নিট পিজি কাউন্সেলিংয়ে বিলম্ব, অব্যাহত পড়ুয়া-চিকিৎসকদের বিক্ষোভ

0

নয়াদিল্লি: নিট পিজি (NEET PG) কাউন্সেলিং প্রক্রিয়ায় বারবার বিলম্বের জেরে আবাসিক চিকিৎসকদের প্রতিবাদ সারাদেশের চিকিৎসা পরিষেবাকে প্রভাবিত করেছে। প্রথম বর্ষের পড়ুয়াদের কাউন্সেলিং এবং ভরতিতে বিলম্ব ঘটায়, তাঁদের উপর কাজের চাপ মাত্রাতিরিক্ত বেড়েছে বলে অভিযোগ দ্বিতীয় বর্ষের পড়ুয়া-চিকিৎসকদের। মাঝখান থেকে তাঁদের কর্মবিরতির জেরে সমস্যায় পড়েছেন রোগীরা। এ দিকে, ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট (NEET) পিজি-তে যোগ্য ডাক্তারি পড়ুয়াদের জন্য স্নাতকোত্তর মেডিক্যাল কোর্সে ভরতির কাউন্সেলিং জানুয়ারির আগে শুরু হওয়ার সম্ভাবনাও নেই।

কী কারণে বিলম্ব?

চলতি বছরের জুন-জুলাইয়ের মধ্যে স্নাতকোত্তর প্রথম বর্ষের পড়ুয়াদের চলে আসার কথা ছিল। কিন্তু করোনা মহামারির দ্বিতীয় ঢেউয়ের কারণে পরীক্ষা পিছিয়ে যায়। সেপ্টেম্বরে হয় সেই নিট-পিজি পরীক্ষা। ১৭ দিনের মধ্যে ফলও বেরিয়ে যায়। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট স্থগিতাদেশ জারি করায় শুরু হয়নি কাউন্সেলিং।

মেডিক্যাল আসনগুলিতে ওবিসি-দের জন্য ২৭ শতাংশ এবং ইডব্লিউএস-দের জন্য ১০ শতাংশ সংরক্ষণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েই তৈরি হয় আইনি জটিলতা। কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্তের অনুসরণে মেডিক্যাল কাউন্সেলিং কমিটির (MCC) ২৯ জুলাইয়ের বিজ্ঞপ্তিকে চ্যালেঞ্জ করে একটি জনস্বার্থ মামলা কাউন্সেলিং প্রক্রিয়াটি বিলম্বিত হয়।

ওই মামলার শেষ শুনানিতে স্নাতকোত্তর পড়ুয়া-চিকিৎসকদের কাউন্সেলিংয়ের উপরে স্থগিতাদেশ জারি করে সুপ্রিম কোর্ট। আগামী ৬ জানুয়ারি সেই মামলার শুনানি। অর্থাৎ, তার আগে কাউন্সেলিং শুরুর কোনো সম্ভাবনাই দেখা যাচ্ছে না।

কী বলেছে কেন্দ্র?

কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা নভেম্বরে সুপ্রিম কোর্টকে বলেছিলেন,আর্থিক ভাবে পিছিয়ে থাকা পড়ুয়াদের জন্য ১০ শতাংশ আসন সংরক্ষণের জন্য নির্ধারিত ৮ লক্ষ টাকা আয়ের মানদণ্ড পুনর্বিবেচনা করবে কেন্দ্র। চার সপ্তাহের মধ্যেই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ততক্ষণ পর্যন্ত কাউন্সেলিং প্রক্রিয়া শুরু হবে না।

ব্যাঘাত চিকিৎসা পরিষেবায়

কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের পরে, ফেডারেশন অব রেসিডেন্ট ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন (FORDA) দেশব্যাপী প্রতিবাদের ডাক দেয়। গত ২৭ নভেম্বর থেকে বহির্বিভাগের (OPD) পরিষেবা প্রত্যাহার করতে বলে সংগঠন। দেশের বিভিন্ন জায়গায় স্নাতকোত্তর পড়ুয়া-চিকিৎসকরা কর্মবিরতি পালন করছেন। চিকিৎসকদের বিক্ষোভে সারাদেশে চিকিৎসা পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে।

সরকার এবং সুপ্রিম কোর্টকে কাউন্সেলিং এবং ভরতি প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছিল সংগঠন। এ ব্যাপারে গত ৬ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্যর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সংগঠনের প্রতিনিধি দল। পর দিন সংগঠনের তরফে জানানো হয়, তাদের অভিযোগ শুনেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার দ্রুত শুনানির বিষয়েও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

তবে দেশের বিভিন্ন জায়গায় এখনও নিজেদের আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন চিকিৎসকেরা। দিল্লির রাম মনোহর লোহিয়া, সফদরজং এবং লেডি হার্ডিঞ্জ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসকরা বলেছেন, সোমবার থেকে সমস্ত রুটিন এবং জরুরি পরিষেবা বর্জন করবেন তাঁরা। গুজরাতের বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজের প্রায় হাজারখানেক পড়ুয়া-চিকিৎসক কর্মবিরতি পালন করেন গত মঙ্গলবার। সোমবার রাত থেকে রাজস্থানেও অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট শুরু করেন আবাসিক চিকিৎসকরা। কলকাতারও প্রায় সব মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেই চলছে প্রতিবাদ।

আরও পড়তে পারেন: দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত সব পড়ুয়াদের জন্য মিড ডে মিলের দাবি

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন