নয়াদিল্লি: বিরোধীদের তীব্র কটাক্ষ সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে বুঝিয়েই ছাড়বেন, নোট বাতিলের নীতি আসলে দেশের সাধারণ মানুষের ভবিষ্যতের কথা ভেবেই। বিজেপির জাতীয় কার্যনির্বাহী বৈঠকের শেষ দিনেও উচ্চারিত হল একই বাণী। গরিবের সেবা ঈশ্বর সেবার সমান, এই বার্তা দিয়েই নরেন্দ্র মোদী শেষ করলেন তাঁর শনিবারের ভাষণ। বললেন, তিনি ক্ষমতা চান না, চান মানুষের ভোগান্তি শেষ হোক। 

শনিবার প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কোথা থেকে বিজেপির টাকা আসছে, তা জানার অধিকার মানুষের আছে। রাজনৈতিক অনুদান সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয়ে স্বচ্ছতার দিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে থাকবে বিজেপিই।” দেশের পাঁচ রাজ্যের আসন্ন নির্বাচনে তাঁদের জয় সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত এবং আত্মবিশ্বাসী, এমনটাই বলতে শোনা গেল মোদীকে। বললেন, “পরিস্থিতি আমাদের পক্ষেই রয়েছে।”

৫০ মিনিটের লম্বা ভাষণের বেশিটা জুড়েই ছিল গরিব মানুষের কথা এবং তাদের দুর্দশা দূর করতে সরকার কতটা তৎপর, তার কথা। যদিও বিমুদ্রাকরণের ঘোষণার পর থেকে একাধিক বিশ্লেষক বিষদে ব্যাখ্যা করেছেন, কী ভাবে সরকারের নীতিতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হল সমাজের নিচু তলার মানুষ।

সাধারণ মানুষ হয়রানি সহ্য করেও, ঘণ্টার পর ঘণ্টা এটিএমের লাইনে দাঁড়িয়েও কেন্দ্রের এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে, এমন দাবি দেশের প্রধানমন্ত্রী আগেও করেছেন, শনিবার আবার করলেন। “কিছু সংখ্যক মানুষ শুধু নিজের জীবন নিয়েই ভাবছেন। কিন্তু সরকারের প্রাথমিক লক্ষ্য গরিবের জীবনের গুণগত মানের উন্নতি করা”।

দারিদ্র্যের বিষয়টি মোদীর ভাষণের প্রায় একমাত্র বিষয় হয়ে ওঠায় মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদকেও সঙ্গতি রেখে এ দিন বলতেই হয়, ভোট ব্যাঙ্কের প্রয়োজনে দারিদ্র্যকে তাঁরা অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে চান না। নোট বাতিলের ঘোষণার পর পুরোনো নোটের ৯৭ শতাংশ ফিরে এসছে ব্যাঙ্কে, দু’দিন আগেও এই তথ্য জানেন না বলেই দাবি করেছিলেন অর্থমন্ত্রী। অথচ তিনিই আজ বললেন, কালো টাকা সব ব্যাঙ্কে ফিরে এসেছে, এ বার তা দিয়েই হবে উন্নয়নমূলক কাজ।

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here