নয়াদিল্লি: সপ্তাহ দুয়েক আগে ইনফোসিস প্রতিষ্ঠাতা নারায়ণমূর্তির বুলি এ বার শোনা গেল রিলায়েন্স-কর্তার মুখে। নিজের দেশের নাগরিকদের মধ্যে চাকরি সীমিত রাখার লক্ষ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের যাবতীয় পদক্ষেপ নাকি আসলে ভারতীয়দের জন্য ভালোই। ন্যাসকম সামিটের মঞ্চে দাঁড়িয়ে মুকেশ আম্বানি জানালেন, “এর ফলে তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলো দেশের সমস্যাগুলো সমাধানের দিকে নজর দেবে। দেশে ইতিমধ্যে মজুত রয়েছে বিশাল বাজার। সেখানে ভারতীয় প্রতিভা যথাযথ ভাবে কাজে লাগানো যাবে।”

“সারা দুনিয়া আমাদের জন্য দেওয়াল তৈরি করতে পারে। তাতে দমে গেলে চলবে না। শিল্পের জগতে বিপ্লব এনেছে কানেক্টিভিটি এবং তথ্যের ব্যবহার। আমি ব্যক্তিগত ভাবে মনে করি, তথ্যই বর্তমান প্রজন্মের কাছে সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ। স্বাভাবিক ভাবেই এই তথ্যকে কাজে লাগানোর জন্য প্রয়োজন বিপুল জনসংখ্যা, ভারতের মতো ১৩০ কোটির দেশে যা নিয়ে চিন্তা করার দরকারই পড়ে না”, বললেন রিলায়েন্স কর্ণধার। বুধবার ন্যাসকম সামিটের মঞ্চে মোবাইল ফোনকে এই শতকের সেরা প্রযুক্তি হিসাবে চিহ্নিত করলেন মুকেশ আম্বানি। বললেন, গত ৩০০ বছরে মানুষ যা যা করে উঠতে পারেনি, আগামী ২০ বছরের মধ্যে প্রযুক্তির সাহায্যে সে সব করা সম্ভব হবে অনায়াসেই। 

দেশের সব তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা যদি দেশের সমস্যার দিকে মন দেন, তা নিঃসন্দেহে ভালো। তবে এই সময়ে দাঁড়িয়ে দেশের আসল চ্যালেঞ্জটাই তো শিক্ষিত এবং কিছু ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষিত তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। বিশ্বায়নের যুগে সারা পৃথিবীর থেকে আলাদা হয়ে নিজের দেশের গণ্ডিতে আটকে থেকে তা আদৌ কতটা সম্ভব, সে বিষয়ে নিশ্চিন্ত করতে পারলেন না মুকেশ আম্বানি। ঠিক যেমনটা পারেননি নারায়ণমূর্তিও। শুধু বলেছেন, “ভারতীয় সফটওয়্যার সংস্থাগুলির প্রকৃত অর্থেই বহুজাতিক হওয়া উচিত। আমেরিকায় আমেরিকানদের, ব্রিটেনে ব্রিটিশদেরই নিয়োগ করা দরকার।” 

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন