয়ের দিকে ঝোঁকেন। ‘কিংফিশার মডেল হান্ট’ প্রতিযোগিতা জিতে অভিনয় জগতে পা রাখেন ২০১১৫-তে।

সে বছর ‘রামতা যোগী’ নামে একটি পঞ্জাবি ফিল্মে আত্মপ্রকাশ করেন সিধু। তবে ফিল্মি পর্দায় সাফল্য আসে তার বছর তিনেক পর। ’১৮-তে মুক্তি পায় ‘জোড়া দশ নম্বরিয়া’। ওই পঞ্জাবি ফিল্মে গ্যাংস্টারের ভূমিকায় সিধুকে দেখা গিয়েছিল মুখ্য ভূমিকায়। এর পর খান তিনেক ফিল্মেও অভিনয় করেছেন তিনি। তবে ২০১৯ সাল থেকে সিধুকে রাজনীতির আঙিনায়ও দেখা যেতে শুরু করে।

সিধুর বিজেপি-যোগ?

এ দিকে, মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় সিধুর একের পর এক ছবি পোস্ট এবং রি-পোস্ট হতে থাকে। তারই একটি ছবিতে দেখা গিয়েছে, ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী তথা অভিনেতা সানি দেওলের প্রচারসঙ্গী হিসেবে ঘুরে বেড়াচ্ছেন সিধু। গুরুদাসপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন সানি।

অন্য একটি টুইটে সানি এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) পাশেও সিধু রয়েছেন। ধ্রুব রাঠী সেই ছবিটি পোস্ট করেছেন। একটি ছবিতে দেখা গিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রয়েছেন সিধুর পাশে। এই দু’টি ছবিই টুইট করেছেন আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণও।

ব্যাপারটা নিয়ে চাপে পড়ে গিয়েছেন সানিও। প্রজাতন্ত্র দিবসে লালকেল্লায় পতাকা-কাণ্ড নিয়ে টুইটারে দুঃখপ্রকাশ করে সানি বলেন, “৬ ডিসেম্বরই টুইটারে জানিয়েছিলাম, আমি বা আমার পরিবারের কারও দীপ সিধুর প্রতি আগ্রহ নেই।”

মঙ্গলবার লালকেল্লায় পতাকা উত্তোলন করার পর নিজের পক্ষে সাফাই দিয়েছেন সিধু। ফেসবুকে একটি লাইভ ভিডিয়োবার্তায় তিনি বলেছেন, ‘‘নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রয়োগ করে লালকেল্লার কেবলমাত্র নিশান সাহিবের পতাকা (শিখ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় পতাকা) উত্তোলন করেছি আমরা। সেখান থেকে জাতীয় পতাকা সরানো হয়নি।’’

তবে সিধুর ভূমিকা নিয়ে ইতিমধ্যেই তদন্তের দাবি তুলেছেন আন্দোলনকারী তথা স্বরাজ ইন্ডিয়ার প্রধান যোগেন্দ্র যাদব। তিনি বলেন, ‘‘দীপ সিধু মাইক হাতে কী ভাবে লালকেল্লায় পৌঁছোলেন, তা তদন্ত করে দেখা উচিত।’’

এ দিকে, মঙ্গলবার বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ৮৬ জন পুলিশকর্মী। পরিস্থিতির মোকাবিলায় বিশাল বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে রাজধানীর বুকে।

খবরঅনলাইনে আরও পড়তে পারেন

কৃষক বিক্ষোভে উত্তাল দিল্লি, পরিস্থিতি মোকাবিলায় অতিরিক্ত আধা সেনা

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন