২০ দিনের বিবাহিত জীবন, বিচ্ছেদ হতে লেগে গেল ২০টা বছর

0
562

নয়াদিল্লি: খবরের কাগজে বিজ্ঞাপন দেখে বিয়ে হয়েছিল ওদের। থিরুমূর্তি রামকৃষ্ণণ ও সুভাষিণী বালা সুভ্রমণিয়ম।  ১৯৯৮ সালে। পাত্রীর বয়স তখন ২৯, পাত্র ৩৩। বিয়ের দিন কুড়ি পর দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন মন্দিরে আশীর্বাদ নিতে যাচ্ছিলেন তাঁরা। বিশ্বাস, ওই আর্শীবাদ না নিয়ে পুরোদস্তুর দাম্পত্য জীবন শুরু করতে নেই। তো সেই মন্দিরে যাওয়ার পথে উটিতে স্ত্রীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। অভিযোগ আর্থিক তছরুপের। পুলিশ হেফাজতে থাকার সময় সুভাষিণী, থিরুমূর্তিকে জানান তিনি সন্তানসম্ভবা।

গল্পটা সেখানেই শুরু হয়েছিল। শেষ হল মঙ্গলবার, ৬ জুন, ২০১৭।

সুভাষিণী গ্রেফতার হওয়ার পরই পুলিশ জেরা করতে শুরু করে স্বামী থিরুমূর্তিকে। তাঁর বাড়ি, অফিসে হানা দেয়। সম্পত্তি খতিয়ে দেখে, বারবার তাঁকে হাজিরা দিতে হয় থানায়। বিধ্বস্ত হয়ে যান রামকৃষ্ণণ। মাত্র ২০ দিনের বিবাহিত জীবন কাটানোর এই শাস্তি দেখে বন্ধুরা হাসাহাসি করতে শুরু করেন। বিপর্যস্ত থিরুমূর্তি বিবাহবিচ্ছেদের মামলা দায়ের করেন। মানসিক যন্ত্রণার জন্য স্ত্রীকে দায়ী করে। ছাড়েননি সুভাষিণী। তাঁর বক্তব্য ছিল তিনি নির্দোষ, তাছাড়া সন্তানসম্ভবা। এই সময়েই তাঁর স্বামীকে বেশি দরকার। সেই মামলা চলল ২০ বছর।

ও হ্যাঁ। তাঁদের মেয়ে এবছর দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে।

বিচ্ছেদের রায় দিয়ে দিল্লির এক পারিবারিক আদালতের প্রধান বিচারক ধর্মেশ শর্মা বিষণ্ণ হয়ে গিয়েছেন। তাঁর মতে, বাদী বিবাদী দুজনেই যথেষ্ট শিক্ষিত ও সম্পন্ন পরিবারের মানুষ। তাঁরা নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া করে বিষয়টা মিটিয়ে নিতে পারতেন। তা না করায়, দুজনের জীবনেরই মূল্যবান অনেকটা সময় নষ্ট হয়ে গেল। থিরুমূর্তির দাবিতে অবশ্য যুক্তি দেখেছেন তিনি। তাঁর মতে, সুভাষিণাী দোষী হোন বা নির্দোষ। মাত্র ২০ দিন বিবাহিত জীবন কাটিয়ে স্ত্রীর জন্য ওই মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে হলে বিবাহবিচ্ছেদ চাওয়াটা অন্যায্য কিছু নয়।

ন্যায্য, অন্যায্য যাই হোক, জীবন তো চলে গেছে কুড়ি-কুড়ি বছরের পার।

৫৩ বছরের থিরুমূর্তি এখন বিদেশে থাকেন। একটি ব্যাঙ্কে কর্মরত। তাঁর উকিলের কথায়, স্বাভাবিক জীবন চাওয়ার লড়াই লড়তে গিয়ে ওই ব্যক্তির গোটা জীবনটাই সমস্যাসঙ্কুল হয়ে গেল।

৪৯ বছরের সুভাষিণীর উকিল অনিল শর্মা অবশ্য এখনও হার মানতে নারাজ। বলছেন, হাইকোর্টে যাবেন। মেয়েকে এতদিন একা হাতে, সম্পূর্ণ নিজের খরচে মানুষ করেছেন সুভাষিণী। তার কোনো মূল্য নেই?

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here