নয়াদিল্লি : দিল্লির মুখার্জি নগরে মেট্রো স্টেশনের লাগোয়া ই-রিক্সা স্ট্যান্ডের কাছে রাস্তার উপর প্রস্রাব করছিল দু’জন যুবক। ঘটনাটি দেখে প্রতিবাদ ওই স্ট্যান্ডেরই রিক্সা চালক রবিন্দর কুমার (৩৫)। প্রতিবাদ শুনে তাকে হুমকি দিয়ে ওই দুই যুবক চলে যায়। এর পর একদল ছেলে নিয়ে এসে রবিন্দরকে বেধড়ক মারধর শুরু করে তারা। তোয়ালের মধ্যে পাথর ঢুকিয়ে মারধর করে বলে অভিযোগ। প্রায় ২০ মিনিট ধরে এই মারধর চলে বলে রবিন্দরের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।

শনিবার রাত সাড়ে আটটা নাগাদ প্রকাশ্য রাস্তায় এই মারধরের ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি দেখেও কেউ এগিয়ে আসেনি তাকে উদ্ধার করতে। রবিবার সকালে মারা যান রবিন্দর।

পুলিশ খুনের অভিযোগ দায়ের করেছে। ডেপুটি পুলিশ কমিশনার মিলিন্দ মহাদেও ডামবেরে জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ‘‘এই ঘটনায় ১২-১৪জন যুবক জড়িত রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান থেকে পুলিশ জানতে পেরেছে, অভিযুক্তরা দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ছাত্র। পুলিশের একটি দল বিভিন্ন কলেজে খোঁজ চালাচ্ছে। রবিন্দরের এক বন্ধু যে নিজেও ই-রিক্সা চালায়, পুলিশকে জানিয়েছে, দুই অভিযুক্তকে সে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের নর্থ ক্যাম্পাসে ছেড়ে এসেছে।

রবিন্দরের ভাই বিজেন্দর কুমার জানিয়েছেন, শনিবার রাতে যখন সে বাড়ি ফিরে আসে তার গায়ে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না। তাই ডাক্তারও দেখায়নি। পরে রাতের দিকে অজ্ঞান হয়ে যায়ে সে। তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।

এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভেঙ্কাইয়া নাইডু। তিনি বলেন, প্রকাশ্যে প্রস্বাব করার প্রতিবাদ করে রবিন্দর ‘স্বচ্ছ ভারত’-এর প্রচার করছিল। তিনি দিল্লির পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে কথা বলেন এবং অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতার করে কড়া ব্যবস্থা নেবার নির্দেশ দেন।

হরিয়ানার রেওয়ারি জেলার বাসিন্দ রবিন্দর এক বছর আগে বিয়ে করেছে। তার স্ত্রী অন্তঃসত্বা।

ছবি: এনডিটিভি

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here