বেঙ্গালুরু : এ জগতে সততার কি কোনো দাম নেই? এমনটাই হয়ত ভাবছেন রচাপ্পা। রঙ্গ রচাপ্পা হলেন নির্মাণশ্রমিক। তিনি নিয়ম মেনে আয়কর রিটার্ন জমা করেছিলেন। এবং সবটা সত্যি হিসেবই দেখিয়েছেন। কিন্তু তাও তাঁকে গ্রেফতার করল পুলিশ।

আসলে গল্পটা এখানেই শেষ নয়। আর এত সহজও নয়। এখানে বরং শুরু। ঘটনা হল এই শ্রমিক তাঁর আয়কর রিটার্ন জমা করেছেন। রিটার্নে ৪০ লক্ষ টাকা তাঁর বার্ষিক আয় হিসেবে দেখানো হয়েছে। সেখানেই সন্দেহ দানা বেঁধেছে আয়কর আধিকারিকদের মনে। কারণ এক জন সাধারণ শ্রমিকের এত বড়ো একটা পরিমাণের টাকা আয় হয় কী করে! কিন্তু আয়ের উৎস সম্বন্ধে কিছুই স্পষ্ট করে বলা হয়নি। তাই স্বাভাবিক ভাবেই পুলিশি নজরদারির মধ্যে চলে আসেন রচাপ্পা। পুলিশ জানতে পারে রচ্চাপার একটা কারবারও আছে। মাদকের একটা বেশ বড়োসড়ো চোরাগোপ্তা কারবার। এর পরই গ্রেফতার হন ৩৫ বছরের রচাপ্পা আর সঙ্গে এক জন সহযোগী, নাম শ্রীনিবাস (৪৭ বছর)। গাঁজা সরবরাহকারী শাশু পালিয়ে গিয়েছেন।

দশ ক্লাস পাশ করার পর ২০১১ সালে রচাপ্পা বেঙ্গালুরুতে পা রাখেন। তখন থেকেই শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করেন। তাঁর নিজের বাড়ি চমরাজনগরের পুষ্পপুরা গ্রামে। প্রথম দিকে কারো কারো অনুরোধে সেখান থেকে একটু আধটু গাঁজা এনে দিতেন। পরে সেটাই বড়ো মাপের একটা ব্যবসার আকার নেয়। অনেক কিশোরকিশোরীকে কাজে লাগাতে শুরু করেন তিনি। এখন ৩৫ হাজার টাকা কেজি দরে মাসে মোট ৩৫ কিলোগ্রাম গাঁজা বিক্রি করেন তিনি।

গ্রেফতারের পর রচাপ্পা বলেন, কনকপুর রোডের একটা বিশাল বাড়িতে থাকেন। মাসে ৪০ হাজার টাকার বাড়ি ভাড়া দেন। এ ছাড়াও রয়েছে গাড়ি, নিজের গ্রামে প্রচুর জায়গাজমিও।

 

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন