Kerala Flood

ওয়েবডেস্ক: এখনও পর্যন্ত যা খবর তাতে কেরলের ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় ৬০ লক্ষ মানুষ। প্রাণ গিয়েছে প্রায় চারশোর। গবাদি পশু থেকে শুরু করে ঘরবাড়ি হারিয়ে সর্বস্বান্ত কেরলের বিস্তীর্ণ এলাকার কয়েক লক্ষ মানুষ। এত কিছুর পরেও চলছে ধর্মীয় দোষারোপের কাদা ছোড়াছুড়ি।

এর আগে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সদ্যনিযুক্ত ডিরেক্টর দাবি করেছিলেন, “শবরীমালা মন্দিরে মহিলাদের প্রবেশ নিয়ে মামলা চলার কারণেই কেরলের এই নজিরবিহীন বন্যা। আয়াপ্পা কেরলবাসীকে শিক্ষা দিলেন”।

অন্য দিকে আরও এক স্বঘোষিত ধর্মগুরু সম্প্রতি দাবি করেছেন, “গোরুর মাংস খাওয়ার জন্যই এমন বিধ্বংসী বন্যা। চক্রপানি মহারাজ নামের এক ধর্মগুরু সংবাদ মাধ্যমের কাছে বলেছেন, কেরলের মানুষের খাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ রুটি রয়েছে, তা সত্ত্বেও তারা গোরুর মাংস খাচ্ছে। ফলে আমি শুধু মাত্র হিন্দু বন্যাদুর্গতদেরই সাহায্য করতে বলছি, যারা গোরুর মাংস খায় তাদের নয়”।

সোশ্যাল মিডিয়াতেও ছড়িয়ে রয়েছে তেমনই বিতর্কিত মন্তব্য।

বুধবার সেই উভয় মতের সংমিশ্রণে তীব্র শ্লেষবাক্য ছুড়ে দিয়েছেন সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিন। তিনি টুইটারে লিখেছেন, “ক’দিন আগে এক জন বন্যা বিশেষজ্ঞ বলেছিলেন, মহিলারা শবরীমালা মন্দিরে প্রবেশ করতে চাওয়ায় ঈশ্বর ক্ষুব্ধ হয়েছেন, সে কারণেই এই বন্যা। আর আজ অন্য এক বন্যা বিশেষজ্ঞ বললেন, মানুষের গোরুর মাংস খাওয়ার ফল হিসাবেই কেরলের বন্যা”।

উল্লেখ্য, বৃষ্টির বহর কমে যাওয়ায় কেরলে বন্যার জল দ্রুত নামছে। ভয়ঙ্কর স্মৃতি আগলে রেখেই স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছেন কেরলের মানুষ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন