kochi metro

ওয়েবডেস্ক: মুম্বই কমলা মিল অগ্নিকাণ্ডের জন্য জনসংখ্যার ক্রমবর্ধমান হারকে দায়ী করে সম্প্রতি বিতর্কের ভাগী হয়েছেন বিজেপি সাংসদ হেমা মালিনী। কিন্তু, বিপুল পরিমাণ জনতা এবং সেই অনুপাতে পাল্লা দেওয়া তাঁদের যানের সংখ্যা যে মানুষকে সত্যিই বিপন্ন করে তুলতে পারে, তারও প্রমাণ এল এবার হাতেনাতে। জানা গেল, স্রেফ বেয়াড়া ট্রাফিকে আটকে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত মেট্রো ধরে বিয়ে করতে যেতে বাধ্য হলেন এক যুবক। বরযাত্রী-সহ মেট্রো করে বিয়ের মণ্ডপে পৌঁছনোর অভিনব এই ঘটনাটি ঘটেছে কোচিতে।

কোচি মেট্রো রেল খবরটা বেশ ফলাও করে, ছবি আর ভিডিও দিয়ে জানিয়েছে তাদের ফেসবুক পেজে। তথ্য বলছে, কেরলের পালাক্কড়-বাসী রঞ্জিত কুমার ২৩ ডিসেম্বর সকাল ৬টায় বাড়ি থেকে রওনা দিয়েছিলেন এর্নাকুলমের উদ্দেশ্যে। সেখানেই সেজে উঠেছে তাঁর কল্যাণ-মণ্ডপ বা বিবাহ-বাসর। দক্ষিণ ভারতীয় রীতি অনুসারে মধ্যাহ্নের আগেই সম্পন্ন হয় কল্যাণ বা বিয়ের শুভক্রিয়া। অতএব, সকাল সকাল বাড়ি থেকে রওনা হলে ১৩০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে হেসে-খেলে পৌঁছে যাবেন হিসাব ছিল এরকমই!

kochi metro
ধন্যা আর রঞ্জিত

এবং মোটামুটি ১০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে কোনো অসুবিধাও হয়নি বরযাত্রীদের। সমস্যা হল আলুভার কাছে এসে। সেই পর্যন্ত পৌঁছতেই বেজে গিয়েছিল এগারোটা! এর পর তাঁরা দেখেন, রাস্তা জুড়ে রয়েছে ভয়ানক ট্রাফিক জ্যাম! যা পার হয়ে লগ্ন থাকতে থাকতে বিয়েতে পৌঁছনোর কোনো সম্ভাবনাই নেই! তখনই এক বরযাত্রী পরামর্শ দেন, তাহলে মেট্রো ধরে রওনা হওয়া যাক!

উপায় না দেখে তাতেই রাজি হতে হয় সবাইকে। এর পর তাঁরা সদলবলে পৌঁছন আলুভা মেট্রো স্টেশনে। কিন্তু সেখানেও তাঁদের জন্য অপেক্ষা করেছিল জনসংখ্যার ক্রমবর্ধমান সমস্যা! অর্থাৎ, বিশাল লাইন ছিল টিকিট কাটার যা লগ্ন পেরিয়ে যাওয়ার পক্ষে যথেষ্ট!

এর পর আর বিয়ে বাঁচানোর জন্য কিছু করার ছিল না রঞ্জিতের। বাধ্য হয়েই লাইনে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের হাতে-পায়ে ধরতে শুরু করেন তিনি। অনুরোধ করেন, তাঁরা যেন বরযাত্রীদের টিকিট কাটার ব্যবস্থা আগে করে দেন! তবে, এত অনুরোধের প্রয়োজন ছিল না। যাত্রীরা খুশি মনেই রঞ্জিতদের সহায়তা করেন, তাঁদের লাইন ছেড়ে দেন! এমনকী, মেট্রো কর্তৃপক্ষও একটি বিশেষ কার্ড উপহার হিসাবে তুলে দেন রঞ্জিতের হাতে। কোচি ওয়ান নামের সেই কার্ড যাত্রীদের বিশেষ যাত্রার সুবিধা দেয়, যেমনটা প্রয়োজন হল রঞ্জিতের!

তার পর আর কী! মেট্রো ধরে প্রায় সময় মতোই বরযাত্রীরা পৌঁছলেন বিবাহ-বাসরে। একটুর জন্য রঞ্জিত আর তাঁর বধূ ধন্যার কল্যাণ বেঁচে গেল অকল্যাণের হাত থেকে। সেই কৃতজ্ঞতা জানিয়ে কোচি মেট্রোর ফেসবুক পেজ-এ একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন নবদম্পতি। ক্লিক করে শুনে নিন তাঁদের বক্তব্য!

আর ভেবে দেখুন একবার- জনসংখ্যার ক্রমবর্ধমান হারটা কেমন বিপদে ফেলে আমাদেরই!

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here