প্রধানমন্ত্রী কি নির্বাচনী আচরণবিধি ভেঙেছেন, খতিয়ে দেখছে নির্বাচন কমিশন

0
PM and election commission
প্রধানমন্ত্রী কি নির্বাচনী আচরণবিধি ভাঙলেন?

ওয়েবডেস্ক: লোকসভা নির্বাচনের আগে জাতির উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ দেওয়া কতটা জরুরি ছিল তা খতিয়ে দেখছে নির্বাচন কমিশন। এ ব্যাপারে  কমিশন এক জন ডেপুটি নির্বাচন কমিশনের অধীনে একটি কমিটি গঠন করেছে।

লোকসভা নির্বাচন ঘোষণার দিন থেকেই চালু হয়ে গিয়েছে নির্বাচনী আচরণবিধি। ভারত যে মহাকাশ-অস্ত্রে শক্তিধর হয়েছে তা দেশবাসীকে জানানোর জন্য বুধবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন। ওই ভাষণে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘিত হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখবে ওই কমিটি।

নির্বাচন কমিশনের এক মুখপাত্র জানান, দেশে জারি থাকা নির্বাচনী আচরণবিধির প্রেক্ষিতে গোটা বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখার জন্য কমিশন অফিসারদের নিয়ে গড়া ওই কমিটিকে নির্দেশ দিয়েছে।

কমিশনের এক সূত্র প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের পরই সংবাদসংস্থা পিটিআইকে বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা এবং বিপর্যয় মোকাবিলার বিষয় নির্বাচনী আচরণবিধির আওতায় পড়ে না।

আরও পড়ুন মিসাইল হানা নিয়ে নির্বাচন কমিশনে যাচ্ছে তৃণমূল

ও দিকে বিরোধী দলগুলির বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে সরকারের একটি ‘সাফল্যের’ কথা ঘোষণা করা হয়েছে এবং বিষয়টি কোনো মতেই দেশের নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত নয়।

কমিশনের আধিকারিকরা জানান, বিরোধী দলগুলি অভিযোগ করে, জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে নির্বাচনী আচরণবিধি ভেঙেছেন প্রধানমন্ত্রী। ওই ভাষণে তিনি সরকারের একটি ‘সাফল্যের’ কথা ঘোষণা করেন এবং বিষয়টি কোনো মতেই দেশের নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত নয়। বিরোধীদের এই অভিযোগ পাওয়ার পরই নির্বাচন কমিশন গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নেয়।

কমিটিকে কত দিনের মধ্যে তাদের রিপোর্ট পেশ করতে বলা হয়েছে, সে সম্পর্কে সরকারি ভাবে কিছু জানা না গেলেও সূত্রের খবর, কাজটি যত দ্রুত সম্ভব শেষ করা হবে। কমিটি প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের ভিডিও এবং তার প্রতিলিপি পরীক্ষা করে দেখবে।

যে সময়ে উপগ্রহ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা হয়েছে এবং যে সময়ে প্রধানমন্ত্রী তা ঘোষণা করেছেন, সেই সময় নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। নির্বাচনের এক পক্ষকাল আগে বুধবার সকাল ১১.১৬ মিনিটে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করা হল এবং তার ঠিক এক ঘণ্টা পরেই প্রধানমন্ত্রী সেই ‘সাফল্যের’ কথা ঘোষণা করলেন। বিরোধীদের অভিযোগ, রাজনৈতিক ফায়দা তুলতেই এই কাণ্ড করা হয়েছে। আর প্রধানমন্ত্রীর এই হঠাৎ ঘোষণায় নির্বাচন কমিশনও যে বিস্মিত হয়েছে, তার যথেষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে।

নির্বাচনী আচরণবিধি (এমসিসি) ডিভিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার সন্দীপ সাকসেনা কমিটির প্রধান হয়েছেন। বাকি সদস্যরা হলেন, ধীরেন্দ্র ওঝা (ডিজি, মিডিয়া), কে ডব্লিউ উইলফ্রেড (সিনিয়র প্রিন্সিপ্যাল সেক্রেটারি, ল’) এবং এন এন বুটোলিয়া (প্রিন্সিপ্যাল সেক্রেটারি, এমসিসি)

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.