জলকামান ব্যবহার করছে পুলিশ। ছবি: হিন্দুস্তান টাইমস

নয়াদিল্লি: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহের আশ্বাসও বিক্ষোভরত কৃষকদের দমাতে পারল না। কোনো ভাবেই এই বিক্ষোভ থামানো হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিলেন কৃষকরা।

মঙ্গলবার কেন্দ্রের কাছে কৃষিঋণ মকুব-সহ পনেরো দফা দাবি পেশের কথা ছিল ভারতীয় কিষান ইউনিয়নের (বিকেইউ)-এর সদস্যভুক্ত তিরিশ হাজার কৃষকের। এই উপলক্ষ্যে হরিদ্বার থেকে শুরু হওয়া তাঁদের ‘কিষান ক্রান্তি পদযাত্রা’ সোমবার এসে পৌঁছেছিল দিল্লির উপকণ্ঠে সাহিবাবাদে। ঠিক ছিল মঙ্গলবার দিল্লিতে প্রবেশ করে চৌধরি চরণ সিং-এর অন্ত্যেষ্টিস্থল কিষানঘাটে গিয়ে শেষ হবে এই মিছিল। সেইমতো মঙ্গলবার দিল্লিতে ঢোকার চেষ্টা করেন কৃষকরা।

কিন্তু তাদের দিল্লি প্রবেশ নিষিদ্ধ করে দেয় পুলিশ। এর ফলে শুরু হয় ব্যাপক সংঘর্ষ। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার জন্য কাঁদানে গ্যাস এবং জলকামান ছোড়ে পুলিশ। এর ফলে বেশ কয়েক জন কৃষক আহতও হয়েছেন।

আরও পড়ুন নাগেরবাজারে বহুতলে বিস্ফোরণে আহত ১০, ‘আমিই টার্গেট ছিলাম’, দাবি পুরপ্রধানের

এ দিকে বিকেইউয়ের কয়েক জন প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক করেন রাজনাথ। সেই বৈঠকে কৃষকদের বেশ কিছু দাবি মানা হলেও, কয়েকটি দাবি মেনে নিতে চায়নি কেন্দ্র। এতেই অসন্তুষ্ট বিকেইউ জানিয়ে দেয় এই বিক্ষোভ চলবে। বিকেইউয়ের মুখপাত্র যুধবীর সিং বলেন, “১১ দফা দাবি নিয়ে আমাদের কথা হয়েছে। এর মধ্যে সরকার সাতটা দফা মানলেও বাকিগুলো মানতে চায়নি।”

এ দিকে কৃষকদের ওপরে পুলিশি আক্রমণের তীব্র নিন্দা করে বিরোধীরা। ‘কৃষকদের ওপরে হামলা চালিয়ে বিজেপি গান্ধীজয়ন্তী পালন করছে,’ এই আওয়াজ তুলতে শুরু করে বিরোধীরা। কৃষকদের ওপরে পুলিশি আক্রমণের তীব্র নিন্দা করেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তিনি বলেন, “আমরা কৃষকদের পাশেই রয়েছি। তাঁদের দিল্লিতে ঢুকতে দেওয়া উচিত।” যদিও কৃষকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ আগেই দিল্লি পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা বলেছিলেন, কোনো ভাবেই কৃষকদের দিল্লিতে ঢুকতে দেওয়া হবে না।

শুধু বিরোধীরাই নয়, অসন্তোষ প্রকাশ করেছে এনডিএর কিছু শরিকও। জেডিইউ নেতা কেসি ত্যাগী বলেন, “কৃষকদের ওপরে এই হামলার আমরা তীব্র নিন্দা করছি।”

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন