ফণী আসার আগাম আভাস কি পেয়ে গিয়েছিল অলিভ রিডলেরা?

0
এবার আর দেখা যায়নি অলিভদের।

ওয়েবডেস্ক: জীববিজ্ঞান বলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগাম আভাস পেয়ে যায় প্রাণীজগত। যেমন বর্ষাকালে ভারী বৃষ্টির আগে পিঁপড়ের সারি দেখা যায়, মুখে করে অন্যত্র ডিম সরাতে ব্যস্ত। আবার বড়ো ভূমিকম্পের আগে পায়রা জাতীয় পাখি এবং কুকুরদের মধ্যে অস্থিরতা বেড়ে যায়।

এ ভাবই কি ফণীর আগাম বার্তা পেয়েছিল ওড়িশার সমুদ্রতটে বাস করা অলিভ রিডলে কচ্ছপের দল? নিয়মের অন্যথা ঘটিয়ে সেই প্রশ্নই তুলে দিল অলিভ রিডলের দল। অন্য বারের মতো এ বার আর গঞ্জাম জেলার ঋষিকুল্যা সৈকতে ডিম পাড়তে দেখা যায়নি অলিভ রিডলেদের।

প্রতি বছর নভেম্বর মাস থেকে জানুয়ারি মাস পর্যন্ত পালে পালে ‘অলিভ রিডলে’ প্রজাতির কচ্ছপ পৌঁছে যায় এই ঋষিকুল্যা সৈকতে। সেটাই তাদের প্রজননের মরসুম, সেটাই তাদের প্রজননের উপযুক্ত সৈকত৷ ওই সৈকতেই বালি খুঁড়ে ডিম পাড়ে তারা৷ কয়েক মাস পর ডিম ফুটে খুদে অলিভ রিডলেরা বালি পেরিয়ে, তাদের নিজেদের বাসস্থান সমুদ্রের জলে ফিরে যায়৷

এমনটাই প্রতি বছরের রুটিন অলিভ-কুলের৷ কিন্তু প্রতি বছর যেখানে লক্ষ লক্ষ অলিভের দল আসে, সেখানে এই বছর গঞ্জামে আসা এই কচ্ছপদের সংখ্যা ছিল মাত্র হাজার খানেক৷ বিষয়টি চোখে পড়লেও, তেমন আমল দেননি কেউই৷ কিন্তু সম্প্রতি ফণীর তাণ্ডবে তছনছ হয়ে যাওয়া ওড়িশার ছবি অলিভ রিডলে কচ্ছপদের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে৷

আরও পড়ুন সব জলীয় বাষ্প শুষে নিয়েছে ফণী, শুকনো গরমের কবলে দক্ষিণবঙ্গ

ঘূর্ণিঝড় ফণীর দাপটে বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঋষিকুল্যা সৈকত। এখানে ডিম পাড়লে ফণীর দাপটে সে সবই নষ্ট হয়ে যেত। তা সেটা কি আগাম আন্দাজ করেই কি এ বার ঋষিকুল্যা সৈকতের দিকে আসেইনি তারা? স্থানীয় মানুষেরা বলছেন, ফণীর কথা আগে থেকে বুঝেই সরে গিয়েছে তারা।

যদিও বন দফতরের কর্তারা এই সবের উত্তর পরিষ্কার করে দিচ্ছেন না। এর আগেও ২০০২ এবং ২০০৭ সালে এই প্রজাতির কচ্ছপরা এই সৈকতে আসেনি। তাই পুরো ব্যাপারটা ফণীর জন্য হয়েছে কি না, সেটা কিছু খোলসা করা হচ্ছে না।

অন্য দিকে, রিশিকুল্যা সৈকতের পাশাপাশি ভিতরকণিকার কাছে গহীরমাতা সৈকতে ডিম পাড়ে অলিভ রিডলেরা। এ বারও সেখানে তারা ডিম পেড়েছে। ফণীর দাপটে এই সৈকতে কিন্তু কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.