রবীন্দ্রনাথ, গুজরাত দাঙ্গা, ইংরেজি-উর্দু শব্দ বাদ দিন: এনসিইআরটি-কে আরএসএস

0
648

নয়াদিল্লি: রবীন্দ্রনাথের চিন্তাধারা, মির্জা গালিবের পদ্য, মকবুল ফিদা হুসেনের আত্মজীবনীর অংশবিশেষ, ইংরেজি, উর্দু আর আরবি শব্দ বাদ দিন; যে সব অংশে মোগল সম্রাটদের হিতৈষী বলা হয়েছে, বিজেপিকে ‘হিন্দু’ পার্টি বলা হয়েছে এবং ন্যাশনাল কনফারেন্সকে ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ বলা হয়েছে সে সব অংশ ছেঁটে ফেলুন; ১৯৮৪-এর দাঙ্গা নিয়ে ২০০৫-এ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং সংসদে যে ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন সেই অংশ এবং ‘গুজরাত দাঙ্গায় প্রায় দু’ হাজার মুসলিম খুন হয়েছিলেন’ বলে যে বাক্য রয়েছে তা বাদ দিন – স্কুলের পাঠ্যবই সংশোধন করার জন্য আরএসএস অনুমোদিত ‘শিক্ষা সংস্কৃতি উত্থান ন্যাস’ এনসিইআরটি-র কাছে যে সব সুপারিশ পাঠিয়েছে, এগুলি তার কিছু নমুনা।

সম্প্রতি এনসিইআরটি স্কুলের সব ক’টি শ্রেণির পাঠ্যবই সম্পর্কে জনসাধারণের মতামত চেয়েছিল। তাতেই সাড়া দিয়ে আরএসএস-এর শিক্ষা শাখা ‘বিদ্যা ভারতী’র প্রাক্তন প্রধান এবং বর্তমানে ‘শিক্ষা সংস্কৃতি উত্থান ন্যাস’-এর প্রধান দীননাথ বাটরা এনসিইআরটি-কে তাদের তরফে পাঁচ পাতার সুপারিশ পাঠিয়েছেন। এনসিইআরটি-র বিভিন্ন পাঠ্যবইয়ের যে সব অংশ তারা বাদ দেওয়ার পক্ষপাতী সেই সব অংশ দাগিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ন্যাসের সাধারণ সম্পাদক এবং প্রবীণ আরএসএস প্রচারক অতুল কোঠারি বলেন, “এই বইগুলোতে অনেক কিছু ভিত্তিহীন, পক্ষপাতদুষ্ট। একটা সম্প্রদায়ের মানুষকে অপমান করার চেষ্টা করা হয়েছে। এখানে তোষণও করা হয়েছে … দাঙ্গা সম্পর্কে পড়িয়ে আপনি শিশুদের কী ভাবে উদ্বুদ্ধ করবেন? শৌর্যবীর্যের ইতিহাস স্থান পায়নি। শিবাজি, মহারানা প্রতাপ, বিবেকানন্দ, সুভাষচন্দ্রের মতো ব্যক্তিত্বদের জায়গা হয়নি।”

“এই সব অংশ আমাদের আপত্তিকর মনে হয়েছে। আমরা এনসিইআরটি-র কাছে আমাদের সুপারিশ পাঠিয়েছি। আশা করি আমাদের সুপারিশ রূপায়িত হবে” — কোঠারি বলেন। এর আগে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্ডারগ্র্যাজুয়েট সিলেবাস থেকে এ কে রামানুজমের রচনা ‘থ্রি হান্ড্রেড রামায়নস: ফাইভ এগজাম্পলস্‌ অ্যান্ড থ্রি থটস্‌’ বাদ দিতে প্রচার চালিয়েছিল আরএসএস-এর উত্থান ন্যাস। তা ছাড়া ওয়েন্ডি ডনিগার-এর ‘দ্য হিন্দুস’ বইটি তুলে নেওয়ার দাবি জানিয়ে আদালতে গিয়েছিল ন্যাস। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যতালিকা থেকে রামানুজমের রচনা সরিয়ে ফেলা হয় এবং ডনিগার-এর বইটি আপাতত পাওয়া যায় না।

‘শিক্ষা সংস্কৃতি উত্থান ন্যাস’-এর দাবি, হিন্দি পাঠ্যবইয়ে লিখতে হবে মধ্যযুগের সুফি কবি আমীর খুসরু “হিন্দু ও মুসলিমের মধ্যে বিভেদ বাড়িয়েছিলেন।”

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here