detention camp inmate under handcuff
অসুস্থ রতন বিশ্বাসকে হাসপাতালে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে বিছানার সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিনিধি, গুয়াহটি: তিনি কোনো দাগী অপরাধী নন। তাঁর অপরাধ তিনি ‘বিদেশি’। তাঁর পরিচয়ে ‘বিদেশি’ তকমা লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই ‘অপরাধে’ তিনি ডিটেনশন ক্যাম্পে বন্দি। এবং অসুস্থ অবস্থায় আপাতত হাসপাতালে ভর্তি। এখন হ্যান্ডকাফ পরিয়ে হাসপাতালের বিছানার সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে তাঁকে। এই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই ব্যাপক নিন্দার ঝড় উঠেছে।

সমালোচকরা বলছেন, এই পৃথিবীর প্রতিটি মানুষেরই ভালো ভাবে, সুস্থ ভাবে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। যুদ্ধবন্দি মানুষও এই অধিকার থেকে বঞ্চিত নন। রাষ্ট্রপুঞ্জে মানবাধিকারকে বিশেষ গুরুত্বও দেওয়া হয়েছে। মানবাধিকারের ক্ষেত্ৰে একজন মানুষের নাগরিকত্ব কোনো মাপকাঠি হতে পারে না। দেশের সৰ্বোচ্চ আদালতও ডিটেনশন ক্যাম্পে থাকা নাগরিকদের মানবাধিকার সুনিশ্চিত করার নিৰ্দেশ দিয়েছে। ঠিক সে সময়ই ডি ভোটারের তকমা চাপিয়ে রতন বিশ্বাস নামের এক ব্যক্তির ন্যূনতম মানবাধিকারটুকু কেড়ে নেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের বিছানায় অসুস্থ অবস্থায়ও ওই ব্যক্তির হাতে হ্যান্ডকাফ লাগিয়ে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় গোটা রাজ্যে তীব্ৰ প্ৰতিক্ৰিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

আরও পড়ুন জাতীয় নাগরিকপঞ্জি: আগে বাতিল ৫টি নথি ফের গ্রহণের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

রতন বিশ্বাস বঙাইগাঁও জেলার মাণিকপুর থানার অন্তৰ্গত গেরুকাবারী গ্ৰামের বাসিন্দা। জানা গিয়েছে, বঙাইগাঁওয়ের বিদেশি ন্যায়াধিকরণ দরিদ্র ওই লোকটিকে ‘বিদেশি’ বলে শনাক্ত করে। এর পরই ২০১৬ সালের ১৯ মে পুলিস তাঁকে গ্ৰেফতার করে গোলায়পাড়া ডিটেনশন ক্যাম্পে রেখে দেয়। গত প্ৰায় আড়াই বছর ধরে তিনি ডিটেনশন ক্যাম্পে বন্দিজীবন কাটাচ্ছেন। গ্ৰেফতারের সময়েই তিনি বিভিন্ন রোগে আক্ৰান্ত ছিলেন। ডিটেনশন ক্যাম্পে থেকে তাঁর শরীর আরও অসুস্থ হয়ে পড়ে। কিছু দিন আগে তাঁর পেটে অসহ্য যন্ত্ৰণা হলে কারাগার কৰ্তৃপক্ষ তাঁকে গোয়ালপাড়া অসামরিক হাসপাতালে ভৰ্তি করায়। মৃত্যুযন্ত্ৰণায় ছটফট করছেন রতন। তা সত্ত্বেও তাঁর হাতে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে হাসপাতালের বিছানার সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে।

পরিজনদের অভিযোগ, যে রোগী বিছানা থেকেই ভালো করে উঠে বসতেই পারে না তাঁকে এই ভাবে পশুর মতো বেঁধে রাখায় তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে। রোগাক্ৰান্ত বন্যপশুর ওপরও এ ধরনের অমানবিক ব্যবহার করা হয় না। পরিবারের লোকজনের দাবি, রতন বিশ্বাসের বাবা প্ৰয়াত ব্ৰজেন্দ্ৰ বিশ্বাসের নাম ১৯৬৬ সালের ভোটার তালিকা ও ১৯৭১ সালের ভোটার তালিকায় রয়েছে। তাঁর নামে ১৯৬০ সালের জমির দলিলও রয়েছে। ‘বিদেশি’ ঘোষিত হওয়ার আগে আবেদন করা নথির ভিত্তিতে এনআরসি-র খসড়ায়ও রতনবাবুর নাম উঠেছে। বঙাইগাঁও জেলার নোয়াপাড়া গ্ৰাম পঞ্চায়েতের অফিসে ১০১৮৩১৯০২১১০০৩০৩০০৬১১ এআর নম্বরের ভিত্তিতে খসড়ায় তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এর পরেও কী ভাবে তিনি বিদেশি বলে ঘোষিত হলেন, সেই প্ৰশ্নই পরিবারের লোকজনের। এর ওপর হাসপাতালের বিছানার সঙ্গে তাঁর হাতে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। এই নিন্দনীয় ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্ৰ প্ৰতিক্ৰিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here