ওয়েবডেস্ক: বিমুদ্রাকরণ এবং জিএসটিকে ঘিরে অনিশ্চয়তার ফলে ধাক্কা খেয়েছে ভারতের অর্থনীতির গতি। নিজেদের প্রকাশ করা সর্বশেষ রিপোর্টে এই কথাই জানাল বিশ্ব ব্যাঙ্ক।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই সব অনিশ্চয়তার ফলে ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার এই বছর ৭ শতাংশে নেমে আসতে পারে। দু’বছর আগে অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার ছিল ৮.৬ শতাংশ।  তবে সরকারি খরচ এবং বেসরকারি লগ্নির মধ্যে সামঞ্জস্য আনার জন্য সঠিক নীতি নিলে সামনের বছর বৃদ্ধির হার কিছুটা বেড়ে ৭.৩ শতাংশে পৌঁছোতে পারে।

আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডার (আইএমএফ) এবং বিশ্বব্যাঙ্কের মধ্যে আসন্ন বৈঠকের প্রাক্কালে প্রকাশিত এই রিপোর্টে বলা হয়েছে, সুষম বৃদ্ধির ফলে যদিও দেশে দারিদ্র কমতে পারে, তবে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার জন্য আরও কঠিন পদক্ষেপ করার কথা বলা হয়েছে রিপোর্টে।

ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধি কমে যাওয়ার ফলে সার্বিক ভাবে দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক বৃদ্ধিও কমে গিয়েছে, এমনই বলা হয়েছে রিপোর্টে। বৃদ্ধি কমে যাওয়া যে বিমুদ্রাকরণ এবং জিএসটিকে ঘিরেই, সে কথাও বলেছে বিশ্ব ব্যাঙ্ক। তারা বলেছে, “২০১৫-১৬ অর্থবর্ষে ভারতের অভ্যন্তরীণ বৃদ্ধির হার ছিল ৮ শতাংশ। এর পরের অর্থবর্ষে তা কমে হল ৭.১ শতাংশ। এই অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে তা আরও কমে দাঁড়ায় ৫.৭ শতাংশে।”

বিশ্ব ব্যাঙ্কের মতে, ২০১৮-এর শুরুর দিকেও জিএসটির কুপ্রভাব ভারতীয় অর্থনীতির ওপরে থাকবে। তবে সামনের বছরের দ্বিতীয় ভাগ থেকে অর্থনীতি ফের চাঙ্গা হতে পারে, এমনও জানানো হয়েছে ওই রিপোর্টে। বেসরকারি লগ্নি বাড়তে শুরু করার ফলে ২০২০-এর মধ্যে দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার আরও কিছুটা বেড়ে ৭.৪ শতাংশে পৌঁছোতে পারে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, আইএমএফ এবং বিশ্ব ব্যাঙ্কের ওই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি। সোমবারই যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বৈঠকের জন্য মঙ্গলবার নিউ ইয়র্ক থেকে বোস্টন গিয়েছেন জেটলি।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here