WhatsApp

ওয়েবডেস্ক: বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে কথা চালাচালির সময় কে সাবধান থাকে বলুন তো? সব দিক মাথায় রেখে তো আর গা-বাঁচিয়ে কেউ বন্ধুদের মধ্যে কথা বলেও না!

কিন্তু পরিস্থিতি যা দাঁড়িয়েছে, তাতে সাবধান না হলে নিজেরই বিপদ। স্রেফ একটা হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজেই তছনছ হয়ে যেতে পারে জীবন। যেতে হতে পারে জেলে।

কেন, সে কথায় আসার আগে একটু চোখ রাখতে হবে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতিতে। পিছিয়ে যেতে হবে সাম্প্রতিক অতীতের পথে। সেই অতীত আমাদের জানাবে মুজফফরনগরের এক আঠারো বছরের তরুণের কথা। জাকির আলি ত্যাগী নামের সেই তরুণ ফেসবুকে ঠাট্টা-ইয়ার্কি করছিল বন্ধুদের সঙ্গে। গঙ্গাকে জীবন্ত কোনো ব্যক্তির সঙ্গে তুলনা করা যায় কিনা, এই ছিল আলোচনার বিষয়। পাশাপাশি, অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণ নিয়েও কিছু হালকা মন্তব্য করেছিল সে।

তার খেসারত তাকে দিতে হল নির্মম ভাবে। এই রঙ্গরসিকতার জন্য পুলিশ তাকে নিয়ে গেল জেলে। অপরাধী সাব্যস্ত করল সংবিধানের ৪২০ এবং ৬৬ অনুচ্ছেদে। পাক্কা ৪২ দিন সেখানেই কাটাল সে এক অসহ্য পরিস্থিতির মধ্যে। যেখানে শৌচালয়ে যাওয়ার জন্যও ঘুষ দিতে হত তাকে। সঙ্গে ছিল পুলিশি অত্যাচার। রীতিমতো মারধর খেয়ে সে যখন জেল থেকে বেরোল, তখন শুধু সম্মানই নয়, পাশাপাশি চাকরিটাও হারিয়েছে সে। তার নামের সঙ্গেও জুড়ে গিয়েছে জঙ্গি আখ্যা!

আতঙ্কের কথা, জাকিরের মতো ভারতের বহু মানুষকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় মন্তব্য করা নিয়ে ধরপাকড় করা হচ্ছে। রাতারাতি তাদের তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বাড়ি থেকে। যাতে তা নিয়ে কোনো গণআন্দোলন না শুরু হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সোশ্যাল মিডিয়ায় মন্তব্য করে হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। সেলেব্রিটিরা যদিও রয়ে গিয়েছেন ধরা-ছোঁয়ার বাইরেই!

চলতি নভেম্বরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ব্যঙ্গ করার মাসুল গুনেছেন মেরঠের সাংবাদিক আফগান সোনি। সম্মানহানি এবং কমপিউটার সংক্রান্ত অপরাধের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৬ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এ ভাবেই বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের নজির বেড়েই চলেছে দেশ জুড়ে। শীর্ষ আদালতের রায়ে ৬৬ ধারা তুলে নেওয়া হলেও অত্যাচারের হাত থেকে রেহাই মেলেনি এখনও! ছুতোয়-নাতায় সাধারণ মানুষের হেনস্তার জন্য আইনকে ব্যবহার করেই চলেছে প্রশাসন।

আর এ ব্যাপারে নজরদারি সবচেয়ে বেশি হোয়াটসঅ্যাপেই। বেশির ভাগ সময়েই খুব তুচ্ছ কারণেও কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হচ্ছে ইউজার তথা ব্যবহারকারীদের। সে ক্ষেত্রে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে ১৪৪ নম্বর ধারা। যা বলছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যের অসম্মানের কারণ হতে পারে, এমন কিছু পোস্ট করলেই যেতে হতে পারে জেলে। তার প্রভাবে ব্লক করে দেওয়া হচ্ছে ইউজারদের। পরবর্তী অধ্যায়ে জেলের ঘানি টানার ব্যাপার তো রয়েছেই!

আইনজীবীদের বক্তব্য, সংবিধানকে এ ভাবে ব্যবহার করে শেষ পর্যন্ত বড়ো কোনো শাস্তি দেওয়া যায় না কাউকেই! কিন্তু অকারণ হেনস্তার হাত থেকে তো আর রক্ষা পাওয়া যায় না। তাই গা-বাঁচিয়ে চলারই পরামর্শ দিচ্ছেন তাঁরা।

কথাটা মাথায় রাখবেন কিন্তু! কেউ কিছু জানতে পারবে না ভেবে ফস করে প্রশাসনিক তরফ থেকে আপত্তিকর হতে পারে, এমন কিছু পোস্ট করে বসবেন না। শিবঠাকুরের আপন দেশের কোন আইনে দিন কাটবে গরাদের পিছনে, কে বলতে পারে!

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here