করোনা-পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি ধারাবিতে, কিছুটা স্বস্তি

0

মুম্বই: এপ্রিলের শুরুতে ধারাবি (Dharavi) বস্তিতে যখন প্রথম করোনারোগী পাওয়া গেল, তখন থেকেই প্রমাদ গোনা শুরু করেছিলেন মুম্বই পুরসভার আধিকারিকরা। এশিয়ার বৃহত্তম বস্তি, যেখানে শারীরিক দূরত্ববিধি মেনে চলা কার্যত অসম্ভব, সেখানে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া তাঁরা ঠেকাবেন কী ভাবে, সেই নিয়েই চিন্তা শুরু হয়ে গিয়েছিল।

দু’ মাস পর অবশেষে ছবিটার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। গত ছ’ দিনে ধারাবির কোনো বাসিন্দার মৃত্যু করোনায় হয়নি। এমনকি সুস্থতার হারও প্রায় ৫০ শতাংশ ছুঁইছুঁই। এই পরিসংখ্যান দেখেই পুরনিগমের এক আধিকারিক বললেন, “ধারাবিতে করোনার কার্ভ সমান হতে শুরু করেছে।”

মে মাসের শুরুতে ধারাবির পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। এক সময়ে দিনে ১০০ রোগীরও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল এই ধারাবিতে। গোষ্ঠী সংক্রমণের আশঙ্কা মাথাচাড়া দিচ্ছিল। কিন্তু গত ১৫ দিনে সেখানে রোগীর সংখ্যায় অনেকটাই পতন দেখা যাচ্ছে।

শনিবার ধারাবির মাত্র দশ জনের করোনা-রিপোর্ট পজিটিভ আসে। রবিবার ১১ জন। সব মিলিয়ে ধারাবিতে এখন মোট রোগীর সংখ্যা ১৮৯৯। এঁদের মধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৯৩৯ জন। মৃত্যু হয়েছে ৭১ জনের।

কিন্তু যে বস্তিতে শারীরিক দূরত্ববিধি এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার কোনো ভাবেই সম্ভব নয়, সেখানে এই সাফল্যের ছবিটা দেখা যাচ্ছে কী ভাবে?

বিএমসির যে ওয়ার্ডে ধারাবি অবস্থিত, সেই ওয়ার্ডের সহকারী পুরকমিশনার কিরণ দিগভকর (Kiran Dighavkar) বলেন, “আগ্রাসী পরীক্ষা অন্যতম কারণ।”

তিনি যোগ করেন, “ফিভার ক্লিনিকের মাধ্যমে আমরা উপসর্গ থাকা মানুষদের চিহ্নিত করেছি। সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের একদম আলাদা করে দেওয়া হয় যাতে সেই ব্যক্তিদের থেকে ভাইরাস আর না ছড়াতে পারে। এর ফলেই ধারাবিতে ভাইরাসের ওপরে কিছুটা কাবু পাওয়া গিয়েছে।”

ধারাবিতে লকডাউন (Lockdown) প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা কাউকে বাড়ির বাইরে বেরোতে দিইনি। তাঁদের বাড়িতে খাবার আমরাই পৌঁছে দিয়েছে। এর জন্য বেশ কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা রাস্তায় নেমে কাজ করছে।” এর জন্য স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলোকেও ধন্যবাদ দেন তিনি।

তবে ধারাবির পরিস্থিতি উন্নত হলেও এখনও মুম্বই বা সামগ্রিক ভাবে মহারাষ্ট্রের পরিস্থিতিতে কোনো উন্নতি নেই। আক্রান্তের সংখ্যার নিরিখে রবিবার সন্ধ্যায় চিনকে পেরিয়ে গিয়েছে মহারাষ্ট্র। শুধুমাত্র মুম্বইয়েই আক্রান্তের সংখ্যা ৫০ হাজার ছুঁই ছুঁই।

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন