বৈবাহিক ধর্ষণ মামলার রায় নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত দিল্লি হাইকোর্ট, যা বললেন বেঞ্চের দুই বিচারপতি

0
Rape Symbolic Photo
বৈবাহিক ধর্ষণ কি অপরাধ? প্রতীকী ছবি

নয়াদিল্লি: বৈবাহিক ধর্ষণ কি অপরাধ? স্ত্রীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে কি তাঁর সঙ্গে যৌনতায় লিপ্ত হতে পারেন স্বামী? এমনই সব প্রশ্নে বৈবাহিক ধর্ষণ মামলার রায়দান নিয়ে বুধবার দ্বিধাবিভক্ত দিল্লি হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ।

এই মামলার রায়দান নিয়ে সহমত হতে পারেননি বেঞ্চের দুই বিচারপতি। এক বিচারপতি রাজীব শকধেরের পর্যবেক্ষণ, “ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৫ ধারার ধর্ষণ সংক্রান্ত ধারা ‘অসাংবিধানিক’। অনুচ্ছেদ ১৪, ১৫, ১৯ (১) (এ) এবং ২১-এর পরিপন্থী এবং তাই তা ছিন্ন করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, বিয়ের পরে কোনো পুরুষ যদি স্ত্রীর সঙ্গে বলপূর্বক যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন, তা ধর্ষণ নয়। যদি না স্ত্রীর বয়স ১৫ বছরের কম হয়। এই যুক্তির সঙ্গে সহমত হওয়া সম্ভব নয়”।

অন্য দিকে, বিচারপতি শকধেরের সঙ্গে একমত হতে পারনেনি আরেক বিচারপতি হরি শঙ্কর। তাঁর যুক্তি, “ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৫ ধারাকে লঙ্ঘন করছে না। কারণ, স্ত্রীর অসম্মতিতে স্বামীর যৌন সংসর্গ বোধগম্য মতপার্থক্যের মধ্যে পড়ে”। শেষমেশ, বাদী-বিবাদী পক্ষকে সুপ্রিম কোর্টে আরজি জানানোর অনুমতি দেন।

amazon

এ বিষয়ে বেশ কয়েকটি মামলা দায়ের হয়েছে দিল্লি হাইকোর্টে। মামলাকারীদের দাবি, বিয়ের পরেও যদি স্বামী স্ত্রীর সঙ্গে জোর করে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন, সে ক্ষেত্রে তা অপরাধ বলে গণ্য করতে হবে। এর আগে সমস্ত পক্ষের যুক্তি শোনার পরে দুই বেঞ্চ গত ২১ ফেব্রুয়ারি নিজের সিদ্ধান্ত সংরক্ষণ করেছিল।

একটি দৈনিক শুনানির সময়, কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা যুক্তি দিয়েছিলেন, সরকার ভারতীয় দণ্ডবিধির (আইপিসি) অধীনে স্বামীদের দেওয়া ছাড় বাতিলের পক্ষে বা বিপক্ষে নয়। বৈবাহিক ধর্ষণকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে কি না, তা একটি সংবেদনশীল সামাজিক-আইনি বিষয় হওয়ায় পূর্ণাঙ্গ দৃষ্টিভঙ্গি থাকা উচিত। সে সময় এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সমস্ত পক্ষের সঙ্গে পরামর্শ নেওয়ার জন্য স্থগিতাদেশ চেয়েছিল কেন্দ্র।

সে সময় আরআইটি নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং অল ইন্ডিয়া ডেমোক্রেটিক উইমেনস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে উপস্থিত হয়ে আইনজীবী করুণা নন্দী যুক্তি দিয়েছিলেন, বৈবাহিক ধর্ষণের ব্যতিক্রম রাখা ধর্ষণ আইনের পিছনের উদ্দেশ্যকে নষ্ট করবে। কারণ এটা বিবাহিত মহিলার ‘না’ বলার অধিকারকে ছিনিয়ে নেয়। ফলে তাঁর সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে একটি হলফনামায় এই আবেদনের বিরোধিতা করেছিল কেন্দ্র। বলা হয়েছিল, বৈবাহিক ধর্ষণকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা যাবে না। কারণ তা বিবাহের প্রতিষ্ঠানিক অস্তিত্বকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। যাতে অযথা হয়রানির শিকার হতে পারেন স্বামী। এর আগে বৈবাহিক ধর্ষণ সংক্রান্ত একটি রায় দিয়েছিল কর্নাটক হাইকোর্ট। সেই রায়ের প্রেক্ষিতে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রের প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। ওই মামলার শুনানি আগামী জুলাইয়ে।

আরও পড়তে পারেন:

হয় নাতি-নাতনি, নয়তো দাও ৫ কোটি! ছেলে-বউমার বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ বৃদ্ধ দম্পতি

কোভিডের মধ্যে হাজির টম্যাটো ফ্লু, দেশে আক্রান্ত ৮০-র বেশি শিশু

পুনর্বিবেচনা চলাকালীন স্থগিত রাষ্ট্রদ্রোহ আইন, ঐতিহাসিক রায় সুপ্রিম কোর্টের

কাটল দীর্ঘ জটিলতা, বিধায়ক হিসেবে শপথ নিলেন বাবুল সুপ্রিয়

স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, টেলিভিশন, রেফ্রিজারেটরের দাম বাড়তে পারে, জানুন কেন

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন