খবর অনলাইন ডেস্ক: ২০১৭ সালের উন্নাও ধর্ষণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক কুলদীপ সিং সেঙ্গারের সাজা স্থগিত করে তাঁকে জামিন দিল দিল্লি হাই কোর্ট। এর ফলে তীব্র আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনয় ভুগছে নির্যাতিতার পরিবার। মঙ্গলবার দিল্লি হাই কোর্টের এই সিদ্ধান্তের পর এ কথা জানিয়ে নির্যাতিতার দিদি বলেন, সেঙ্গারের মুক্তিতে তাঁদের পরিবারের জীবনের ঝুঁকি আরও বেড়ে গেল
বিচারপতি সুব্রহ্মণ্যম প্রসাদ এবং বিচারপতি হরিশ বৈদ্যনাথন শঙ্করের বেঞ্চ সেঙ্গারের আপিলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁর সাজা স্থগিত রেখে জামিন মঞ্জুর করেছে। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, জামিনকালীন সময়ে সেঙ্গার দিল্লিতেই থাকবেন এবং নির্যাতিতার বাড়ির পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে প্রবেশ করতে পারবেন না। পাশাপাশি, প্রতি সোমবার তাঁকে থানায় হাজিরা দিতে হবে। শর্ত ভঙ্গ করলে জামিন বাতিল করা হবে বলেও স্পষ্ট করেছে আদালত।
আদালতের রায়ে অখুশি নির্যাতিতার পরিবার
আদালতের রায় নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে নির্যাতিতার দিদি বলেন, “আমি খুশি নই। ও আমার কাকাকে খুন করেছে, তার পর বাবাকে। তার পর আমার বোনের সঙ্গে এই ঘটনা ঘটেছে। ও এখন মুক্ত, কিন্তু আমরা এখনও বিপদের মধ্যে রয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, “কে জানে, ওরা বাইরে থেকে এসে আমাদের পুরো পরিবারকে মেরে ফেলবে কিনা! যদি ওকে ছেড়েই দেয়, তা হলে আমাদের জেলেই রাখুক—অন্তত সেখানে আমরা নিরাপদ থাকব।”
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সেঙ্গারের জামিনের খবরে নির্যাতিতা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। পরিবারের সদস্যদের দাবি, এখনও তাঁদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। “ছোট ছোট বাচ্চা আছে, আমার এক ভাই আছে। ওদের কী হবে, কে জানে?”—বলেছেন নির্যাতিতার দিদি। তাঁর অভিযোগ, সেঙ্গারের ঘনিষ্ঠরা এলাকায় ঘোরাফেরা করছে এবং হুমকি দিচ্ছে। “এই কারণেই আমরা সবসময় আতঙ্কে থাকি,” তিনি যোগ করেন।
ট্রায়াল কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে কুলদীপের আপিল
উল্লেখ্য, ১৭ বছর বয়সি এক নাবালিকাকে ধর্ষণের দায়ে কুলদীপ সিং সেঙ্গারকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ২৫ লক্ষ টাকা জরিমানা করেছিল ট্রায়াল কোর্ট। সরকারপক্ষের দাবি অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ১১ থেকে ২০ জুনের মধ্যে ওই নাবালিকাকে অপহরণ ও ধর্ষণ করা হয় এবং পরে ৬০ হাজার টাকার বিনিময়ে তাকে বিক্রি করা হয়েছিল। পরে তাকে মাখি থানার এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর নির্যাতিতাকে চুপ থাকতে হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ট্রায়াল কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে কুলদীপ সিংহ সেঙ্গার হাই কোর্টে আপিল করেন। হাই কোর্টে এখনও সেঙ্গারের আপিলের মূল শুনানি শুরু হয়নি।


